ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২২ বছরেও হয়নি প্রবেশপথ

স্কুল আছে, নেই যাওয়ার রাস্তা; পানি মাড়িয়ে স্কুলে যায় শিক্ষার্থীরা

মোঃ মশিউর রহমান, টাঙ্গাইল
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:০১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আছে, শিক্ষক আছে, ভবনও আছে। কিন্তু নেই বিদ্যালয়ে যাওয়ার একটি নির্দিষ্ট রাস্তা। ফলে প্রতিদিন জমির আইল ধরে, কাদা-পানি মাড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের। বর্ষা মৌসুমে আইল ডুবে গেলে দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে সরকারীকরণ করা হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ কর্মরত আছেন চারজন শিক্ষক। তবে প্রতিষ্ঠার দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়ের জন্য কোনো সরকারি প্রবেশপথ তৈরি হয়নি।

জানা যায়, বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করা হলেও আশপাশের জমির মালিকরা রাস্তার জন্য জমি ছেড়ে না দেওয়ায় আজও যাতায়াতের নির্দিষ্ট পথ তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

গত ২৬ জুলাই সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের চারপাশজুড়ে ধানক্ষেত। বিদ্যালয় থেকে মাত্র ১৫ থেকে ২০ গজ দূরে একটি সড়ক থাকলেও সেই সড়ক থেকে বিদ্যালয়ে প্রবেশের কোনো পথ নেই। টিফিন শেষে শিক্ষার্থীরা জুতা-স্যান্ডেল হাতে নিয়ে কাদামাটির আইল ধরে সারিবদ্ধভাবে বাড়ি ফিরছে। সামান্য অসাবধান হলেই ধানক্ষেতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাজেদুল ইসলাম বলে, “এভাবে কাদামাটি দিয়ে জমির মাঝখান দিয়ে যাতায়াত করতে খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় খেতে পড়ে যাই। তখন জমির মালিক রাগ করেন।”

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী নাসিমা আক্তার জানায়, “শীতকালে কোনোভাবে আইল ধরে স্কুলে যাওয়া যায়। কিন্তু বর্ষায় জমিতে পানি উঠে গেলে স্কুলে আসাই কঠিন হয়ে পড়ে।”

এলাকার বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, “একটি সরকারি বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তা থাকবে না—এটা মেনে নেওয়া যায় না। সরকারিভাবে দ্রুত একটি রাস্তার ব্যবস্থা করা উচিত।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা পারভীন বলেন, “শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, শিক্ষক-কর্মচারীদেরও প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়। কোনো শিক্ষা উপকরণ বা মালামাল আনা-নেওয়াও খুব কষ্টকর। রাস্তা না থাকায় নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কমছে, বরং শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।”

প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার আলী বলেন, “প্রতিদিন স্কুলে আসা শিশুদের জন্য এটি এক ধরনের সংগ্রাম। কাদা-পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসতে গিয়ে তারা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়। শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ে একটি সংযোগ সড়ক অত্যন্ত জরুরি। আমরা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত রাস্তা নির্মাণের আবেদন জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বাংলা টাইমসকে বলেন, “বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রাস্তা নির্মাণের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

দুই দশকের বেশি সময় ধরে একটি সরকারি বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য কোনো রাস্তা না থাকা স্থানীয়দের কাছেও বিস্ময়ের বিষয়। শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

২২ বছরেও হয়নি প্রবেশপথ

স্কুল আছে, নেই যাওয়ার রাস্তা; পানি মাড়িয়ে স্কুলে যায় শিক্ষার্থীরা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:০১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আছে, শিক্ষক আছে, ভবনও আছে। কিন্তু নেই বিদ্যালয়ে যাওয়ার একটি নির্দিষ্ট রাস্তা। ফলে প্রতিদিন জমির আইল ধরে, কাদা-পানি মাড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের। বর্ষা মৌসুমে আইল ডুবে গেলে দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে সরকারীকরণ করা হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ কর্মরত আছেন চারজন শিক্ষক। তবে প্রতিষ্ঠার দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়ের জন্য কোনো সরকারি প্রবেশপথ তৈরি হয়নি।

জানা যায়, বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করা হলেও আশপাশের জমির মালিকরা রাস্তার জন্য জমি ছেড়ে না দেওয়ায় আজও যাতায়াতের নির্দিষ্ট পথ তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

গত ২৬ জুলাই সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের চারপাশজুড়ে ধানক্ষেত। বিদ্যালয় থেকে মাত্র ১৫ থেকে ২০ গজ দূরে একটি সড়ক থাকলেও সেই সড়ক থেকে বিদ্যালয়ে প্রবেশের কোনো পথ নেই। টিফিন শেষে শিক্ষার্থীরা জুতা-স্যান্ডেল হাতে নিয়ে কাদামাটির আইল ধরে সারিবদ্ধভাবে বাড়ি ফিরছে। সামান্য অসাবধান হলেই ধানক্ষেতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাজেদুল ইসলাম বলে, “এভাবে কাদামাটি দিয়ে জমির মাঝখান দিয়ে যাতায়াত করতে খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় খেতে পড়ে যাই। তখন জমির মালিক রাগ করেন।”

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী নাসিমা আক্তার জানায়, “শীতকালে কোনোভাবে আইল ধরে স্কুলে যাওয়া যায়। কিন্তু বর্ষায় জমিতে পানি উঠে গেলে স্কুলে আসাই কঠিন হয়ে পড়ে।”

এলাকার বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, “একটি সরকারি বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তা থাকবে না—এটা মেনে নেওয়া যায় না। সরকারিভাবে দ্রুত একটি রাস্তার ব্যবস্থা করা উচিত।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা পারভীন বলেন, “শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, শিক্ষক-কর্মচারীদেরও প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়। কোনো শিক্ষা উপকরণ বা মালামাল আনা-নেওয়াও খুব কষ্টকর। রাস্তা না থাকায় নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কমছে, বরং শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।”

প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার আলী বলেন, “প্রতিদিন স্কুলে আসা শিশুদের জন্য এটি এক ধরনের সংগ্রাম। কাদা-পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসতে গিয়ে তারা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়। শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ে একটি সংযোগ সড়ক অত্যন্ত জরুরি। আমরা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত রাস্তা নির্মাণের আবেদন জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বাংলা টাইমসকে বলেন, “বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রাস্তা নির্মাণের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

দুই দশকের বেশি সময় ধরে একটি সরকারি বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য কোনো রাস্তা না থাকা স্থানীয়দের কাছেও বিস্ময়ের বিষয়। শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।