পদ্মা-তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণে উদ্যোগ নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৪১:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
পদ্মা ব্যারাজের পাশাপাশি তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণেও সরকার উদ্যোগ নেবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের পানি সংকট, নদীশাসন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি।
বুধবার বিকেলে গাজীপুরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে এ ঘোষণা দেন তিনি। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইনশাআল্লাহ বিএনপি সরকার পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের কাজ শুরু করবে। একইভাবে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পেও হাত দেওয়া হবে।”
তিস্তা ইস্যুতে বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আজ যারা বড় বড় কথা বলছে, তাদের মনে রাখা উচিত—তিস্তা নিয়ে মাঠে কর্মসূচি করেছে বিএনপিই। অন্য কেউ শুধু বক্তব্য দিয়েছে, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি তৈরি করেছে বিএনপি।”
পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমান্তের ওপারে পানি প্রত্যাহারের কারণে শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলোতে পানির প্রবাহ কমে যাচ্ছে। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক স্রোত হারিয়ে যাচ্ছে এবং দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততার প্রভাব বাড়ছে।
তিনি বলেন, “একসময় পদ্মা নদীর এপার থেকে ওপার দেখা যেত না, এখন অনেক জায়গায় পানিশূন্য অবস্থা তৈরি হয়েছে। ফারাক্কার প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্রের নোনা পানি ঢুকে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণে ব্যারাজ নির্মাণ প্রয়োজন।”
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আবহাওয়া দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আগের মতো শীত এখন আর অনুভূত হয় না। নদী-খাল ভরাট ও পানি কমে যাওয়ার বিষয়টিও পরিবেশগত সংকটের অংশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কক্সবাজারে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে গাছ কাটার বিরোধিতা করে তিনি জানান, বিচ রোড নির্মাণে কয়েক হাজার গাছ কাটার পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে তা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। “প্রয়োজনে নকশা পরিবর্তন হবে, কিন্তু গাছ কাটা যাবে না,” বলেন তিনি।
দুর্যোগ মোকাবিলায় গবেষণা ও সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঠেকানো সম্ভব না হলেও ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। এজন্য পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও খাল খননের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। আরও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান খান এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
























