অর্থনীতির টানাপোড়েনের মধ্যেও ব্যাংকে বাড়ছে কোটিপতি হিসাব

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫৩:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় অঙ্কের আমানতের হিসাব বাড়ছে। গত তিন মাসে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজারেরও বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার বেশি জমা থাকা হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টিতে। এর আগে মার্চ শেষে এ ধরনের হিসাব ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি হিসাব।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টি। এসব হিসাবে জমা থাকা আমানতের পরিমাণ ২২ লাখ ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা।
মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে মোট হিসাব ছিল ১৮ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার ১৫টি এবং আমানতের পরিমাণ ছিল ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে ব্যাংক হিসাবে যুক্ত হয়েছে ৩৭ লাখ ৭২ হাজারের বেশি নতুন হিসাব। একই সময়ে আমানত বেড়েছে ৫২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকের বাইরে থাকা অর্থের একটি অংশ আবার আর্থিক ব্যবস্থায় ফিরছে। পাশাপাশি ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের আমানত বৃদ্ধিও ব্যাংকে জমার পরিমাণ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
তবে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা দিয়ে দেশে প্রকৃত কোটিপতির সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কারণ এসব হিসাবের মধ্যে ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা থাকতে পারে। একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করায় হিসাবের সংখ্যা ও কোটিপতির সংখ্যা এক নয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর দেশে কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা ছিল খুবই সীমিত। ১৯৭২ সালে এমন হিসাব ছিল মাত্র ৫টি। এরপর কয়েক দশকে ধীরে ধীরে এ সংখ্যা বাড়তে থাকে।
২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাব ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি। ২০২৩ সালের শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টিতে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সংখ্যা পৌঁছে ১ লাখ ২২ হাজার ৮১টিতে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশে এমন হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টি।

























