নেপালের ভয়াবহ বন্যা: চীনের বিরুদ্ধে উঠছে একের পর এক অভিযোগ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩২:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও হড়পা বানের ঘটনায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি চীনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নেপাল ও তিব্বতের পরিবেশবিদ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন পক্ষের অভিযোগ—তিব্বত সীমান্তে চীনের অবকাঠামো নির্মাণ, নদীর গতিপথে হস্তক্ষেপ এবং আগাম সতর্কবার্তা না দেওয়ার মতো বিষয়গুলো এই বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে থাকতে পারে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বেইজিং। চীনের পক্ষ থেকে দুর্যোগের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততার দাবি মানা হয়নি।
নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন
নেপালের পরিবেশবিদ ও সাংবাদিকদের একাংশের অভিযোগ, তিব্বত সীমান্তে চীনের বিভিন্ন নির্মাণকাজ পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। পাহাড় কেটে অবকাঠামো নির্মাণ এবং ত্রিশূলি নদীর গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টার মতো কর্মকাণ্ডও বন্যার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
অন্যদিকে, চীন-নিয়ন্ত্রিত তিব্বতে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর টিবেট’-এর দাবি, চীনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া ১৬ জন নিহতের তথ্য বাস্তব পরিস্থিতিকে প্রতিফলিত করে না। তাদের দাবি, নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং এক হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে অন্তত ৩০০টি বাড়িঘর।
তবে এসব পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গ্যিরংয়ের ফুটেজ সরানোর অভিযোগ
নেপাল সীমান্তসংলগ্ন চীন-নিয়ন্ত্রিত তিব্বতের গ্যিরং এলাকার বন্যার ক্ষয়ক্ষতির কিছু ভিডিও চীনা সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুটানি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর ফলে তিব্বতে বন্যার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি গোপন করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
চীনা সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
এরই মধ্যে নেপালি শ্রমিক রাজ ছেত্রীর একটি অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর দাবি, ত্রিশুলি এলাকায় হড়পা বান আঘাত হানার সময় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে ২৫৬ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন।
রাজের অভিযোগ, প্রকল্পের চীনা সুপারভাইজার বিপদ সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকদের সময়মতো বের হওয়ার অনুমতি দেননি। এমনকি বিপদের সময় নিজেই সরে গেলেও শ্রমিকদের উদ্ধারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেননি বলে দাবি তাঁর।
রাজ জানান, টানেলে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে মাত্র চারজন কোনোভাবে বের হয়ে বেঁচে যান। তাঁদের মধ্যে দুজন পরে নিখোঁজ হন। সুপারভাইজারের আচরণ ও কথাবার্তা দেখে তাঁর ধারণা, চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে আগেই দুর্যোগের তথ্য ছিল, কিন্তু তা শ্রমিকদের জানানো হয়নি।
তবে এই অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
জলবায়ু পরিবর্তনের দায় একাধিক দেশের
নেপালে ভয়াবহ বন্যার পেছনে অতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকেও দায়ী করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নেপাল ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় নিঃসরণকারী দেশগুলোর ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করেছে।
তবে পরিবেশগত কারণের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ ও দুর্যোগের আগাম সতর্কতা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোও এখন আলোচনায় এসেছে।
চীনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটে তথ্য গোপন ও স্বচ্ছতার ঘাটতি নিয়ে বেইজিংয়ের সমালোচনা হয়েছে। নেপালের এবারের ভয়াবহ বন্যার পরও চীনের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা ও দায় নির্ধারণে আরও স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






















