শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৪০:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
শিশুদের ভেতরে থাকা প্রতিভা ও গুণাবলি বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার মতে, একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ যেমন সন্তানের সঠিক বেড়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে, তেমনি একটি দেশের ভবিষ্যৎও নির্ভর করে শিশুদের যথাযথ বিকাশের ওপর।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আয়োজন মূলত তাদের নিয়ে। তাই বড়দের বক্তব্যের চেয়ে শিশুদের কথা শোনাই হওয়া উচিত অনুষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য।
নিজের শৈশবের স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। জানান, শিশু একাডেমির কার্যক্রম শুরুর সময় তিনিও সেখানে শিশু অতিথি হিসেবে এসেছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত বোর্ডে নিজের একটি গল্প এবং ছোট ভাইয়ের লেখা দেখতে পেয়ে পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ে বলেও জানান তিনি।
শিশুদের শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, শিল্প, সংস্কৃতি ও সংগীতচর্চার সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রত্যেক শিশুর মধ্যেই কোনো না কোনো প্রতিভা রয়েছে। কেউ ছবি আঁকে, কেউ কবিতা আবৃত্তি করে, কেউ গান বা নাচ পছন্দ করে, আবার কেউ বাদ্যযন্ত্র বাজাতে আগ্রহী। এসব গুণ বিকশিত করার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ।
গিটার, কিবোর্ডসহ বাদ্যযন্ত্র শেখার আগ্রহের কথা উল্লেখ করে তিনি শিশুদের নিজেদের পছন্দের ক্ষেত্রে দক্ষ হয়ে ওঠার পরামর্শ দেন। একইভাবে গান, নাচ, কেরাত ও কোরআন তেলাওয়াতের মতো সৃজনশীল চর্চায়ও মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিশুদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান।
তিনি জানান, প্রথমবারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে সারাদেশে ২২ লাখ শিশু—১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে—ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা গেলে ভবিষ্যতে এখান থেকেই আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
‘নতুন কুঁড়ি’ কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্রীড়া কার্যক্রমও নতুন করে চালুর কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। সিলেট থেকে শুরু করে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে ক্রীড়া আয়োজন সম্পন্ন করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ শুধু শহরকেন্দ্রিক না রেখে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ পরিবারের পক্ষে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সন্তানদের গান, খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। তাই স্কুল পর্যায় থেকেই এসব সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে গ্রামের শিশুরাও শহরের শিশুদের মতো সুযোগ পায়।
তার ভাষায়, প্রত্যেক শিশুর মধ্যেই কোনো না কোনো গুণ রয়েছে। প্রয়োজন শুধু সেই গুণ বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এ-সংক্রান্ত কাজগুলো মোটামুটি গুছিয়ে আনা হয়েছে। ২০২৭ অথবা ২০২৮ সাল থেকে পুরো প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী গান, বাদ্যযন্ত্র ও খেলাধুলার বিভিন্ন ক্ষেত্র বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিশুদের প্রস্তুত করতে স্কুল পর্যায় থেকেই অতিরিক্ত বিদেশি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান ও জাপানিজসহ কয়েকটি ভাষার মধ্য থেকে শিশুরা নিজেদের পছন্দের একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তার মতে, তৃতীয় একটি ভাষায় দক্ষতা ভবিষ্যতে বিদেশে পড়াশোনা ও কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় শিশুদের এগিয়ে থাকতে সহায়তা করবে।
শিশুদের শিক্ষা, খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও ভাষাজ্ঞানের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শিশুদের মানবিক হতে হবে। দেশের প্রকৃতি, গাছপালা, পশুপাখির প্রতিও তাদের দায়িত্বশীল হতে হবে।
বাড়ি, স্কুল ও আশপাশের এলাকার গাছের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি পশুপাখির প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি শিশুদের দায়িত্বশীল করে গড়ে তুলতে পারলে মানবিক ও সংবেদনশীল বাংলাদেশ নির্মাণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।




















