ঢাকা ১০:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৭ নভেম্বর: যেভাবে ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে জিয়াউর রহমান আজ ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা কুমিরের আক্রমণে বদলে গেল মৃত্যুর সিদ্ধান্ত, বাঁচার আকুতিতে চিৎকার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ও বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন গোলাম মাওলা রনি নোয়াখালীতে অটোরিকশার ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু তরিকুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকীতে দড়াটানা মসজিদে দোয়া মাহফিল ৭ নভেম্বরের চেতনাই হোক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা: প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি, বৈষম্য ও ষড়যন্ত্রের অবসানে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আজ ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সারা দেশে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মসজিদে বিশেষ মোনাজাত ও উপাসনালয়ে প্রার্থনা; ঢাকায় বিএনপির শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছয় ঘণ্টা টোলমুক্ত থাকবে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে।

আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপনে সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ সারা দেশে সাধারণ ছুটি। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনেও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্র অনুযায়ী, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। একই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব দূতাবাস ও মিশনে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকায় ৭ নভেম্বরকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এদিন সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব তফশিলি ব্যাংকও বন্ধ থাকবে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

ঢাকায় বিএনপির শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী

দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে আয়োজিত শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলছে।

শুক্রবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, ৭ নভেম্বর দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকালে তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যের পরই শোভাযাত্রা শুরু হবে।

রিজভী জানান, শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় অতিক্রম করবে। এরপর বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হবে।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বাইরে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন করেছে। শোভাযাত্রা সফল করতে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানান রিজভী।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বাণীতে তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও সব ষড়যন্ত্রের অবসানে কাজ করতে হবে। ৭ নভেম্বরের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে বলে জানান।

‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে দেশের সব নাগরিককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবে অংশ নেওয়া বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

বাণীতে তিনি ৭ নভেম্বরকে জাতীয় জীবনের অবিস্মরণীয় দিন ও দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথ সুগম হয় এবং বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, সিপাহি ও জনতার সংহতি ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাগরণ। একই চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটেছে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও। তাঁর দাবি, ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল। তাঁর ভাষ্য, সেদিন দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা পরাজিত হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে দিনটি ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, অতীত নিয়ে সব সময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, আর অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ। তাই ইতিহাসচর্চায় সারাক্ষণ মগ্ন থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ভবিষ্যৎ নির্মাণে ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়াও ভুল।

বাণীতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত শক্তি পরবর্তী সময়ে মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। তাঁর দাবি, পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয় এবং জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়। হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের সেই শাসনের অবসান হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। ভবিষ্যতে কেউ যেন জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে বা দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত।

দেশজুড়ে সরকারি কর্মসূচি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে সরকার দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে দেশের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকায় সাজানো হবে।

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের সব মসজিদে সুবিধাজনক সময়ে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়েও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। এসব আয়োজনে জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করা হবে।

দেশের হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশুকেন্দ্র, শিশু পরিবার, শিশুসদন, কিশোর সংশোধন কেন্দ্র, শান্তি নিবাস ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুবিধাজনক সময়ে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় দেশের সব শিশু পার্ক দিনব্যাপী শিশুদের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত থাকবে।

নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ আলোচনা ও রচনা প্রতিযোগিতা।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ, সাহিত্য-সাময়িকী ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিওতে প্রচার করা হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সিনেমা হল ও ভ্যানের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হবে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেশাত্মবোধক গানের আসর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা এবং প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে বিশেষ স্মারক আলোচনা সভারও আয়োজন করা হবে।

সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবার অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ক্যাডেট কোরের তত্ত্বাবধানে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে প্রদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।

এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, কোস্ট গার্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, এনটিএমসি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদর দপ্তরে মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবারের আয়োজন করা হবে।

ছয় ঘণ্টা টোলমুক্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা টোল ছাড়াই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে পারবেন যানবাহন চালকেরা। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নির্ধারিত ছয় ঘণ্টা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী সব যানবাহনের জন্য টোল মওকুফ থাকবে।

