ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোন হারিয়ে হাসি ভুলে যাওয়া তাহসিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২৬:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুলের যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় বড় বোনকে হারিয়ে দীর্ঘদিন হাসি ভুলে যাওয়া কিশোর তাহসিন আব্দুল্লাহর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাবা নাজমুল হককে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাহসিন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির।

গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে দেখে উচ্ছ্বাসে দুই হাত বাড়িয়ে দেওয়া তাহসিনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। হাজারো শিশুর ভিড়ে তার নিষ্পাপ হাসি অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

তবে সেই হাসির পেছনে লুকিয়ে ছিল গভীর বেদনার গল্প। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তাহসিন হারায় তার বড় বোন তাসনিয়াকে। একই স্কুলে পড়লেও দুর্ঘটনার সময় তারা আলাদা ভবনে ছিল। যুদ্ধবিমানটি আছড়ে পড়ে তাসনিয়ার ভবনে।

বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ছোট্ট তাহসিন ছুটে যায় বোনকে খুঁজতে। কারও মুখে স্যালাইন ও পানির প্রয়োজনের কথা শুনে দুই হাতে সেগুলো নিয়ে অপেক্ষা করেছিল সে। কিন্তু সেই অপেক্ষার আর শেষ হয়নি।

পরিবার জানায়, দুর্ঘটনার পর থেকে তাহসিনের স্বাভাবিক জীবন বদলে যায়। একটি মানসিক সহায়তা কর্মসূচিতে সে লিখেছিল, “আমার কষ্ট অনেক। আমি আমার প্রিয় বোনকে হারিয়ে ফেলেছি। সে মারা গেছে। ওকে আমি অনেক অনেক মিস করি। ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।”

সেই শিশুটির হাসিমাখা ছবির পেছনের করুণ গল্প জানার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে তাহসিন ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাহসিনের এই সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতে কী হতে চায় জানতে চান। জবাবে তাহসিন জানায়, বড় হয়ে সে একজন সফল ব্যবসায়ী হতে চায়। পাশাপাশি এমন কিছু করতে চায়, যা মানুষের উপকারে আসবে এবং মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

তাহসিনের স্বপ্নের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তাকে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করার, নিয়মিত খেলাধুলা করার এবং লক্ষ্য অর্জনে নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

আলাপচারিতায় তাহসিন জানায়, তার সবচেয়ে প্রিয় খেলা ফুটবল। পরে প্রধানমন্ত্রী নিজের স্বাক্ষর করা একটি বাস্কেটবল ও একটি ড্রোনসেট উপহার হিসেবে তাহসিনের হাতে তুলে দেন।

সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বসিত তাহসিন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবার দেখা করতে পেরে সে ভীষণ আনন্দিত। এমন সুযোগ পাবে, তা কখনো কল্পনাও করেনি। স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের কাছে এই অভিজ্ঞতার গল্প শোনানোর জন্য সে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলেও জানায়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী মাইলস্টোনের দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাহসিনের বাবা নাজমুল হকের প্রতিও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম, সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক (অর্থোপেডিক) ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বোন হারিয়ে হাসি ভুলে যাওয়া তাহসিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২৬:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুলের যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় বড় বোনকে হারিয়ে দীর্ঘদিন হাসি ভুলে যাওয়া কিশোর তাহসিন আব্দুল্লাহর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাবা নাজমুল হককে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাহসিন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির।

গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে দেখে উচ্ছ্বাসে দুই হাত বাড়িয়ে দেওয়া তাহসিনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। হাজারো শিশুর ভিড়ে তার নিষ্পাপ হাসি অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

তবে সেই হাসির পেছনে লুকিয়ে ছিল গভীর বেদনার গল্প। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তাহসিন হারায় তার বড় বোন তাসনিয়াকে। একই স্কুলে পড়লেও দুর্ঘটনার সময় তারা আলাদা ভবনে ছিল। যুদ্ধবিমানটি আছড়ে পড়ে তাসনিয়ার ভবনে।

বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ছোট্ট তাহসিন ছুটে যায় বোনকে খুঁজতে। কারও মুখে স্যালাইন ও পানির প্রয়োজনের কথা শুনে দুই হাতে সেগুলো নিয়ে অপেক্ষা করেছিল সে। কিন্তু সেই অপেক্ষার আর শেষ হয়নি।

পরিবার জানায়, দুর্ঘটনার পর থেকে তাহসিনের স্বাভাবিক জীবন বদলে যায়। একটি মানসিক সহায়তা কর্মসূচিতে সে লিখেছিল, “আমার কষ্ট অনেক। আমি আমার প্রিয় বোনকে হারিয়ে ফেলেছি। সে মারা গেছে। ওকে আমি অনেক অনেক মিস করি। ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।”

সেই শিশুটির হাসিমাখা ছবির পেছনের করুণ গল্প জানার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে তাহসিন ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাহসিনের এই সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতে কী হতে চায় জানতে চান। জবাবে তাহসিন জানায়, বড় হয়ে সে একজন সফল ব্যবসায়ী হতে চায়। পাশাপাশি এমন কিছু করতে চায়, যা মানুষের উপকারে আসবে এবং মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

তাহসিনের স্বপ্নের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তাকে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করার, নিয়মিত খেলাধুলা করার এবং লক্ষ্য অর্জনে নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

আলাপচারিতায় তাহসিন জানায়, তার সবচেয়ে প্রিয় খেলা ফুটবল। পরে প্রধানমন্ত্রী নিজের স্বাক্ষর করা একটি বাস্কেটবল ও একটি ড্রোনসেট উপহার হিসেবে তাহসিনের হাতে তুলে দেন।

সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বসিত তাহসিন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবার দেখা করতে পেরে সে ভীষণ আনন্দিত। এমন সুযোগ পাবে, তা কখনো কল্পনাও করেনি। স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের কাছে এই অভিজ্ঞতার গল্প শোনানোর জন্য সে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলেও জানায়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী মাইলস্টোনের দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাহসিনের বাবা নাজমুল হকের প্রতিও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম, সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক (অর্থোপেডিক) ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।