ঢাকা ০১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রবাসীকে হত্যা করে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ডের অভিযোগ, স্ত্রী গ্রেপ্তার

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে জিয়া সরদার (৪২) নামে এক প্রবাসীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রী আসমা বেগমের (৩৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আসমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাতে পালং উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে চন্দ্রপুর বাজার এলাকার একটি বাসায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত জিয়া সরদার মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। ২০১৯ সালে পিরোজপুর জেলার জুপিয়া এলাকার আসমা বেগমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। এটি দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে মোবাইলে কথা বলার সময় জিয়ার মাথায় পেছন থেকে রড দিয়ে আঘাত করেন আসমা। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে আরও কয়েক দফা আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

পরে মরদেহ গোপন করতে শরীরের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হাত-পা ও শরীরের অংশ আলাদা করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। কিছু অংশ প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে রাখা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।

স্থানীয়দের সন্দেহ হলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। পরে পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমা বেগমকে আটক করে।

নিহতের ছেলে জিহাদ সরদার অভিযোগ করে বলেন, তাঁর বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলায় আসমা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানান ওসি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

প্রবাসীকে হত্যা করে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ডের অভিযোগ, স্ত্রী গ্রেপ্তার

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে জিয়া সরদার (৪২) নামে এক প্রবাসীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রী আসমা বেগমের (৩৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আসমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাতে পালং উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে চন্দ্রপুর বাজার এলাকার একটি বাসায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত জিয়া সরদার মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। ২০১৯ সালে পিরোজপুর জেলার জুপিয়া এলাকার আসমা বেগমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। এটি দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে মোবাইলে কথা বলার সময় জিয়ার মাথায় পেছন থেকে রড দিয়ে আঘাত করেন আসমা। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে আরও কয়েক দফা আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

পরে মরদেহ গোপন করতে শরীরের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হাত-পা ও শরীরের অংশ আলাদা করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। কিছু অংশ প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে রাখা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।

স্থানীয়দের সন্দেহ হলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। পরে পালং মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমা বেগমকে আটক করে।

নিহতের ছেলে জিহাদ সরদার অভিযোগ করে বলেন, তাঁর বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলায় আসমা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানান ওসি।