কুমিরের আক্রমণে কুকুরের মৃত্যু নিয়ে তদন্তে নতুন তথ্য
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩৭:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘীতে কুমিরের আক্রমণে কুকুরের মৃত্যুর ঘটনায় করা তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। জেলা প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারা যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল এবং ঘটনাটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানোর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গত ৮ এপ্রিল বিকেলে মাজার ঘাট এলাকা থেকে একটি কুকুরকে দিঘীতে থাকা কুমির ‘ধলা পাহাড়’ শিকার করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর কুকুরের মৃত্যুর কারণ ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।
পরিস্থিতি ঘিরে জেলা প্রশাসন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তথ্য সংগ্রহ ও প্রাসঙ্গিক নথিপত্র বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন দাখিল করে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে দেওয়া হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং কুকুরটি দুর্ঘটনাবশত পানিতে পড়ে যাওয়ার পর কুমিরের আক্রমণের শিকার হয় বলে ধারণা করা হয়েছে।
এর আগে ১১ এপ্রিল কুকুরটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় এবং নমুনা সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে (সিডিআইএল) পাঠানো হয়। সেখান থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়, কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার মতে, কুকুরটি একাধিক ব্যক্তিকে কামড় দিয়েছে, ফলে তাদের মধ্যে জলাতঙ্ক সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্টরা টিকা গ্রহণ করায় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো গেছে বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে, তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, কুমিরের জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। তবে আক্রান্ত কুকুরের সংস্পর্শে আসা মানুষের টিকা গ্রহণ জরুরি।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে কুকুরকে কুমিরের মুখে দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।




















