ঢাকা ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবু সাঈদ হত্যা

দুই পুলিশের মৃত্যুদণ্ড, ২৮ জনের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় বাকি ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার আগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় পড়া শুরু হয়। বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ ও আরও দুই শিক্ষককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয়েছে তিন পুলিশ সদস্যকে। এ ছাড়া রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ সভাপতি পমেল বড়ুয়াকে ১০ বছর সাজা দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের রংপুরের সভাপতি ডাক্তার মো. সারোয়াত হোসেন ওরফে চন্দনকে ৫ বছর, আরএমপির সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টুর ১০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর বেরোবির সাবেক প্রক্টর মো শরীফুল ইসলামকে খালাস পেয়েছেন।

এরআগে আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। রায় উপলক্ষে ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। এই মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রংপুরের পুলিশ কমিশনারসহ মোট আসামি ৩০ জন।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে মারা যান আবু সাঈদ। তার হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গেল বছরের ৬ আগস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচার।

মামলার প্রধান আসামি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সে-সময়ের উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ। তালিকায় আরও আছেন ৪ শিক্ষক, আরএমপির সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামানসহ ৮ পুলিশ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার মাত্র ৬ জন।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি চিকিৎসক মো.সরোয়ার হোসেনও (চন্দন) পলাতক। এ ছাড়া রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ সম্পাদক মো.মাহাফুজুর রহমান, সহসভাপতি মো.ফজলে রাব্বি, সহসভাপতি মো.আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার, দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.মাসুদুল হাসান এ মামলার পলাতক আসামি।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তাঁকে হত্যার ভিডিও সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে।

ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন আর পুলিশ তাঁর বুকে একের পর এক গুলি করছে। এ হত্যাকাণ্ড আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং সারা দেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

আবু সাঈদ হত্যায় ঊর্ধ্বতন নির্দেশদাতা হিসেবে এরই মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

এই রায়ের মাধ্যমে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন হলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আবু সাঈদ হত্যা

দুই পুলিশের মৃত্যুদণ্ড, ২৮ জনের কারাদণ্ড

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় বাকি ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার আগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় পড়া শুরু হয়। বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ ও আরও দুই শিক্ষককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয়েছে তিন পুলিশ সদস্যকে। এ ছাড়া রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ সভাপতি পমেল বড়ুয়াকে ১০ বছর সাজা দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের রংপুরের সভাপতি ডাক্তার মো. সারোয়াত হোসেন ওরফে চন্দনকে ৫ বছর, আরএমপির সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টুর ১০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর বেরোবির সাবেক প্রক্টর মো শরীফুল ইসলামকে খালাস পেয়েছেন।

এরআগে আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। রায় উপলক্ষে ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। এই মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রংপুরের পুলিশ কমিশনারসহ মোট আসামি ৩০ জন।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে মারা যান আবু সাঈদ। তার হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গেল বছরের ৬ আগস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচার।

মামলার প্রধান আসামি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সে-সময়ের উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ। তালিকায় আরও আছেন ৪ শিক্ষক, আরএমপির সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামানসহ ৮ পুলিশ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার মাত্র ৬ জন।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি চিকিৎসক মো.সরোয়ার হোসেনও (চন্দন) পলাতক। এ ছাড়া রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ সম্পাদক মো.মাহাফুজুর রহমান, সহসভাপতি মো.ফজলে রাব্বি, সহসভাপতি মো.আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার, দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো.মাসুদুল হাসান এ মামলার পলাতক আসামি।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তাঁকে হত্যার ভিডিও সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে।

ভিডিওতে দেখা যায়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন আর পুলিশ তাঁর বুকে একের পর এক গুলি করছে। এ হত্যাকাণ্ড আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং সারা দেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

আবু সাঈদ হত্যায় ঊর্ধ্বতন নির্দেশদাতা হিসেবে এরই মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

এই রায়ের মাধ্যমে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন হলো।