রামেবি ভিসিকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ, পিএসকে মারধর
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হককে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার ও উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইনকে মারধর করে তাঁর কাছ থেকেও চাকরির ইস্তফাপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘আপামর ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে একদল ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে এ ঘটনা ঘটায় বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক জানান, ওই সময় তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের একটি অনলাইন বৈঠকে ছিলেন। হঠাৎ ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল তাঁর দপ্তরে প্রবেশ করে তাঁকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দেয়।
তাদের অভিযোগ ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ স্থানীয়দের না দিয়ে ঢাকার ঠিকাদারদের দেওয়া হচ্ছে। একপর্যায়ে তারা আগে থেকেই টাইপ করে আনা একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে তাঁকে বাধ্য করেন।
উপাচার্যের ভাষ্য, পরিস্থিতি এমন ছিল যে স্বাক্ষর না করলে তাঁর সঙ্গেও খারাপ আচরণ করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন।
পরে তাঁকে কার্যালয় থেকে বের করে দিয়ে কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী ও সেকশন অফিসার নাজমুল হোসাইন জানান, সকাল ১০টা থেকে উপাচার্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ের অনলাইন বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। এ সময় মিছিল নিয়ে একদল লোক জোর করে কক্ষে প্রবেশ করে উপাচার্যকে গালিগালাজ করতে থাকে এবং পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেয়।
এরপর তাঁকেও ইস্তফাপত্রে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাজমুল।
ঘটনার পর উপাচার্যের কার্যালয় থেকে কম্পিউটারের সিপিইউ ও সিসিটিভির ফুটেজ সংরক্ষণের যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অফিসের বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
উপাচার্য অভিযোগ করেন, তাঁর কম্পিউটারে থাকা শিডিউল ও বিভিন্ন তথ্য মুছে দেওয়া হয়েছে। ওয়াই-ফাই, ইন্টারনেট ও সিসিটিভির ফুটেজও নষ্ট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ফলে তাঁর দপ্তরের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।
কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে—এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাননি ডা. জাওয়াদুল হক। তিনি বলেন, হামলাকারীদের তিনি সেভাবে চেনেন না এবং এর আগে তারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক ইন্ধন ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি।
তবে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের একটি অংশ উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে। মঙ্গলবারের বিক্ষোভেও বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাকে দেখা গেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের রাজপাড়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, একদল লোক রামেবির উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে—এমন খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে উপাচার্যের কক্ষ তালাবদ্ধ দেখতে পান। তবে সংঘবদ্ধ কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি।
ওসি জানান, এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি জানার পর সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন উপাচার্য। এদিকে রাজশাহী সদর আসনের এমপি ও ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, ‘এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’





















