ঢাকা ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষকের জন্য বরাদ্দ সার খুচরা দোকানে, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১৭:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কৃষকদের জন্য বরাদ্দ রাসায়নিক সার সরাসরি কৃষকের কাছে বিক্রি না করে খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় এক দোকানির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে উপজেলার বলিদ্বারা বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা বেগম। অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা একরামুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বিএডিসির অনুমোদিত ডিলার প্রতিষ্ঠান ‘নবাব এন্ড ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের সার না দিয়ে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ ছিল। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দোকানে সার নিতে গেলে প্রায়ই ‘সার নেই’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হতো তাঁদের।

অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে নবাব এন্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী তজির উদ্দিন বাজারসংলগ্ন খুচরা ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলামের কাছে ১৫ বস্তা সার বিক্রি করেন। পরে কয়েকজন কৃষক বিষয়টি জানতে পেরে খায়রুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সার কেনার কথা স্বীকার করেন। এরপর ক্ষুব্ধ কৃষকেরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পান। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বিএডিসি ডিলার নবাব এন্ড ব্রাদার্সকে ২০ হাজার টাকা এবং লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির দায়ে খুচরা ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ৮ ও ১২(১) ধারায় তাঁদের এ জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে খুচরা বিক্রেতার গুদাম থেকে জব্দ করা ১১৮ বস্তা সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, চাষাবাদের মৌসুমে অনেক সময় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃষকদের ভোগান্তিতে ফেলেন। প্রশাসনের এমন অভিযানে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং নিয়মিত বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কৃষকের জন্য বরাদ্দ সার খুচরা দোকানে, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১৭:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

কৃষকদের জন্য বরাদ্দ রাসায়নিক সার সরাসরি কৃষকের কাছে বিক্রি না করে খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় এক দোকানির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে উপজেলার বলিদ্বারা বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা বেগম। অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা একরামুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বিএডিসির অনুমোদিত ডিলার প্রতিষ্ঠান ‘নবাব এন্ড ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের সার না দিয়ে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ ছিল। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দোকানে সার নিতে গেলে প্রায়ই ‘সার নেই’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হতো তাঁদের।

অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে নবাব এন্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী তজির উদ্দিন বাজারসংলগ্ন খুচরা ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলামের কাছে ১৫ বস্তা সার বিক্রি করেন। পরে কয়েকজন কৃষক বিষয়টি জানতে পেরে খায়রুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সার কেনার কথা স্বীকার করেন। এরপর ক্ষুব্ধ কৃষকেরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পান। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বিএডিসি ডিলার নবাব এন্ড ব্রাদার্সকে ২০ হাজার টাকা এবং লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির দায়ে খুচরা ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ৮ ও ১২(১) ধারায় তাঁদের এ জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে খুচরা বিক্রেতার গুদাম থেকে জব্দ করা ১১৮ বস্তা সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, চাষাবাদের মৌসুমে অনেক সময় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃষকদের ভোগান্তিতে ফেলেন। প্রশাসনের এমন অভিযানে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং নিয়মিত বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন।