অভাবের সংসার থেকে মাসে লাখ টাকার উদ্যোক্তা: বদলে গেল নুরেশার জীবন
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের আটকরা গ্রামের গৃহিণী নুরেশা আক্তার একসময় সংসারের টানাপোড়েনে দিশেহারা ছিলেন। স্বামীর সীমিত আয়ে কোনোভাবে চলত তাদের পরিবার। তবে দারিদ্র্যের সেই চক্র ভেঙে বেরিয়ে আসার স্বপ্নই তাকে আজ সফল উদ্যোক্তায় পরিণত করেছে।
ইউটিউবে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদনের একটি ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ছোট পরিসরে শুরু করেন জৈব সার উৎপাদন। শুরুতে বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে অদ্ভুত মনে হলেও তিনি থেমে যাননি। ধীরে ধীরে নিজের প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে গড়ে তোলেন ‘মেসার্স নুরেশা অ্যাগ্রো ফার্ম’।
পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি বিভাগ তার উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে সহযোগিতা করে। পাশে দাঁড়ায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিওও। এসব সহায়তায় উৎপাদন বাড়তে থাকে এবং বাজারে তার জৈব সারের চাহিদাও তৈরি হয়।
২০২৩ সালে ব্যবসার পরিধি বাড়ার পর স্বামীও চাকরি ছেড়ে তার সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে তাদের খামারে দুটি আধুনিক শেড, ১৫টি পিট ও ৫০টি রিং রয়েছে। প্রতি মাসে প্রায় ১০ মেট্রিক টন ভার্মি কম্পোস্ট ও কেঁচো উৎপাদন হচ্ছে, যা বিক্রি করে সব খরচ বাদে প্রায় এক লাখ টাকা আয় করছেন তারা।
উৎপাদিত জৈব সার স্থানীয় কৃষকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতি কেজি কম্পোস্ট ১৫ টাকা এবং কেঁচো ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নই হয়নি, আরও কয়েকজন নারীর কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ভার্মি কম্পোস্ট মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমায়। নুরেশার এই সাফল্য গ্রামীণ নারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ।
এক সময় অভাবের সঙ্গে লড়াই করা এই নারী এখন আত্মনির্ভরতার প্রতীক। তার গল্প প্রমাণ করে—সঠিক দিকনির্দেশনা, পরিশ্রম ও উদ্যোগ থাকলে গ্রামীণ নারীরাও অর্থনৈতিকভাবে সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারেন।


























