ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রামপালে জমি অধিগ্রহণে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দাবিতে মানববন্ধন ভাঙ্গুড়ায় নবাগত ইউএনওর সঙ্গে সাংবাদিকদের সৌজন্য সাক্ষাৎ স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটি খেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ এনসিপির ২ নেত্রীর মনোনয়ন স্থগিত ও বাতিল যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া সিটি প্রশাসকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান দিঘলিয়ায় ৫০০ কৃষকের মাঝে আউশ বীজ ও সার বিতরণ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা আমদানি করা হয়নি : প্রধানমন্ত্রী হাতিয়াতে ১৬০০ লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ, একজন গ্রেপ্তার তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর প্রথম গ্রেপ্তার, ওয়ারেন্ট অফিসার রিমান্ডে বাধ্যতামূলক অবসরে পুলিশের ১৩ ডিআইজি

দেড় মাসের শিশুসহ মা কারাগার থেকে মুক্তি—আদালতে মানবিকতার জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:২৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকার আদালত চত্বর মঙ্গলবার ছিল এক অদ্ভুত টানাপোড়েনে ভরা—একদিকে আইনের কঠোর ভাষা, অন্যদিকে মানবিকতার নরম স্পর্শ।

শিল্পী বেগম, যিনি বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে সকালেই কারাগারে পাঠানো হয়েছিলেন, চার ঘণ্টা পরই আদালতের সিদ্ধান্তে মুক্তি পান।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শুনানিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক বিবেচনায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে সকালে অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন। সেই সময় আদালত কক্ষেই ছিল এক অন্যরকম দৃশ্য—দেড় মাস বয়সী সন্তানকে কোলে নিয়ে কান্নাভেজা চোখে দাঁড়িয়ে থাকা এক মা।

সেই শিশুটি—কাইফা ইসলাম সিমরান—মায়ের কোলে থেকেই আদালত প্রাঙ্গণের এই টানাপোড়েনের সাক্ষী হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, মামলায় তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে আটক রাখা প্রয়োজন। অন্যদিকে তার আইনজীবী মানবিক দিক তুলে ধরে বলেন, সদ্য অস্ত্রোপচার এবং এত ছোট শিশুর দায়িত্ব—এই অবস্থায় কারাবাস কঠিন হয়ে পড়বে।

মামলার পেছনের অভিযোগও বেশ গুরুতর। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় এক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় পরবর্তী সময়ে তার বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব ঘটনায় তার ভূমিকা ছিল।

তবু শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বিতীয় সিদ্ধান্তে মানবিকতা প্রাধান্য পায়। কারাগারের পথে যাওয়া যাত্রা থেমে যায়, অন্তত আপাতত।

আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত অনেকের চোখে তখন একটাই প্রশ্ন—আইনের কঠোরতা আর মানবিকতার ভারসাম্য কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, যখন একজন মা আর তার শিশুর জীবন একই সঙ্গে বিচারাধীন হয়ে পড়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দেড় মাসের শিশুসহ মা কারাগার থেকে মুক্তি—আদালতে মানবিকতার জয়

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:২৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকার আদালত চত্বর মঙ্গলবার ছিল এক অদ্ভুত টানাপোড়েনে ভরা—একদিকে আইনের কঠোর ভাষা, অন্যদিকে মানবিকতার নরম স্পর্শ।

শিল্পী বেগম, যিনি বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে সকালেই কারাগারে পাঠানো হয়েছিলেন, চার ঘণ্টা পরই আদালতের সিদ্ধান্তে মুক্তি পান।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শুনানিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক বিবেচনায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে সকালে অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন। সেই সময় আদালত কক্ষেই ছিল এক অন্যরকম দৃশ্য—দেড় মাস বয়সী সন্তানকে কোলে নিয়ে কান্নাভেজা চোখে দাঁড়িয়ে থাকা এক মা।

সেই শিশুটি—কাইফা ইসলাম সিমরান—মায়ের কোলে থেকেই আদালত প্রাঙ্গণের এই টানাপোড়েনের সাক্ষী হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, মামলায় তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে আটক রাখা প্রয়োজন। অন্যদিকে তার আইনজীবী মানবিক দিক তুলে ধরে বলেন, সদ্য অস্ত্রোপচার এবং এত ছোট শিশুর দায়িত্ব—এই অবস্থায় কারাবাস কঠিন হয়ে পড়বে।

মামলার পেছনের অভিযোগও বেশ গুরুতর। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় এক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় পরবর্তী সময়ে তার বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব ঘটনায় তার ভূমিকা ছিল।

তবু শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বিতীয় সিদ্ধান্তে মানবিকতা প্রাধান্য পায়। কারাগারের পথে যাওয়া যাত্রা থেমে যায়, অন্তত আপাতত।

আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত অনেকের চোখে তখন একটাই প্রশ্ন—আইনের কঠোরতা আর মানবিকতার ভারসাম্য কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, যখন একজন মা আর তার শিশুর জীবন একই সঙ্গে বিচারাধীন হয়ে পড়ে।