ঢাকা ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

গরমে হঠাৎ বুকব্যথা—গ্যাস নাকি হৃদরোগ? বুঝবেন কীভাবে

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩০:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গরমে হাঁসফাঁসের সঙ্গে হঠাৎ বুকব্যথা—এই অভিজ্ঞতায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বুকের অস্বস্তি মানেই যে হৃদরোগ, তা নয়; আবার এটিকে শুধুই গ্যাসের সমস্যা ভেবে অবহেলা করাও ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকদের মতে, এই দুই ধরনের ব্যথার মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি, কারণ ভুল সিদ্ধান্ত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

কার্ডিয়াক বিশেষজ্ঞ ডা. অখিল কুমার রুস্তাগীর ভাষায়, গ্যাসজনিত ব্যথা সাধারণত জ্বালাপোড়া ধরনের হয়। খাবারের পর এ ধরনের অস্বস্তি বেশি দেখা যায় এবং ঢেঁকুর বা বায়ু নির্গমনের পর কিছুটা উপশম মিলতে পারে।

অন্যদিকে হৃদরোগজনিত বুকব্যথা ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। এতে বুকের ভেতরে চাপ বা টান অনুভূত হয়, যা হাত, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে যেতে পারে। এই ব্যথা সহজে কমে না এবং এর সঙ্গে অতিরিক্ত ঘাম, শ্বাসকষ্ট বা বমিভাব থাকতে পারে।

বিশেষ কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হওয়া জরুরি। যেমন—বুকে ভারী চাপ, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, অস্বাভাবিক ঘাম, মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব। ব্যথা কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে বা কাজের সময় কিংবা মানসিক চাপের মধ্যে শুরু হলে সেটি হৃদরোগের ইঙ্গিত হতে পারে।

অ্যাসিডিটি ও হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ অনেক সময় কাছাকাছি হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তবে সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো লক্ষ্য করলে ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। হঠাৎ বুকজ্বালা বা ব্যথা উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই শারীরিক জটিলতা রয়েছে, তাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, উপসর্গ গুরুতর মনে হলে বা ব্যথা কমতে না চাইলে দেরি না করে পরীক্ষা করানোই নিরাপদ। বুকে অস্বাভাবিক কোনো ব্যথা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়—বিশেষ করে বয়স বেশি, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গরমে হঠাৎ বুকব্যথা—গ্যাস নাকি হৃদরোগ? বুঝবেন কীভাবে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩০:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

গরমে হাঁসফাঁসের সঙ্গে হঠাৎ বুকব্যথা—এই অভিজ্ঞতায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বুকের অস্বস্তি মানেই যে হৃদরোগ, তা নয়; আবার এটিকে শুধুই গ্যাসের সমস্যা ভেবে অবহেলা করাও ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকদের মতে, এই দুই ধরনের ব্যথার মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি, কারণ ভুল সিদ্ধান্ত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

কার্ডিয়াক বিশেষজ্ঞ ডা. অখিল কুমার রুস্তাগীর ভাষায়, গ্যাসজনিত ব্যথা সাধারণত জ্বালাপোড়া ধরনের হয়। খাবারের পর এ ধরনের অস্বস্তি বেশি দেখা যায় এবং ঢেঁকুর বা বায়ু নির্গমনের পর কিছুটা উপশম মিলতে পারে।

অন্যদিকে হৃদরোগজনিত বুকব্যথা ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। এতে বুকের ভেতরে চাপ বা টান অনুভূত হয়, যা হাত, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে যেতে পারে। এই ব্যথা সহজে কমে না এবং এর সঙ্গে অতিরিক্ত ঘাম, শ্বাসকষ্ট বা বমিভাব থাকতে পারে।

বিশেষ কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হওয়া জরুরি। যেমন—বুকে ভারী চাপ, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, অস্বাভাবিক ঘাম, মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব। ব্যথা কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে বা কাজের সময় কিংবা মানসিক চাপের মধ্যে শুরু হলে সেটি হৃদরোগের ইঙ্গিত হতে পারে।

অ্যাসিডিটি ও হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ অনেক সময় কাছাকাছি হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তবে সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো লক্ষ্য করলে ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। হঠাৎ বুকজ্বালা বা ব্যথা উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই শারীরিক জটিলতা রয়েছে, তাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, উপসর্গ গুরুতর মনে হলে বা ব্যথা কমতে না চাইলে দেরি না করে পরীক্ষা করানোই নিরাপদ। বুকে অস্বাভাবিক কোনো ব্যথা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়—বিশেষ করে বয়স বেশি, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।