আসিফের ‘নেপথ্যের নায়কদের’ খুঁজছে দুদক, চিঠি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:০৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
ন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট চারজনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গত ১ সেপ্টেম্বর দুদকের বিশেষ তদন্ত বিভাগের মহাপরিচালকের নির্দেশনার পর বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চার সদস্যের অনুসন্ধান দল
অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামকে প্রধান করে চার সদস্যের দল গঠন করা হয়েছে। দলে রয়েছেন সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন, উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও উপসহকারী পরিচালক রোমান উদ্দিন।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘পদোন্নতি, বদলি বাণিজ্য, পদায়নসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।’
নিয়োগ-বদলি-পদোন্নতির নথি তলব
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নথিও তলব করেছে দুদক।
আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব তথ্য ও রেকর্ডপত্র পাঠাতে মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ৭ মে ও ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিলের দুটি স্মারকের মাধ্যমে বদলিসংক্রান্ত নথির সত্যায়িত অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। তিনটি স্মারকের আওতায় ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান, বাতিল ও পদায়নসংক্রান্ত নথিও তলব করা হয়েছে।
৩৮ কর্মকর্তার পদায়নে ৭৬ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ
দুদকের কাছে জমা পড়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে নতুন করে পদায়নের আদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রায় ৭৬ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জনপ্রতি গড়ে প্রায় দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পদোন্নতির জন্য মোট ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য আরও ২ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে।
অভিযোগে উল্লিখিত এসব নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নসংক্রান্ত লেনদেনের অঙ্ক মোট ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ এখনো অনুসন্ধানাধীন; অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানেই নির্ধারিত হবে।
টেন্ডার ও কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের অভিযোগ
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন টেন্ডার ও কেনাকাটায় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে। অভিযোগে অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে একটি চক্র গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, অর্থ পাচার, অবৈধ বিটকয়েন লেনদেন, চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের মতো আরও কিছু অভিযোগ রয়েছে বলে দুদকের কাছে জমা পড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমেও হস্তক্ষেপের অভিযোগ
ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ এবং অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধানের পরিধিতে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে তার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার দাবিও করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগগুলোর কোনটি সত্য, তার প্রমাণ ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় যাচাই করা হবে।





















