রপ্তানি বহুমুখীকরণে ইসিফরজে প্রকল্প : নতুন কর্মসংস্থান ১ লাখ ৮০ হাজার

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩১:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্য নিয়ে বাস্তবায়িত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফরজে)’ প্রকল্প উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত এ প্রকল্পের মাধ্যমে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, প্লাস্টিক এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বেড়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার নতুন ও শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) অর্থায়নে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে প্রকল্পটি শুরু হয়। এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় রপ্তানি বহুমুখীকরণকে গুরুত্ব দিয়েই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রকল্প পরিচালক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন, প্রকল্পটি প্রায় সব কর্মসম্পাদন সূচকেই নির্ধারিত লক্ষ্য ছাড়িয়ে গেছে। এর মাধ্যমে শুধু রপ্তানি বাড়েনি, বরং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম হয়ে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই ভিত্তি পেয়েছে।
প্রকল্পের অন্যতম সফল উদ্যোগ ছিল ‘এক্সপোর্ট রেডিনেস ফান্ড (ইআরএফ)’। এ কর্মসূচির আওতায় নারী উদ্যোক্তাপ্রতিষ্ঠানসহ ৫৭০টি প্রতিষ্ঠান আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা পেয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিবেশ, সামাজিক ও গুণগত মান (ইএসকিউ) নিশ্চিত করা, উৎপাদন আধুনিকায়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সনদ অর্জন এবং নতুন বিদেশি বাজারে প্রবেশের সক্ষমতা অর্জন করেছে।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, উপকারভোগী প্রতিষ্ঠানগুলো ২৬০টি আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স সনদ অর্জন করেছে। এছাড়া বেসরকারি খাত থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি সহ-অর্থায়ন এসেছে, যা অতিরিক্ত বিনিয়োগকে উৎসাহিত করেছে।
ইসিফরজে প্রকল্পের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিক্রি ৫৯ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো ২২টি নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করেছে।
প্রকল্প শুরুর আগে উপকারভোগী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রপ্তানিকারকের হার ছিল ৫৯ শতাংশ, যা বেড়ে ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে তাদের গড় রপ্তানি বেড়েছে ১৯২ শতাংশ।
এ ছাড়া ৭৩টি প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বের ১৪টি আন্তর্জাতিক সোর্সিং প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি করেছে।
শিল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লাস্টিকস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বিআইপিইটি) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পাশাপাশি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সেন্টার অব এক্সেলেন্স ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (সিইইটি) এবং কাশিমপুরে ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার ফর লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার (ডিটিসিএলএফ)-এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া মুন্সীগঞ্জ ও চট্টগ্রামে প্রস্তাবিত দুটি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও সাইট উন্নয়নকাজও শেষ হয়েছে, যা ভবিষ্যতে রপ্তানিমুখী শিল্পে দক্ষ জনবল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং কমপ্লায়েন্স বিষয়ক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১ লাখ ৭ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়েছেন, যার ৩৮ শতাংশ নারী।
সংস্থাটির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজারের প্রায় তিন গুণ।
বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রকল্পের আওতাভুক্ত তৈরি পোশাকবহির্ভূত খাতগুলোর রপ্তানি ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নয়ন সংস্থাটি ইসিফরজে প্রকল্পকে সরকার ও বেসরকারি খাতের সফল অংশীদারত্বের একটি কার্যকর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

























