ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় মাদকাসক্ত ভাতিজার হাতে ফুফু খুন, আশঙ্কাজনক মা-চাচি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:০৬:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে সোহেল (৩০) নামের মাদকাসক্ত আপন ভাতিজার হাতে খুন হয়েছেন ফুফু জহুরা বেগম (৬০)। একই সাথে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে যুবকের মা আনোয়ারা বেগম (৫২) ও চাচি জুলেখা বেগম (৪৬) কে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা। সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাজেতেলকুপি (চর নিশ্চিন্তপুর) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত যুবক সোহেল ওই গ্রামের মৃত সামু মিয়ার ছেলে। পেশায় কৃষক।

নিহত জহুরা বেগম ওই এলাকার মৃত কাবেল শেখের মেয়ে। দীর্ঘদিন আগে স্বামীর মৃত্যুুর পর থেকে তিনি বাবার বাড়িতেই থাকেন। এই এতিম ভাতিজাদের মানুষ করতেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেননি। এছাড়া গুরত্বর আহত জুলেখা ছমের মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে ঘুম থেকে উঠেই বটি জাতীয় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ওই যুবক প্রথমে তার মাকে চোটাতে থাকে। তার মাথায় চোট দেওয়া হয়। এসময় তিনি (মা আনোয়ারা) চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে চাচি জুলেখাকে পেয়ে তার শরীরে এলোপাতারি কোপাতে থাকে। পরে ফুফু জহুরা আসলে তারও পেটে চোট দেয় এবং চোট দিয়ে এক হাত কেটে ফেলে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনায় গুরত্বর আহত আনোয়ারা বেগম ও জুলেখা বেগমকে স্বজন ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতলে নেয়। কিন্তু তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কানক হওয়ায় কর্তব্য চিকিৎসক তাদেরকে রংপুরে পাঠান।

অন্যদিকে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অভিযুক্ত যুবককে আটকে রেখে ফুলছড়ি থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

নিহতের অপর ভাইয়ের ছেলে ফুল মিয়া জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠেই বটি দিয়ে ফুফুকে খুন করে সোহেল। প্রথমে ওর মায়ের মাথায় চোট দেয়।পরে চাচিকে পেয়ে তাকে এলোপাতারিভাবে চোট দিয়ে নাক-মুখ, হাঁটুসহ সারা শরীরে রক্তাক্ত করে। পরে ফুফুকে পেয়ে তার একটি হাত প্রায় কেটে ফেলে এবং পেটেও চোট দেয়। এতে ফুফু ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

তিনি জানান, আমি আহতদেরকে নিয়ে রংপুরে আছি। আমরা এখনো জানিনা কেন এমন করলো সোহেল। ২/৩ দিন থেকে ও পাগলামো করছিলো।

ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা বাংলা টাইমসকে বলেন, স্থানীয়রা জানিয়েছেন অভিযুক্ত যুবক নেশা করে। স্থানীয়দের খবরে আমরা তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসতেছি, নৌকায় পথিমধ্যে আছি। এর বেশি কিছু জানা যায়নি। থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানা যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গাইবান্ধায় মাদকাসক্ত ভাতিজার হাতে ফুফু খুন, আশঙ্কাজনক মা-চাচি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:০৬:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে সোহেল (৩০) নামের মাদকাসক্ত আপন ভাতিজার হাতে খুন হয়েছেন ফুফু জহুরা বেগম (৬০)। একই সাথে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে যুবকের মা আনোয়ারা বেগম (৫২) ও চাচি জুলেখা বেগম (৪৬) কে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা। সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাজেতেলকুপি (চর নিশ্চিন্তপুর) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত যুবক সোহেল ওই গ্রামের মৃত সামু মিয়ার ছেলে। পেশায় কৃষক।

নিহত জহুরা বেগম ওই এলাকার মৃত কাবেল শেখের মেয়ে। দীর্ঘদিন আগে স্বামীর মৃত্যুুর পর থেকে তিনি বাবার বাড়িতেই থাকেন। এই এতিম ভাতিজাদের মানুষ করতেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেননি। এছাড়া গুরত্বর আহত জুলেখা ছমের মিয়ার স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে ঘুম থেকে উঠেই বটি জাতীয় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ওই যুবক প্রথমে তার মাকে চোটাতে থাকে। তার মাথায় চোট দেওয়া হয়। এসময় তিনি (মা আনোয়ারা) চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে চাচি জুলেখাকে পেয়ে তার শরীরে এলোপাতারি কোপাতে থাকে। পরে ফুফু জহুরা আসলে তারও পেটে চোট দেয় এবং চোট দিয়ে এক হাত কেটে ফেলে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনায় গুরত্বর আহত আনোয়ারা বেগম ও জুলেখা বেগমকে স্বজন ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতলে নেয়। কিন্তু তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কানক হওয়ায় কর্তব্য চিকিৎসক তাদেরকে রংপুরে পাঠান।

অন্যদিকে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অভিযুক্ত যুবককে আটকে রেখে ফুলছড়ি থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

নিহতের অপর ভাইয়ের ছেলে ফুল মিয়া জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠেই বটি দিয়ে ফুফুকে খুন করে সোহেল। প্রথমে ওর মায়ের মাথায় চোট দেয়।পরে চাচিকে পেয়ে তাকে এলোপাতারিভাবে চোট দিয়ে নাক-মুখ, হাঁটুসহ সারা শরীরে রক্তাক্ত করে। পরে ফুফুকে পেয়ে তার একটি হাত প্রায় কেটে ফেলে এবং পেটেও চোট দেয়। এতে ফুফু ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

তিনি জানান, আমি আহতদেরকে নিয়ে রংপুরে আছি। আমরা এখনো জানিনা কেন এমন করলো সোহেল। ২/৩ দিন থেকে ও পাগলামো করছিলো।

ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা বাংলা টাইমসকে বলেন, স্থানীয়রা জানিয়েছেন অভিযুক্ত যুবক নেশা করে। স্থানীয়দের খবরে আমরা তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসতেছি, নৌকায় পথিমধ্যে আছি। এর বেশি কিছু জানা যায়নি। থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানা যাবে।