ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, বড় পরিবর্তনের পথে চট্টগ্রাম বন্দর একাদশ শ্রেণির নতুন সিলেবাস প্রকাশ, থাকছে বাংলা-ইংরেজি-আইসিটি জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার, কী ঘটেছিল বিমানবন্দরে বসুন্ধরাবাসীর জন্য অ্যাম্বুল্যান্স ও ২৪ ঘণ্টা ওষুধ সেবা চালু ২০২৭ বিশ্বকাপে কঠিন গ্রুপে বাংলাদেশ, সঙ্গী দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড জাপানে স্থায়ী বসবাসের আবেদন ফি বাড়ল ২০ গুণ, কঠোর হচ্ছে শর্ত বদলাতে পারে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ নীতিমালা, ফিরতে পারে রাত্রিযাপনের সুযোগ ৫৬ জেলার ৭৭ উপজেলায় একযোগে শুরু কৃষক কার্ড কর্মসূচি অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট শিবপুরে ৩.২ মাত্রার ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল বিভিন্ন এলাকা

অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৪৫:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত আইজিপি) নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট। নতুন এই ইউনিটে প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন ৪ হাজার ৫৯২ জন পুলিশ সদস্য।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরে ইউনিটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইকবাল হোসেন নতুন ইউনিটটির দায়িত্বে থাকবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বিভাগীয় পর্যায়ে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার (এসপি) সাইবার ইউনিটের কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেবেন। থানাগুলোতেও এ ইউনিটের জন্য এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল পর্যায়ের সদস্য রাখা হবে। পুলিশের বিদ্যমান সব সাইবার ক্রাইম বিভাগকে নতুন ইউনিটের আওতায় আনা হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামো

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুরুতে পুলিশের বিদ্যমান জনবল থেকেই যতটা সম্ভব নতুন ইউনিটের জনবল পূরণ করা হবে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জনবল গড়ে তোলা হবে। ইউনিটে আধুনিক সাইবার প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যুক্ত করা হবে।

তাঁর ভাষায়, এটি হবে ‘প্রযুক্তি ও মেধানির্ভর একটি সংগঠন’।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধের ধরনও বদলেছে। ফলে প্রচলিত অপরাধ তদন্তের পাশাপাশি ডিজিটাল ও ফরেনসিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।

মাদক, সন্ত্রাস, আর্থিক অপরাধ থেকে শুরু করে সাইবার অপরাধ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন ডিজিটাল প্রমাণ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণের প্রয়োজন হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

থাকছেন বিশেষজ্ঞরা

নতুন ইউনিটে শুধু প্রচলিত পুলিশি জনবল নয়, বিভিন্ন প্রযুক্তি ও বিশ্লেষণভিত্তিক বিশেষজ্ঞ রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফিন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, ইমার্জেন্সি রেসপন্স কনসালট্যান্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপার্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রয়োজনে এসব বিশেষজ্ঞকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে। তাঁদের জন্য পৃথক বেতনকাঠামো ও প্রণোদনার ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানান মন্ত্রী।

পুলিশে ইতিমধ্যে সাইবার বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া কর্মকর্তাদেরও প্রাথমিকভাবে ইউনিটে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচিত কর্মকর্তাদের দেশে ও বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিনিয়র কর্মকর্তাদের একটি দলকে বিদেশে প্রশিক্ষণ দিয়ে এনে ইউনিটটির কার্যক্রমে নেতৃত্ব ও তদারকির দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

‘সমন্বয়ের সমস্যা ছিল’

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় এত দিন পুলিশ বিভিন্ন পর্যায়ে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করত বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অসংগঠিতভাবে কাজ করার কারণে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা ছিল। নতুন ইউনিট গঠনের মধ্য দিয়ে সেই ঘাটতি কাটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায়, ‘কোনো না কোনো সময় তো শুরু করতেই হবে। সেই যাত্রা আজ শুরু হলো।’ তাঁর আশা, সমন্বিত এই কাঠামোর মাধ্যমে সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

আধুনিক হচ্ছে সাইবার আইনও

সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইন আধুনিক করার প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ বিষয়ে অংশীজন, সংবাদকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সামনে আরও মতামত নেওয়া হবে। বিশেষ করে গণমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যম যেন আইনের অপব্যবহারের শিকার না হয়—এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।

নতুন বা সংশোধিত আইনে সাইবার অপরাধের সংজ্ঞাগুলো আরও সুনির্দিষ্ট করার বিষয়ও থাকবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৪৫:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত আইজিপি) নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট। নতুন এই ইউনিটে প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন ৪ হাজার ৫৯২ জন পুলিশ সদস্য।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরে ইউনিটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইকবাল হোসেন নতুন ইউনিটটির দায়িত্বে থাকবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বিভাগীয় পর্যায়ে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার (এসপি) সাইবার ইউনিটের কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেবেন। থানাগুলোতেও এ ইউনিটের জন্য এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল পর্যায়ের সদস্য রাখা হবে। পুলিশের বিদ্যমান সব সাইবার ক্রাইম বিভাগকে নতুন ইউনিটের আওতায় আনা হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামো

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুরুতে পুলিশের বিদ্যমান জনবল থেকেই যতটা সম্ভব নতুন ইউনিটের জনবল পূরণ করা হবে। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জনবল গড়ে তোলা হবে। ইউনিটে আধুনিক সাইবার প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যুক্ত করা হবে।

তাঁর ভাষায়, এটি হবে ‘প্রযুক্তি ও মেধানির্ভর একটি সংগঠন’।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধের ধরনও বদলেছে। ফলে প্রচলিত অপরাধ তদন্তের পাশাপাশি ডিজিটাল ও ফরেনসিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।

মাদক, সন্ত্রাস, আর্থিক অপরাধ থেকে শুরু করে সাইবার অপরাধ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন ডিজিটাল প্রমাণ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণের প্রয়োজন হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

থাকছেন বিশেষজ্ঞরা

নতুন ইউনিটে শুধু প্রচলিত পুলিশি জনবল নয়, বিভিন্ন প্রযুক্তি ও বিশ্লেষণভিত্তিক বিশেষজ্ঞ রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফিন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, ইমার্জেন্সি রেসপন্স কনসালট্যান্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপার্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

প্রয়োজনে এসব বিশেষজ্ঞকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে। তাঁদের জন্য পৃথক বেতনকাঠামো ও প্রণোদনার ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানান মন্ত্রী।

পুলিশে ইতিমধ্যে সাইবার বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া কর্মকর্তাদেরও প্রাথমিকভাবে ইউনিটে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচিত কর্মকর্তাদের দেশে ও বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিনিয়র কর্মকর্তাদের একটি দলকে বিদেশে প্রশিক্ষণ দিয়ে এনে ইউনিটটির কার্যক্রমে নেতৃত্ব ও তদারকির দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

‘সমন্বয়ের সমস্যা ছিল’

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় এত দিন পুলিশ বিভিন্ন পর্যায়ে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করত বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অসংগঠিতভাবে কাজ করার কারণে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা ছিল। নতুন ইউনিট গঠনের মধ্য দিয়ে সেই ঘাটতি কাটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায়, ‘কোনো না কোনো সময় তো শুরু করতেই হবে। সেই যাত্রা আজ শুরু হলো।’ তাঁর আশা, সমন্বিত এই কাঠামোর মাধ্যমে সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অপরাধ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

আধুনিক হচ্ছে সাইবার আইনও

সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইন আধুনিক করার প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ বিষয়ে অংশীজন, সংবাদকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সামনে আরও মতামত নেওয়া হবে। বিশেষ করে গণমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যম যেন আইনের অপব্যবহারের শিকার না হয়—এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।

নতুন বা সংশোধিত আইনে সাইবার অপরাধের সংজ্ঞাগুলো আরও সুনির্দিষ্ট করার বিষয়ও থাকবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।