রেলস্টেশনে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
পাবনা শহরের লস্করপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের দাবি, এক শিশুর চোখে ভয়াবহ আঘাত লেগেছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল পর্যন্ত লস্করপুর রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পাবনা সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই স্টেশন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়ে চলেছে। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর কয়েকটি কুকুর হঠাৎ পথচারীদের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কামড়াতে শুরু করলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় র্যাবিস প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, কুকুরের কামড়ে আহত ১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন, আর আটজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসাধীনদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিনই স্টেশন এলাকায় যাত্রী, রিকশাচালক, দোকানদার, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করেন। সাম্প্রতিক এ ঘটনার পর এলাকাজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত কুকুর নিয়ন্ত্রণ, আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা জুঁই আক্তার বলেন, হঠাৎ করেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তার দাবি, চোখের সামনে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জনকে কুকুর কামড়াতে দেখেছেন এবং এক শিশুর চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বুধবার সকালেও ওই কুকুরগুলোকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন। কুকুরের আক্রমণ থেকে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কোন সংস্থার—এ প্রশ্নেরও তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি।
পাবনা সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান বলেন, কুকুরের কামড়ে আহত ১১ জনকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও র্যাবিস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে এবং কয়েকজন রোগী এখনও চিকিৎসাধীন আছেন।




















