মাদকের গডফাদারদেরও আইনের আওতায় আনা হবে: খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু মাদক কারবারি বা ক্যারিয়ার নয়, মাদক ব্যবসার গডফাদারদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে তাদের সম্পদ ও আয়ের উৎস অনুসন্ধান করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মাদক-সংশ্লিষ্টতায় কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলেও তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
বুধবার (২২ জুলাই) যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডিআইজি বলেন, মাদক নির্মূলে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছোট-বড় কাউকেই আইনের বাইরে রাখা হবে না। কেবল বাহক বা ক্যারিয়ারদের গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; বরং যারা এ ব্যবসার মূল হোতা, তাদেরও চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে পারলেই এ সমস্যা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারকে কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, নিয়মিত অভিযান এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং বর্তমানে সমাজের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। এসব চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
ডিআইজি বলেন, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে প্রযুক্তিনির্ভর একটি বিশেষ টিম গঠন করা হবে। এই টিম সার্বক্ষণিক বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পর্যবেক্ষণ করবে এবং জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তার ভাষায়, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে যারা অনলাইন জুয়া পরিচালনা করছে, তাদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ছোট কিংবা বড়—যেকোনো ধরনের চুরির ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।
ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ফ্যাসিস্টরা যেন কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা সজাগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যশোর জেলা পুলিশের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
এর আগে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পৌঁছালে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে তিনি কার্যালয় প্রাঙ্গণে একটি জলপাই গাছের চারা রোপণ করেন।
এ সময় তিনি জানান, সরকারের ঘোষিত ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরে যশোর জেলা পুলিশ ৩ হাজার গাছ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। জেলার বিভিন্ন থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, পুলিশ লাইনস এবং অন্যান্য পুলিশ স্থাপনায় এসব গাছ লাগানো হবে।
তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। সরকারি এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে পুলিশও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এ সময় যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রাজিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘ক’ সার্কেলের আহসান হাবিব, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

























