৪৫ দিনেও খোঁজ নেই রাহাতের, পদ্মার পাড়ে মিলল বাইসাইকেল-জুতা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫৬:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
সন্ধ্যার মধ্যেই বাড়ি ফেরার কথা ছিল ১৫ বছর বয়সী রাহাতের। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি সে। নিখোঁজের পরদিন বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে পদ্মা নদীর পাড়ে পাওয়া যায় তার ব্যবহৃত বাইসাইকেল ও একজোড়া জুতা। এরপর কেটে গেছে ৪৫ দিন, কিন্তু এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি এসএসসি পরীক্ষার্থী রাহাতের।
রাহাতকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে তাকে জীবিত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তার বাবা কৃষক মো. মুন্নুচ আলী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পাবনা সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি।
রাহাত পাবনার সুজানগর উপজেলার ভায়না গ্রামের বাসিন্দা। সে সাতবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় গত ৯ আগস্ট বিকেলে হঠাৎ নিখোঁজ হয় সে।
সংবাদ সম্মেলনে মুন্নুচ আলী জানান, ওই দিন বিকেলে বাইসাইকেল নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হয় রাহাত। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বাড়িতে ফেরার কথা থাকলেও সে আর ফেরেনি। প্রথমে বন্ধু, স্বজন ও পরিচিতদের কাছে খোঁজ নেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরদিন সকালে মানিকহাট ইউনিয়নের গুপিনপুর গোরস্তানসংলগ্ন মাজপাড়া ঈদগাহ মাঠের পাশের পদ্মা নদীর পাড় থেকে রাহাতের বাইসাইকেল ও জুতা উদ্ধার করা হয়। বাড়ি থেকে দূরের ওই স্থানে তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র পাওয়ায় শুরু থেকেই সন্দেহ তৈরি হয় পরিবারের মধ্যে।
রাহাতের বাবা দাবি করেন, নিখোঁজ হওয়ার দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে মাজপাড়া ঈদগাহ মাঠের সামনে একটি সিএনজি ও কয়েকটি মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এসব যানবাহনের সঙ্গে রাহাতের নিখোঁজ হওয়ার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা কাউকে দোষী বলতে চাই না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করুক। আমার একটাই দাবি—আমার ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।”
রাহাত নিখোঁজের ঘটনায় ১০ আগস্ট সুজানগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে ১৬ আগস্ট অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন তার বাবা। বর্তমানে মামলাটি পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত করছে বলে পরিবার জানিয়েছে।
তবে দীর্ঘ ৪৫ দিনেও কোনো তথ্য না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে রাহাতের পরিবারে। সন্তানের খোঁজে প্রতিদিন অপেক্ষার প্রহর গুনছেন স্বজনরা।
মুন্নুচ আলী বলেন, “৪৫ দিন ধরে জানি না আমার ছেলে কোথায় আছে, কেমন আছে। প্রতিদিন আশা করি, হয়তো আজ কোনো খবর পাব। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দ্রুত আমার ছেলেকে খুঁজে বের করুন।”
























