ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলের রাজধানীতে ১০০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির আশা

শহিদুল ইসলাম দইচ, যশোর
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ৩০৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রায় প্রতিদিন সকালেই ফুলের রাজধানী যশোরের ঝিকরগাছা গদখালীতে বসে নানা ফুলের মেলা। চাষিরা তাদের উৎপাদিত গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদা ফুল নিয়ে আসেন।

অন্যান্য ফুলের চেয়ে শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) গোলাপ একটু বেশি দামে বিক্রিকেরেছেন চাষিরা। তিন চারদিন আগেও তারা গোলাপ বিক্রি করেন ৫ থেকে সাড়ে ৬ টাকা দরে। কিন্তু শুক্রবার ৭ টাকা থেকে ১০ টাকা দরে। আর চায়না গোলাপ ২৫ টাকা বিক্রি করেছেন।

20250207 095259

চাষিদের দাবি, বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে আগামী ১১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি গোলাপের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা দাম পেতে পারেন। অবশ্য, গতবছর তারা ২২ থেকে ২৫ টাকা পিস দেশি লাল গোলাপ বিক্রি করেছেন।

ফেব্রুয়ারিতে পহেলা ফাগুন, ভালোবাসা দিবস আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে আশান্বিত ফুল ব্যবসায়ের সঙ্গে সম্পৃক্তরা। তাদের আশা, মৌসুমে যে একশ’ কোটি টাকা ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা তাদের ছিল, সেটি পূরণ হবে।

গদখালী ইউনিয়নের কোটাপাড়া এলাকার গোলাম হোসেন এবছর ২৫ কাঠা জমিতে গোলাপের চাষ করেছেন, গাঁদা এক বিঘায়। এবার গাঁদা বিক্রি করছেন ৪০০ টাকা হাজার (হলুদ রঙ) আর খয়েরিরঙা ৩০০ টাকা দরে। গোলাপ বিক্রি করেছেন একশ’ ৭০০ টাকা দরে।

20250207 082045

এবার খুব সকালে এসেও ফুল বিক্রি করতে বেশ সময় লেগেছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত বছর এই সময় বাজারে আসার সাথে সাথেই বিক্রি হয়ে গেছিল। কিন্তু এবার বাজারে প্রচুর আমদানি থাকায় বিক্রি করতে দেরি হচ্ছে।

পানিসারা ইউনিয়নের নারাঙ্গালি গ্রামের কিতাব আলী দেড় বিঘা জমিতে গোলাপ চাষ করছেন। আজ ৭০০ পিস এনেছেন, বিক্রি করেছেন ৯ টাকা দরে। তিনি বলেন, প্রথমদিকে গোলাপের দাম বেশ কম পাচ্ছিলাম। ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে দাম বাড়ছে। ক্ষেতে যে ফুল রয়েছে, তা আগামীতে ১৫-১৬ টাকা দরে বিক্রি হবে বলে আশা করছি। গোলাপের দাম মূলত সাইজ, রঙ ও সৌন্দর্য্যের উপর নির্ভর করে বলে তিনি জানান।

টাওরা গ্রামের ফুলচাষি কামাল সরকার বলেন, আমার কাছে যে চায়না গোলাপ রয়েছে, তার দাম ২৫ টাকা। দেখতে সুন্দর ও বেশ কয়েকদিন রাখা যায় বলে এর দাম বেশি। ২৫ কাঠা জমিতে রয়েছে চায়না গোলাপ। আশা করছি, ১৪ ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে ৩০ টাকার বেশি দাম পাবো এই গোলাপের।

পানিসারার বর্ণি গ্রামের রবিউল ইসলাম দীর্ঘ ৫ বছর পর আবার ফুলের চাষ করেছেন। এক বিঘায় গোলাপ আর এক বিঘায় গাঁদা। আজ ৫০০ পিস এনেছিলেন, দাম পেয়েছেন সাড়ে সাত টাকা করে। নীলকণ্ঠনগরের মো. সুজন দেশি সাদা গোলাপ করেছেন দেড় বিঘায়। ৫০০ পিস বিক্রি করেছেন দশ টাকা দরে।

20250207 080157

পটুয়াপড়ার আব্দুল হান্নান সাদা ও হলুদ চন্দ্রমল্লিকা এনেছেন ৮০০ পিস। বিক্রি করেছেন দুই টাকা দরে, জারবেরা রঙ ভেদে ৪-৬ টাকা আর জিপসি প্রতি আঁটি দশ টাকা দরে।

গদখালীর পলাশ আহমেদ নিয়ে এসেছিলেন গ্লাডিওলাস, প্রতি পিস গ্লাডিওলাস ৩-৪ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তিনি আশা করছেন, ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে ৮-৯ টাকা দাম পাওয়া যাবে।