এদিকে দিবসটি স্মরণে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে।

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭৫ সালের এদিন দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার সম্মিলিত বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। তাঁর মতে, ওই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আধিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয় এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত হয়। এ কারণেই ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আজ ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

সারা দেশে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মসজিদে বিশেষ মোনাজাত ও উপাসনালয়ে প্রার্থনা; ঢাকায় বিএনপির শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছয় ঘণ্টা টোলমুক্ত থাকবে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে।

আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপনে সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ সারা দেশে সাধারণ ছুটি। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনেও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিপত্র অনুযায়ী, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। একই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব দূতাবাস ও মিশনে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকায় ৭ নভেম্বরকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এদিন সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব তফশিলি ব্যাংকও বন্ধ থাকবে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

ঢাকায় বিএনপির শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী

দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে আয়োজিত শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলছে।

শুক্রবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, ৭ নভেম্বর দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকালে তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যের পরই শোভাযাত্রা শুরু হবে।

রিজভী জানান, শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় অতিক্রম করবে। এরপর বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হবে।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির বাইরে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন করেছে। শোভাযাত্রা সফল করতে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানান রিজভী।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বাণীতে তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও সব ষড়যন্ত্রের অবসানে কাজ করতে হবে। ৭ নভেম্বরের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে বলে জানান।

‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে দেশের সব নাগরিককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবে অংশ নেওয়া বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

বাণীতে তিনি ৭ নভেম্বরকে জাতীয় জীবনের অবিস্মরণীয় দিন ও দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথ সুগম হয় এবং বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, সিপাহি ও জনতার সংহতি ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাগরণ। একই চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটেছে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও। তাঁর দাবি, ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল। তাঁর ভাষ্য, সেদিন দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা পরাজিত হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে দিনটি ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, অতীত নিয়ে সব সময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, আর অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ। তাই ইতিহাসচর্চায় সারাক্ষণ মগ্ন থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ভবিষ্যৎ নির্মাণে ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়াও ভুল।

বাণীতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত শক্তি পরবর্তী সময়ে মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। তাঁর দাবি, পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয় এবং জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়। হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের সেই শাসনের অবসান হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। ভবিষ্যতে কেউ যেন জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে বা দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত।

দেশজুড়ে সরকারি কর্মসূচি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে সরকার দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে দেশের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকায় সাজানো হবে।

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের সব মসজিদে সুবিধাজনক সময়ে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়েও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। এসব আয়োজনে জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করা হবে।

দেশের হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশুকেন্দ্র, শিশু পরিবার, শিশুসদন, কিশোর সংশোধন কেন্দ্র, শান্তি নিবাস ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুবিধাজনক সময়ে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় দেশের সব শিশু পার্ক দিনব্যাপী শিশুদের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত থাকবে।

নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ আলোচনা ও রচনা প্রতিযোগিতা।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ, সাহিত্য-সাময়িকী ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিওতে প্রচার করা হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সিনেমা হল ও ভ্যানের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হবে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেশাত্মবোধক গানের আসর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দিবসের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা এবং প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে বিশেষ স্মারক আলোচনা সভারও আয়োজন করা হবে।

সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবার অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ক্যাডেট কোরের তত্ত্বাবধানে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে প্রদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।

এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, কোস্ট গার্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, এনটিএমসি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদর দপ্তরে মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবারের আয়োজন করা হবে।

ছয় ঘণ্টা টোলমুক্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা টোল ছাড়াই ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে পারবেন যানবাহন চালকেরা। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নির্ধারিত ছয় ঘণ্টা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী সব যানবাহনের জন্য টোল মওকুফ থাকবে।

এদিকে দিবসটি স্মরণে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে।

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭৫ সালের এদিন দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার সম্মিলিত বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। তাঁর মতে, ওই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আধিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয় এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত হয়। এ কারণেই ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।