ঢাকা ০৭:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অনুমোদিত দুটি, পণ্য মিলল চার গুদামে—টস বন্ডে কী ঘটেছিল? এবার বিএনপি থেকেও সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ মিষ্টিকে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, বড় পরিবর্তনের পথে চট্টগ্রাম বন্দর একাদশ শ্রেণির নতুন সিলেবাস প্রকাশ, থাকছে বাংলা-ইংরেজি-আইসিটি জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার, কী ঘটেছিল বিমানবন্দরে বসুন্ধরাবাসীর জন্য অ্যাম্বুল্যান্স ও ২৪ ঘণ্টা ওষুধ সেবা চালু ২০২৭ বিশ্বকাপে কঠিন গ্রুপে বাংলাদেশ, সঙ্গী দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড জাপানে স্থায়ী বসবাসের আবেদন ফি বাড়ল ২০ গুণ, কঠোর হচ্ছে শর্ত বদলাতে পারে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ নীতিমালা, ফিরতে পারে রাত্রিযাপনের সুযোগ ৫৬ জেলার ৭৭ উপজেলায় একযোগে শুরু কৃষক কার্ড কর্মসূচি

জাপানে স্থায়ী বসবাসের আবেদন ফি বাড়ল ২০ গুণ, কঠোর হচ্ছে শর্ত

বিবিসি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৯:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিদেশিদের জন্য স্থায়ী বসবাসের (পারমানেন্ট রেসিডেন্সি) আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন এনেছে জাপান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এতে স্থায়ী বসবাসের আবেদন ফি ২০ গুণ বাড়িয়ে দুই লাখ ইয়েন করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বেশি।

এর আগে জাপানে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের জন্য ফি ছিল মাত্র ১০ হাজার ইয়েন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৭৭০ টাকা।

ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি আবেদনকারীদের আয়, পেনশন এবং জাপানি ভাষাজ্ঞান-সংক্রান্ত শর্তও কঠোর করা হয়েছে। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকরের আগে আবেদন জমা দিতে দেশটির অভিবাসন দপ্তরগুলোতে ভিড় বেড়ে যায়। টোকিওর প্রধান অভিবাসন ব্যুরোতে অনেক আবেদনকারীকে সাত ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিদেশি বাসিন্দা বাড়ছে জাপানে

জাপানের অভিবাসন নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ৪১ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

তবে বিদেশি জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে অভিবাসন ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়েও দেশটিতে আলোচনা বাড়ছে।

অন্যদিকে, জাপানের বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং শ্রমিক সংকটের কারণে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। গত জুলাইয়ে দেশটি সব ধরনের ভিসা ফি পাঁচ গুণ বাড়িয়েছিল। পাঁচ দশকের মধ্যে সেটিই ছিল দেশটির বড় ধরনের প্রথম ভিসা ফি বৃদ্ধি।

বাড়ছে আর্থিক সক্ষমতার শর্ত

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের জাপানের গড় আয়ের সমপরিমাণ বা তার বেশি স্থিতিশীল আয় থাকতে হবে। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির গড় পারিবারিক আয় ছিল ৫৭ লাখ ৫০ হাজার ইয়েন।

টোকিওতে এক দশক ধরে বসবাসকারী ৩৭ বছর বয়সী মাইকাইয়া স্টিভেনস সময়মতো কাগজপত্র প্রস্তুত করতে না পারায় বাড়তি ফি কার্যকর হওয়ার আগে আবেদন করতে পারেননি। তিনি নতুন শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, বিদেশিদের কাজ ও কর দেওয়ার পাশাপাশি গড় জাপানি নাগরিকের চেয়ে বেশি আয় করার বিষয়টি কঠিন হয়ে উঠছে।

ভাষা ও পেনশন শর্তও কঠোর হচ্ছে

আগামী বছরের এপ্রিল থেকে স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের জন্য আরও কিছু নতুন শর্ত কার্যকর হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মৌলিক জাপানি ভাষাজ্ঞান এবং নির্দিষ্ট পেনশন সুবিধার যোগ্যতা।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের এমন পেনশন সুবিধা প্রত্যাশিত হতে হবে, যা ৩০ বছর কর্মী পেনশন ব্যবস্থায় যুক্ত থাকলে পাওয়া যেত। তবে পেনশন সুবিধা কম হলে আবেদনকারীর আর্থিক সম্পদ বিবেচনা করার সুযোগ থাকবে।

