টেংরাটিলা বিস্ফোরণ মামলা
আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশের জয়, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে নাইকোকে
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
২০০৫ সালের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ মামলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ওয়াশিংটনভিত্তিক ট্রাইব্যুনাল International Centre for Settlement of Investment Disputes (ইকসিড) রায়ে কানাডীয় কোম্পানি Niko Resources-কে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী Rezanur Rahman বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, ইকসিডের রায়ে প্রায় ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে যাওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশ ও অন্যান্য ক্ষতির জন্য অতিরিক্ত ২ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে বলা হয়েছে নাইকোকে।
সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তী সময়ে এখান থেকে গ্যাস উত্তোলন করে ছাতক সিমেন্ট ও পেপার মিলে সরবরাহ করা হতো। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০০৩ সালে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় নাইকোকে। তবে খনন কাজ শুরু হওয়ার পর ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন পরপর দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে গ্যাসক্ষেত্রের বিপুল ক্ষতি হয়।
এ ঘটনায় পেট্রোবাংলা ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও তা অস্বীকার করে নাইকো। পরে ২০০৭ সালে দেশে মামলা দায়ের করা হয় এবং নাইকোর গ্যাস বিল পরিশোধ স্থগিত করা হয়। উচ্চ আদালত নাইকোর সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেয়, যা পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টেও বহাল থাকে।
এদিকে ২০১০ সালে নাইকো ইকসিডে পাল্টা মামলা করে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে Bangladesh Petroleum Exploration and Production Company Limited (বাপেক্স) ক্ষতিপূরণ দাবি করে নতুন মামলা করে। সেই মামলার চূড়ান্ত রায়েই এবার বাংলাদেশের পক্ষে সিদ্ধান্ত এলো।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছে, খনন কার্যক্রম নাইকোর তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হচ্ছিল এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণে ব্যর্থতা ও প্রয়োজনীয় সতর্কতার অভাবেই বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে এ ঘটনার জন্য সরাসরি দায়ী নাইকো।
উল্লেখ্য, টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ছাতক পূর্ব ও ছাতক পশ্চিম—এই দুই ভাগে বিভক্ত। বিস্ফোরণে পশ্চিম অংশের একটি স্তরের গ্যাস ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্যান্য স্তর এবং পূর্ব অংশ অক্ষত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ গ্যাসক্ষেত্রে সম্ভাব্য মজুদ ২ থেকে ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, নতুন কূপ খননের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত রয়েছে। ইকসিডের চূড়ান্ত রায়ের পর এখন আইনগত পরামর্শ নিয়ে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




















