অ্যাম্বুলেন্সেই জন্ম নিল কারাবন্দি মায়ের সন্তান, মানবিকতার নজির কারাগারের

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫০:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
“রাখিবো নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ”—এই স্লোগানের যেন বাস্তব প্রতিফলন ঘটল যশোরে। কারাগারের কঠোর পরিবেশের মাঝেও মানবিকতা ও মমতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার।
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে বন্দি থাকা এক গর্ভবতী নারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই জন্ম হয়েছে এক ফুটফুটে পুত্রসন্তানের। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন।
জানা গেছে, ঝিনাইদহের একটি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত মিষ্টি খাতুন ওরফে বৃষ্টি খাতুন (১৯) মহিলা হাজতি নম্বর-৩৮০/২৬ হিসেবে কারাগারে ছিলেন। গর্ভাবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঝিনাইদহ থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল।
গত রাতে আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে অ্যাম্বুলেন্সটি যশোরের চুরামনকাটি এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ তাঁর প্রসববেদনা বেড়ে যায়। পরে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই জন্ম নেয় তাঁর পুত্রসন্তান।
খবরটি জানার পর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ দ্রুত মা ও নবজাতকের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করে। নবজাতকের জন্য দেওয়া হয় নতুন পোশাক, মশারি, বিছানাপত্র, তোয়ালে, ন্যাপকিন, ডায়পার ও অলিভ অয়েলসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
নতুন অতিথির আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতে মা ও শিশুকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। পাশাপাশি উপস্থিতদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ বলেন, নবজাতক ছেলে শিশুটি সুস্থ আছে এবং তার মাও ভালো আছেন। বর্তমানে মা ও সন্তান যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যেও যে মানবিকতা ও সহমর্মিতার জায়গা রয়েছে, এই ঘটনা তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকল। নতুন এই প্রাণের আগমন সংশ্লিষ্ট সবার মাঝে ছড়িয়েছে আনন্দ ও আশার বার্তা।





