নতুন ভাষাগত শর্তের কারণে জাপানি ভাষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি এবং ভাষাদক্ষতা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে বলে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

নতুন নিয়মের মাধ্যমে জাপান একদিকে বিদেশি বাসিন্দাদের জন্য স্থায়ী বসবাসের প্রক্রিয়াকে আরও নিয়ন্ত্রিত করছে, অন্যদিকে শ্রমবাজারের প্রয়োজন ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জাপানে স্থায়ী বসবাসের আবেদন ফি বাড়ল ২০ গুণ, কঠোর হচ্ছে শর্ত

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৯:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

বিদেশিদের জন্য স্থায়ী বসবাসের (পারমানেন্ট রেসিডেন্সি) আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন এনেছে জাপান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এতে স্থায়ী বসবাসের আবেদন ফি ২০ গুণ বাড়িয়ে দুই লাখ ইয়েন করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বেশি।

এর আগে জাপানে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের জন্য ফি ছিল মাত্র ১০ হাজার ইয়েন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৭৭০ টাকা।

ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি আবেদনকারীদের আয়, পেনশন এবং জাপানি ভাষাজ্ঞান-সংক্রান্ত শর্তও কঠোর করা হয়েছে। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকরের আগে আবেদন জমা দিতে দেশটির অভিবাসন দপ্তরগুলোতে ভিড় বেড়ে যায়। টোকিওর প্রধান অভিবাসন ব্যুরোতে অনেক আবেদনকারীকে সাত ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিদেশি বাসিন্দা বাড়ছে জাপানে

জাপানের অভিবাসন নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ৪১ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

তবে বিদেশি জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে অভিবাসন ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়েও দেশটিতে আলোচনা বাড়ছে।

অন্যদিকে, জাপানের বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং শ্রমিক সংকটের কারণে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। গত জুলাইয়ে দেশটি সব ধরনের ভিসা ফি পাঁচ গুণ বাড়িয়েছিল। পাঁচ দশকের মধ্যে সেটিই ছিল দেশটির বড় ধরনের প্রথম ভিসা ফি বৃদ্ধি।

বাড়ছে আর্থিক সক্ষমতার শর্ত

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের জাপানের গড় আয়ের সমপরিমাণ বা তার বেশি স্থিতিশীল আয় থাকতে হবে। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির গড় পারিবারিক আয় ছিল ৫৭ লাখ ৫০ হাজার ইয়েন।

টোকিওতে এক দশক ধরে বসবাসকারী ৩৭ বছর বয়সী মাইকাইয়া স্টিভেনস সময়মতো কাগজপত্র প্রস্তুত করতে না পারায় বাড়তি ফি কার্যকর হওয়ার আগে আবেদন করতে পারেননি। তিনি নতুন শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, বিদেশিদের কাজ ও কর দেওয়ার পাশাপাশি গড় জাপানি নাগরিকের চেয়ে বেশি আয় করার বিষয়টি কঠিন হয়ে উঠছে।

ভাষা ও পেনশন শর্তও কঠোর হচ্ছে

আগামী বছরের এপ্রিল থেকে স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের জন্য আরও কিছু নতুন শর্ত কার্যকর হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মৌলিক জাপানি ভাষাজ্ঞান এবং নির্দিষ্ট পেনশন সুবিধার যোগ্যতা।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের এমন পেনশন সুবিধা প্রত্যাশিত হতে হবে, যা ৩০ বছর কর্মী পেনশন ব্যবস্থায় যুক্ত থাকলে পাওয়া যেত। তবে পেনশন সুবিধা কম হলে আবেদনকারীর আর্থিক সম্পদ বিবেচনা করার সুযোগ থাকবে।

নতুন ভাষাগত শর্তের কারণে জাপানি ভাষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি এবং ভাষাদক্ষতা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে বলে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

নতুন নিয়মের মাধ্যমে জাপান একদিকে বিদেশি বাসিন্দাদের জন্য স্থায়ী বসবাসের প্রক্রিয়াকে আরও নিয়ন্ত্রিত করছে, অন্যদিকে শ্রমবাজারের প্রয়োজন ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে।