ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুখস্থ নয়, খেলতে খেলতে শেখা—প্রাথমিক শিক্ষায় বড় পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শহরের এক কোণে, ছোট্ট একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বসে আছে শিশুরা। সামনে খোলা বই, পাশে গাইড—মুখস্থ করা উত্তরের চাপ যেন তাদের শৈশবটাকেই ধীরে ধীরে সংকুচিত করে দিচ্ছে। সেই বাস্তবতাকেই বদলানোর ইঙ্গিত দিল সরকার।

বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, কোচিং-নোট-গাইডের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা হবে। শুধু তাই নয়, প্রাথমিক শিক্ষায় আনা হবে নতুন কারিকুলাম—যেখানে পড়াশোনা হবে একটু অন্যরকম।

তার ভাষায়, “শিশুরা খেলতে খেলতে শিখবে, গল্পের মাধ্যমে শিখবে।” অর্থাৎ, পড়াশোনা আর কেবল পরীক্ষার খাতা ভরানোর বিষয় থাকবে না; বরং শেখার প্রক্রিয়াটাই হবে আনন্দময়।

তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই পরিবর্তন হঠাৎ করে নয়। দীর্ঘ আলোচনা, পরিকল্পনা এবং বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়েই ধাপে ধাপে নতুন কারিকুলাম চালু করা হবে।

কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ যে শুধু বইয়ের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, সেটাও উঠে এসেছে তার বক্তব্যে। দেশের প্রায় ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরাপত্তাকর্মী নেই—এই বাস্তবতায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু করলেও সেটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তাই প্রযুক্তির আগে মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

আরও একটি বড় পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি—প্রাথমিক শিক্ষাকে ধাপে ধাপে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করা এবং সেটিকে অবৈতনিক রাখা। একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

এই আলোচনায় অংশ নেওয়া গণসাক্ষরতা অভিযান শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়। তাদের দাবি, জাতীয় বাজেটে শিক্ষার জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির অন্তত ২.৫ শতাংশ কিংবা মোট বাজেটের ২০ শতাংশ করা উচিত।

কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা শুধু কারিকুলাম বদলের নয়—শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার। একটা শিশুর হাতে যদি গাইড বইয়ের বদলে গল্পের বই উঠে আসে, যদি পরীক্ষার ভয়ের বদলে শেখার আনন্দ জায়গা নেয়—তাহলেই হয়তো বদলে যাবে সেই শ্রেণিকক্ষের দৃশ্য, বদলে যাবে একটি প্রজন্মের পথচলা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মুখস্থ নয়, খেলতে খেলতে শেখা—প্রাথমিক শিক্ষায় বড় পরিবর্তন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

শহরের এক কোণে, ছোট্ট একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বসে আছে শিশুরা। সামনে খোলা বই, পাশে গাইড—মুখস্থ করা উত্তরের চাপ যেন তাদের শৈশবটাকেই ধীরে ধীরে সংকুচিত করে দিচ্ছে। সেই বাস্তবতাকেই বদলানোর ইঙ্গিত দিল সরকার।

বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, কোচিং-নোট-গাইডের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা হবে। শুধু তাই নয়, প্রাথমিক শিক্ষায় আনা হবে নতুন কারিকুলাম—যেখানে পড়াশোনা হবে একটু অন্যরকম।

তার ভাষায়, “শিশুরা খেলতে খেলতে শিখবে, গল্পের মাধ্যমে শিখবে।” অর্থাৎ, পড়াশোনা আর কেবল পরীক্ষার খাতা ভরানোর বিষয় থাকবে না; বরং শেখার প্রক্রিয়াটাই হবে আনন্দময়।

তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই পরিবর্তন হঠাৎ করে নয়। দীর্ঘ আলোচনা, পরিকল্পনা এবং বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়েই ধাপে ধাপে নতুন কারিকুলাম চালু করা হবে।

কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ যে শুধু বইয়ের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, সেটাও উঠে এসেছে তার বক্তব্যে। দেশের প্রায় ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরাপত্তাকর্মী নেই—এই বাস্তবতায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু করলেও সেটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তাই প্রযুক্তির আগে মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

আরও একটি বড় পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি—প্রাথমিক শিক্ষাকে ধাপে ধাপে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করা এবং সেটিকে অবৈতনিক রাখা। একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

এই আলোচনায় অংশ নেওয়া গণসাক্ষরতা অভিযান শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়। তাদের দাবি, জাতীয় বাজেটে শিক্ষার জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির অন্তত ২.৫ শতাংশ কিংবা মোট বাজেটের ২০ শতাংশ করা উচিত।

কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা শুধু কারিকুলাম বদলের নয়—শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার। একটা শিশুর হাতে যদি গাইড বইয়ের বদলে গল্পের বই উঠে আসে, যদি পরীক্ষার ভয়ের বদলে শেখার আনন্দ জায়গা নেয়—তাহলেই হয়তো বদলে যাবে সেই শ্রেণিকক্ষের দৃশ্য, বদলে যাবে একটি প্রজন্মের পথচলা।