লটারি পদ্ধতি বাদ দিয়ে আবার ভর্তি পরীক্ষার চিন্তা করছে সরকার
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:২৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে চালু থাকা লটারি পদ্ধতি বাদ দিয়ে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা চালুর বিষয়ে ভাবছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহাদী আমিন জানিয়েছেন, মেধা যাচাইয়ের ভিত্তিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘নির্বাচনী ইশতিহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষাখাত’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে রোববার সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান লটারি পদ্ধতি মেধাকে অবমূল্যায়ন করছে কি না—এ প্রশ্ন তোলেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, লটারি পদ্ধতির কার্যকারিতা সরকার পুনর্বিবেচনা করছে এবং প্রয়োজনে এটি বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, লটারি পদ্ধতি বাতিল করে আবার মেধাভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হবে কি না—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে ২০২৭ সালে। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের বাস্তবতা ভিন্ন। বড় শহরগুলোতে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে অতীতে লটারি পদ্ধতি চালু করা হলেও এর যৌক্তিকতা নিয়ে বর্তমান সরকার নতুন করে ভাবছে।
ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিতে সেমিনার ও আলোচনা আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি। এসব মতামতের ভিত্তিতে ২০২৭ সালের জানুয়ারির ভর্তি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে।
এদিকে শিক্ষাখাতে জনবল সংকট নিরসনে প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তবে নিয়োগের যোগ্যতা ও সনদসংক্রান্ত কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিবর্তে বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়নের ওপরই সরকার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলছে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে লটারি পদ্ধতির পরিবর্তে আবার মেধাভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হতে পারে।





















