পদত্যাগপত্রে কারণ নয়, ‘সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায়’ সিদ্ধান্তের কথা মিষ্টির
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২০:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় আলোচনায় আসার কয়েক দিনের মধ্যেই সংসদ সদস্য পদ ছাড়লেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। তবে স্পিকারকে দেওয়া মাত্র কয়েক লাইনের পদত্যাগপত্রে পদত্যাগের কোনো কারণ উল্লেখ করেননি তিনি। শুধু জানিয়েছেন, ‘সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায়’ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা পৌনে দুইটার দিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফেরদৌসী আহমেদ। এরপর তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
স্পিকারকে দেওয়া চিঠিতে ফেরদৌসী আহমেদ লেখেন, তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এখন তিনি ‘সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায়’ সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
এর বাইরে পদত্যাগের পেছনে কোনো কারণ, রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনা কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে চিঠিতে কোনো বক্তব্য দেননি মিষ্টি।
বিএনপির মনোনয়নে এবার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ। ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে দলটির ভাগে পড়ে ৩৬টি। গত ৩০ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করা হয়। শপথ হয় ৩ মে। ফলে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় পদত্যাগ করলেন তিনি।
তবে তাঁর পদত্যাগের আগে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘিরে তৈরি হয় ব্যাপক আলোচনা।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। লুটপাটের পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবনও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নাম সামনে আসে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথাও উঠে আসে প্রতিবেদনে।
এই সমিতির সঙ্গে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পুরোনো সম্পর্কও আলোচনায় আসে। ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে তিনি সমিতিটির সভাপতি ছিলেন। ওই সময় সমিতির নামে রাড্ডা সেন্টারের জায়গা বরাদ্দ চেয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনে সভাপতি হিসেবে ফেরদৌসী আহমেদের স্বাক্ষর ছিল।
রাড্ডা সেন্টার ধ্বংসের ঘটনায় তাঁর নাম আলোচনায় আসার পরই সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। তবে তাঁর পদত্যাগপত্রে এই ঘটনার কোনো উল্লেখ নেই। সেখানে কেবল নিজের সিদ্ধান্তকে ‘সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায়’ নেওয়া বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।


















