ঝিকরগাছায় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ধর্ষণ মামলার আসামি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ৮৩৪ বার পড়া হয়েছে
যশোরের ঝিকরগাছার পল্লীতে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার আসামি টিটু শাকিল নামে এক যুবক। তিনি উপজেলার নির্বাসখোলা ইউনিয়নের বাওসা গ্রামের সুলতান হোসেনের ছেলে।
কথিত ওই সাংবাদিক ছোটখাটো ঘটনাকে পুঁজি করে মানুষের কাছে টাকা দাবি আদায় করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। তার চাহিদামত টাকা দিতে অস্বীকার করলেই ভুইফোঁড় কয়েকটি অনলাইন ও পত্রিকায় সিন্ডিকেট রিপোর্ট করে হেনস্থা করে তুলেছেন কয়েকটি পরিবারকে। একাধিক এমন ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী।
সম্প্রতি টিটু শাকিল নামে কথিত ওই সাংবাদিক পুকুর খননের চলমান ট্রাকের ছবি ও ভিডিও করেন। পরবর্তীতে টিটু শাকিল পুকুর খননের সাথে জড়িতদের মধ্যে আবু সাঈদ নামে একজনের মোবাইল হোয়াটসআপে লেখেন, ‘জামাই কি করবো কিছু তো বললেন না।’ জবাবে সেই মাটি-বালি ব্যাবসায়ী লেখেন, ‘কাল রাতে।’ টিটু শাকিল লেখেন- ‘টিমের লোকজন তো নিউজ লিখে বসে আছে। আমাকে (টিটু শাকিল) ফোন দিচ্ছে।’ ব্যবসায়ী লেখেন -‘কে সে।’ টিটু শাকিল লেখেন, আছে চার জন, চিনবেন কি। জবাবে ব্যবসায়ী লেখেন, বলেন। এই ঘটনায় ওই ব্যবসায়ী টাকা না দেওয়ায় তার পার্টনারের ছবি দিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় টিটু শাকিল গং একেরপর এক নিউজ লিখে যাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালে কথিত এই সাংবাদিক টিটু শাকিলের বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, সংশোধনী ২০০৩ নারীকে ধর্ষণ, ধর্ষণ কাজে সহায়তা প্রদান ও নারীর অশ্লীল ছবি মোবাইলের মাধ্যমে ভিডিও চিত্র ধারণ ও ওয়েব সাইটে দিয়ে প্রকাশ করে নারীর মর্যাদা ক্ষুন্ন প্রাণহানী, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অপরাধে দীর্ঘদিন জেল খাটেন।
একেরপর এক টিটু শাকিল দ্বারা অত্যাচার নির্যাতন ও ভয়ভীতির শিকার হয়ে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঝিকরগাছার বাওসা গ্রামে ধর্ষণের পর ভিডিও করে প্রচার করার অপরাধে সেসময় ৪ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করা হয়েছিল। যার নং-২৩, তাং-১৫/০৪/২০১৪। মামলার ৪জন আসামির মধ্যে এই টিটু শাকিল ছিলেন অন্যতম। জেলও খেটেছেন দীর্ঘদিন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, একই গ্রামের স্কুলপড়ুয়া এক মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে পালাক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন টিটু শাকিল। ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও করে ওই মেয়েকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলেন, কাউকে ঘটনা জানালে ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়া হবে। লোকলজ্জার ভয়ে মেয়েটি ও তার পরিবারের লোকজন কাউকে না বলে চেপে যায়। কিন্তু ধর্ষকরা ভিডিও ক্লিপটি বিভিন্ন মোবাইলে ছড়িয়ে দেন।
পরে ঘটনা জানাজানি হলে ধর্ষণের শিকার মেয়েটির পিতা বাদি হয়ে টিটু শাকিলসহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে ঝিকরগাছা থানায় মামলা করেন।
সম্প্রতি সেই ধর্ষণ মামলার আসামি টিটু শাকিল নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে বাওসা গ্রামের আব্দুল গফুরের নির্মাণাধীন বাড়ি খাস জমিতে হচ্ছে এই ভয় দেখিয়ে সাড়ে ৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। কয়েকদিন আগে ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠানের কথা বলে স্টার ব্রিক্সের মালিক মোজাম ও সালামের কাছে চাঁদা দাবি করেন। এছাড়া উপজেলার পানিসারা, গদখালী, নাভারণ, নির্বাসখোলা, হাজিরবাগ, শংকরপুর ও বাঁকড়া ইউনিয়নে নিয়মিত দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
ঝিকরগাছা থানাসহ নাভারণ হাইওয়ে থানা, শিওরদাহ পুলিশ ফাঁড়ি ও বাঁকড়া তদন্ত কেন্দ্রসহ বিভিন্ন অফিস আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখান।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে টিটু শাকিল বলেন, ২০১৪সালে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছিল। তবে সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নেবার বিষয়টি অস্বীকার করেন।





