গদখালীর আড়তদার রফিকুল ইসলাম ফুলের বাজার সম্পর্কে বললেন, খুব বেশি ভালো বলা যাচ্ছে না। এবার তিন দফায় ইজতেমা, ১৪ ফেব্রুয়ারিতে শবে বরাত অনুষ্ঠান থাকায় বেশ চিন্তিত রয়েছি। তবুও গোলাপ ৩০ হাজার পিস আর গাঁদা ৫০ হাজার বিক্রি হবে বলে মনে করছি। এখন যে দাম, তার দ্বিগুণ পাবো বলে আশা রয়েছে।

নীলকণ্ঠনগরের ফুলচাষি জবেদ আলীর মতে, মাঝে একটু গরম পড়ায় গোলাপ দ্রুত ফুটেছে। সেকারণে বাজারে গোলাপের আমদানি বেশি। আর বেশি বেশি আমদানির কারণে দাম একটু পড়ে গেছে। গতবছর ভালোবাসা দিবসে তিনি ২৫ টাকা পর্যন্ত দাম পেয়েছিলেন, এবার ১৫ টাকার বেশি হবে বলে মনে হচ্ছে না।

জানতে চাইলে গদখালী ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর বলেন, আগামী তিন দিবসকে সামনে রেখে চাষিদের প্রস্তুতি বেশ ভালো রয়েছে। মাঝে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গোলাপের দাম একটু কম থাকলেও দিন যতো যাচ্ছে দাম ততো বাড়ছে। প্রতিটি ক্ষেতে পর্যাপ্ত ফুল রয়েছে। আশা করছি, ফুল বিক্রির যে শত কোটি টাকার টার্গেট তা পূরণ হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, ভালোবাসা দিবসে মূলত গোলাপের চাহিদা থাকে বেশি। পহেলা জানুয়ারি থেকে পহেলা বৈশাখ পর্যন্ত আমাদের যে একশ’ কোটি টাকা ফুল বিক্রির লক্ষ্য, তা পূরণ হবে বলে আশা করছি।

ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গদখালী ও পানিসারা এলাকার প্রায় ৬৩০ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ করেন প্রায় চার হাজার চাষি। তাদের নিরাপদ জৈব বালাইনাশক ব্যবহার, শেড তৈরিসহ বিভিন্ন রকমের সাপোর্ট আমরা দিয়ে আসছি। সরকারকে জানিয়েছি, ফুলের বিকল্প ব্যবহারের নিমিত্তে কিছু প্রকল্প যাতে নেওয়া হয়। বিদেশে যেমন ফুল দিয়ে নানা প্রসাধন, সৌরভ ইত্যাদি তৈরি করা হয়, তেমন কিছু যাতে আমরা এখানেও করতে পারি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ফুলের রাজধানীতে ১০০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির আশা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

প্রায় প্রতিদিন সকালেই ফুলের রাজধানী যশোরের ঝিকরগাছা গদখালীতে বসে নানা ফুলের মেলা। চাষিরা তাদের উৎপাদিত গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদা ফুল নিয়ে আসেন।

অন্যান্য ফুলের চেয়ে শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) গোলাপ একটু বেশি দামে বিক্রিকেরেছেন চাষিরা। তিন চারদিন আগেও তারা গোলাপ বিক্রি করেন ৫ থেকে সাড়ে ৬ টাকা দরে। কিন্তু শুক্রবার ৭ টাকা থেকে ১০ টাকা দরে। আর চায়না গোলাপ ২৫ টাকা বিক্রি করেছেন।

20250207 095259

চাষিদের দাবি, বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে আগামী ১১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি গোলাপের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা দাম পেতে পারেন। অবশ্য, গতবছর তারা ২২ থেকে ২৫ টাকা পিস দেশি লাল গোলাপ বিক্রি করেছেন।

ফেব্রুয়ারিতে পহেলা ফাগুন, ভালোবাসা দিবস আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে আশান্বিত ফুল ব্যবসায়ের সঙ্গে সম্পৃক্তরা। তাদের আশা, মৌসুমে যে একশ’ কোটি টাকা ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা তাদের ছিল, সেটি পূরণ হবে।

গদখালী ইউনিয়নের কোটাপাড়া এলাকার গোলাম হোসেন এবছর ২৫ কাঠা জমিতে গোলাপের চাষ করেছেন, গাঁদা এক বিঘায়। এবার গাঁদা বিক্রি করছেন ৪০০ টাকা হাজার (হলুদ রঙ) আর খয়েরিরঙা ৩০০ টাকা দরে। গোলাপ বিক্রি করেছেন একশ’ ৭০০ টাকা দরে।

20250207 082045

এবার খুব সকালে এসেও ফুল বিক্রি করতে বেশ সময় লেগেছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত বছর এই সময় বাজারে আসার সাথে সাথেই বিক্রি হয়ে গেছিল। কিন্তু এবার বাজারে প্রচুর আমদানি থাকায় বিক্রি করতে দেরি হচ্ছে।

