ঢাকা ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭০ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা পান এমপিরা, তবু গাড়ি সুবিধা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রতি মাসে ৭০ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা পাওয়ার পরও সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা গাড়ির ব্যবস্থা করার দাবি ঘিরে সংসদে তৈরি হয়েছে আলোচনা–সমালোচনা। বিষয়টি সামনে আসে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে হাসনাত আবদুল্লাহ গাড়ি–সুবিধা সংক্রান্ত প্রস্তাব তোলার পর।

মঙ্গলবারের অধিবেশনে তিনি সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারি প্রক্রিয়ায় গাড়ি বরাদ্দের দাবি জানান। তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে বিষয়টি নিয়ে সংসদে এবং বাইরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

পরদিন বুধবার সংসদে ব্যাখ্যা দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তিনি শুল্কমুক্ত গাড়ি চাননি; বরং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতো সংসদ সদস্যদেরও সাধারণ প্রক্রিয়ায় যানবাহন সুবিধা দেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিএনপির সংসদীয় দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না, যদিও বিকল্পভাবে পরিবহন ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় আনার কথা বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে সমালোচনাও উঠেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংসদ সদস্যরা ইতোমধ্যেই মাসিক ৭০ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা পান, তাই অতিরিক্ত গাড়ি সুবিধার যৌক্তিকতা নেই। তাঁর মতে, এটি নৈতিক ও নীতিগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

এর আগে সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় অফিস ও বসার জায়গা নিয়ে সিদ্ধান্তও আলোচনায় আসে, যা স্থানীয় সরকারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশ্লেষকেরা।

বর্তমানে সংসদ সদস্যদের বেতন–ভাতা ও সুবিধা ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ অনুযায়ী নির্ধারিত। এতে মাসিক বেতন, যাতায়াত ভাতা, টেলিফোন, চিকিৎসা ভাতা, নির্বাচনী ভাতা ছাড়াও কর ও শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সব মিলিয়ে সংসদ সদস্যদের অতিরিক্ত সুবিধা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা আগামী দিনে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

৭০ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা পান এমপিরা, তবু গাড়ি সুবিধা দাবি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

প্রতি মাসে ৭০ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা পাওয়ার পরও সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা গাড়ির ব্যবস্থা করার দাবি ঘিরে সংসদে তৈরি হয়েছে আলোচনা–সমালোচনা। বিষয়টি সামনে আসে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে হাসনাত আবদুল্লাহ গাড়ি–সুবিধা সংক্রান্ত প্রস্তাব তোলার পর।

মঙ্গলবারের অধিবেশনে তিনি সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারি প্রক্রিয়ায় গাড়ি বরাদ্দের দাবি জানান। তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে বিষয়টি নিয়ে সংসদে এবং বাইরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

পরদিন বুধবার সংসদে ব্যাখ্যা দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তিনি শুল্কমুক্ত গাড়ি চাননি; বরং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতো সংসদ সদস্যদেরও সাধারণ প্রক্রিয়ায় যানবাহন সুবিধা দেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিএনপির সংসদীয় দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না, যদিও বিকল্পভাবে পরিবহন ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় আনার কথা বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে সমালোচনাও উঠেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংসদ সদস্যরা ইতোমধ্যেই মাসিক ৭০ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা পান, তাই অতিরিক্ত গাড়ি সুবিধার যৌক্তিকতা নেই। তাঁর মতে, এটি নৈতিক ও নীতিগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

এর আগে সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় অফিস ও বসার জায়গা নিয়ে সিদ্ধান্তও আলোচনায় আসে, যা স্থানীয় সরকারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিশ্লেষকেরা।

বর্তমানে সংসদ সদস্যদের বেতন–ভাতা ও সুবিধা ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ অনুযায়ী নির্ধারিত। এতে মাসিক বেতন, যাতায়াত ভাতা, টেলিফোন, চিকিৎসা ভাতা, নির্বাচনী ভাতা ছাড়াও কর ও শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সব মিলিয়ে সংসদ সদস্যদের অতিরিক্ত সুবিধা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা আগামী দিনে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।