নিজ উপজেলায় বিআরডিবি কর্মকর্তার বদলি নিয়ে প্রশ্ন, উঠেছে নানা অভিযোগ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:০৪:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) এক কর্মকর্তার নিজ উপজেলায় পদায়নকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি চাকরিতে নিজ এলাকায় পদায়নের ক্ষেত্রে প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, সম্প্রতি বিআরডিবির কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন আকন্দকে তার নিজ উপজেলা কালিহাতীতে বদলি করা হয়েছে। তিনি উপজেলার নারিন্দা গ্রামের বাসিন্দা। সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সাধারণত নিজ এলাকায় পদায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। এ কারণে তার বদলিকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিআরডিবির টাঙ্গাইল কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারীর দাবি, মঈন উদ্দিন আকন্দ দীর্ঘদিন টাঙ্গাইলে কর্মরত ছিলেন। তার দায়িত্বকালে বিতরণ করা ঋণের মধ্যে দুই কোটিরও বেশি টাকা খেলাপি হয়েছে। এর প্রভাব হিসেবে পাঁচজন কর্মচারীর বেতন গত পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারীর অভিযোগ, মঈন উদ্দিন আকন্দ অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তাদের দাবি, তার বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পেতেন না। এছাড়া, গত বছর তার প্রভাবেই এক কর্মচারী ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের সুযোগ পান এবং ওই কর্মচারী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
কর্মচারীদের আরও দাবি, সরকারদলীয় এক নেতার সুপারিশে মঈন উদ্দিন আকন্দকে তার নিজ উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মঈন উদ্দিন আকন্দ। তিনি বলেন, সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই তার বদলি হয়েছে এবং এতে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, বদলি যদি প্রচলিত নীতিমালা অনুসারে হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। আর যদি নীতিমালার ব্যত্যয় বা কোনো অনিয়ম ঘটে থাকে, তবে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।




