পানিসারা ইউনিয়নের নারাঙ্গালি গ্রামের কিতাব আলী দেড় বিঘা জমিতে গোলাপ চাষ করছেন। আজ ৭০০ পিস এনেছেন, বিক্রি করেছেন ৯ টাকা দরে। তিনি বলেন, প্রথমদিকে গোলাপের দাম বেশ কম পাচ্ছিলাম। ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে দাম বাড়ছে। ক্ষেতে যে ফুল রয়েছে, তা আগামীতে ১৫-১৬ টাকা দরে বিক্রি হবে বলে আশা করছি। গোলাপের দাম মূলত সাইজ, রঙ ও সৌন্দর্য্যের উপর নির্ভর করে বলে তিনি জানান।

টাওরা গ্রামের ফুলচাষি কামাল সরকার বলেন, আমার কাছে যে চায়না গোলাপ রয়েছে, তার দাম ২৫ টাকা। দেখতে সুন্দর ও বেশ কয়েকদিন রাখা যায় বলে এর দাম বেশি। ২৫ কাঠা জমিতে রয়েছে চায়না গোলাপ। আশা করছি, ১৪ ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে ৩০ টাকার বেশি দাম পাবো এই গোলাপের।

পানিসারার বর্ণি গ্রামের রবিউল ইসলাম দীর্ঘ ৫ বছর পর আবার ফুলের চাষ করেছেন। এক বিঘায় গোলাপ আর এক বিঘায় গাঁদা। আজ ৫০০ পিস এনেছিলেন, দাম পেয়েছেন সাড়ে সাত টাকা করে। নীলকণ্ঠনগরের মো. সুজন দেশি সাদা গোলাপ করেছেন দেড় বিঘায়। ৫০০ পিস বিক্রি করেছেন দশ টাকা দরে।

20250207 080157

পটুয়াপড়ার আব্দুল হান্নান সাদা ও হলুদ চন্দ্রমল্লিকা এনেছেন ৮০০ পিস। বিক্রি করেছেন দুই টাকা দরে, জারবেরা রঙ ভেদে ৪-৬ টাকা আর জিপসি প্রতি আঁটি দশ টাকা দরে।

গদখালীর পলাশ আহমেদ নিয়ে এসেছিলেন গ্লাডিওলাস, প্রতি পিস গ্লাডিওলাস ৩-৪ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তিনি আশা করছেন, ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে ৮-৯ টাকা দাম পাওয়া যাবে।

গদখালীর আড়তদার রফিকুল ইসলাম ফুলের বাজার সম্পর্কে বললেন, খুব বেশি ভালো বলা যাচ্ছে না। এবার তিন দফায় ইজতেমা, ১৪ ফেব্রুয়ারিতে শবে বরাত অনুষ্ঠান থাকায় বেশ চিন্তিত রয়েছি। তবুও গোলাপ ৩০ হাজার পিস আর গাঁদা ৫০ হাজার বিক্রি হবে বলে মনে করছি। এখন যে দাম, তার দ্বিগুণ পাবো বলে আশা রয়েছে।

নীলকণ্ঠনগরের ফুলচাষি জবেদ আলীর মতে, মাঝে একটু গরম পড়ায় গোলাপ দ্রুত ফুটেছে। সেকারণে বাজারে গোলাপের আমদানি বেশি। আর বেশি বেশি আমদানির কারণে দাম একটু পড়ে গেছে। গতবছর ভালোবাসা দিবসে তিনি ২৫ টাকা পর্যন্ত দাম পেয়েছিলেন, এবার ১৫ টাকার বেশি হবে বলে মনে হচ্ছে না।

জানতে চাইলে গদখালী ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর বলেন, আগামী তিন দিবসকে সামনে রেখে চাষিদের প্রস্তুতি বেশ ভালো রয়েছে। মাঝে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গোলাপের দাম একটু কম থাকলেও দিন যতো যাচ্ছে দাম ততো বাড়ছে। প্রতিটি ক্ষেতে পর্যাপ্ত ফুল রয়েছে। আশা করছি, ফুল বিক্রির যে শত কোটি টাকার টার্গেট তা পূরণ হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, ভালোবাসা দিবসে মূলত গোলাপের চাহিদা থাকে বেশি। পহেলা জানুয়ারি থেকে পহেলা বৈশাখ পর্যন্ত আমাদের যে একশ’ কোটি টাকা ফুল বিক্রির লক্ষ্য, তা পূরণ হবে বলে আশা করছি।

ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গদখালী ও পানিসারা এলাকার প্রায় ৬৩০ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ করেন প্রায় চার হাজার চাষি। তাদের নিরাপদ জৈব বালাইনাশক ব্যবহার, শেড তৈরিসহ বিভিন্ন রকমের সাপোর্ট আমরা দিয়ে আসছি। সরকারকে জানিয়েছি, ফুলের বিকল্প ব্যবহারের নিমিত্তে কিছু প্রকল্প যাতে নেওয়া হয়। বিদেশে যেমন ফুল দিয়ে নানা প্রসাধন, সৌরভ ইত্যাদি তৈরি করা হয়, তেমন কিছু যাতে আমরা এখানেও করতে পারি।