৭ নভেম্বর: যেভাবে ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে জিয়াউর রহমান

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২০:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
১৯৭৫ সালের নভেম্বরের কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ বদলে দেয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি। ২ নভেম্বর জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি, ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থান, কারাগারে জাতীয় চার নেতা হত্যা এবং ৬ নভেম্বর রাতে পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ নতুন মোড় নেয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর একটি বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। পরবর্তী সময়ে তিনি দেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। কারও কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক, কারও কাছে এটি সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং রাজনৈতিক সংঘাতের ধারাবাহিক একটি অধ্যায়।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা, স্বাধীনতার ঘোষণা, সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং জেড ফোর্সের নেতৃত্ব তাঁকে সামরিক বাহিনী ও সাধারণ মানুষের একটি অংশের কাছে পরিচিত ও জনপ্রিয় করে তুলেছিল। ১৯৭৫ সালের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই জনপ্রিয়তাই তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসে।
তবে ৭ নভেম্বরের পটভূমি বুঝতে হলে ফিরে দেখতে হয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো। ওই কয়েক মাসে দেশে একের পর এক অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড এবং সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে ক্রমেই জটিল করে তোলে।
১৫ আগস্টের পর ক্ষমতার পালাবদল
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হন। অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ। তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সদ্য বিদায়ী সরকারের মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য তাঁর সরকারের সঙ্গে যুক্ত হন।
তৎকালীন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিডিআর, রক্ষীবাহিনী ও পুলিশ নেতৃত্বও নতুন সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। তবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলেও সামরিক বাহিনীর ভেতরে অস্থিরতা ও অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি।
বঙ্গভবনে ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সামরিক কর্মকর্তাদের প্রভাব এবং সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে ২৪ আগস্ট মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পান। একই সময়ে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এমএজি ওসমানীকে রাষ্ট্রপতির প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা করা হয়। তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের জন্য ‘চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ’ পদ সৃষ্টি করে সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয় তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক খলিলুর রহমানকে।
সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব কাঠামোয় এসব পরিবর্তন এবং বঙ্গভবনে ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের অবস্থান সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে ক্ষোভের জন্ম দেয়। সামগ্রিকভাবে দেশে তখন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সামরিক অস্থিরতা বিরাজ করছিল।
২ নভেম্বর: জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি
নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে তিনজন মুক্তিযোদ্ধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় উঠে আসেন। তাঁরা হলেন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ এবং সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু তাহের।
জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান হওয়ার পর খালেদ মোশাররফের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল বলে মেজর জেনারেল (অব.) মইনুল হোসেন চৌধুরী তাঁর এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সেনাবাহিনীর ভেতরে নানা গুজব ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে ২ নভেম্বর রাতে খালেদ মোশাররফ অভ্যুত্থান ঘটান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঢাকার ৪৬ ব্রিগেডের কমান্ডার কর্নেল শাফায়াত জামিল।
অভ্যুত্থানের পর সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে তাঁর বাসভবনে সস্ত্রীক গৃহবন্দি করা হয়। একই সঙ্গে তাঁকে সেনাপ্রধানের পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। পরদিন ৩ নভেম্বর ভোরে অভ্যুত্থানের সমর্থনে ঢাকার আকাশে যুদ্ধবিমান মহড়া দেয়।
১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে জড়িত কর্মকর্তাদের দেশত্যাগের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও এ সময় আলোচনায় আসে। লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ তাঁর জাসদের উত্থান পতন: অস্থির সময়ের রাজনীতি গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, জেনারেল ওসমানীর মধ্যস্থতায় সমঝোতার ভিত্তিতে মেজর রশিদ, ফারুক, ডালিমসহ ১৫ জনকে বিশেষ বিমানে ব্যাংকক যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ৩ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাঁরা ঢাকা ত্যাগ করেন বলে বইটিতে উল্লেখ রয়েছে।
৩ নভেম্বর: জেলহত্যার মর্মান্তিক অধ্যায়
৩ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে যুক্ত হয় বাংলাদেশের ইতিহাসের আরেকটি কলঙ্কজনক অধ্যায়—জেলহত্যা। ১৫ আগস্টের পর গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগের চার জাতীয় নেতা—তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামান তখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।
৩ নভেম্বর রাতে কারাগারের ভেতরে তাঁদের হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে জড়িত সামরিক কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণ ও গ্রন্থে উঠে এসেছে। মেজর জেনারেল (অব.) মইনুল হোসেন চৌধুরীর বর্ণনাতেও এ হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ ও বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
একই দিনে খালেদ মোশাররফ সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৪ নভেম্বর ছাত্রলীগের উদ্যোগে ঢাকায় একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই মিছিলে খালেদ মোশাররফের ভাই আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ মোশাররফ ও তাঁদের মা অংশ নেন বলে বিভিন্ন বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর একটি অংশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
৪ নভেম্বর রাতে খন্দকার মোশতাক আহমদ রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং তাঁকে গৃহবন্দি করা হয়। ৬ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।
৬ নভেম্বরের রাত: পাল্টা অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি
খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অংশে অসন্তোষ আরও বাড়ে। বিশেষ করে জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করে সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা তাঁর অনুগত সেনাসদস্যদের ক্ষুব্ধ করে।
এই পরিস্থিতিতে ৬ নভেম্বর দিবাগত রাতে পাল্টা অভ্যুত্থান শুরু হয়। এতে সেনাবাহিনীর একাংশের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু তাহেরের অনুসারী ‘বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা’র সদস্যরাও অংশ নেন। সংগঠনটি জাসদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল এবং সেনাবাহিনীর ভেতরে তাদের একটি গোপন সাংগঠনিক তৎপরতা ছিল।
তাহেরের রাজনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে জাসদের বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের ধারণা যুক্ত ছিল। প্রচলিত সেনাবাহিনীর কাঠামো পরিবর্তন করে বিপ্লবী ধারার সামরিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার চিন্তাও তাঁর অনুসারীদের মধ্যে ছিল বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে উঠে এসেছে।
সেই সময় সেনানিবাসে সৈনিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে দিতে লিফলেট বিতরণ করা হয়। কর্মকর্তাদের কর্তৃত্বের বিরোধিতা করে বিভিন্ন স্লোগানও দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল, ‘সিপাহী সিপাহী ভাই ভাই, অফিসারদের রক্ত চাই’ এবং ‘সিপাহী সিপাহী ভাই ভাই, সুবেদারের ওপরে অফিসার নাই’।
৭ নভেম্বর: মুক্ত জিয়াউর রহমান, বদলে যায় পরিস্থিতি
৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল জিয়াউর রহমানের মুক্তি। বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ৬ নভেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটের দিকে দ্বিতীয় ফিল্ড আর্টিলারির সদস্যরা মেজর মহিউদ্দিন ও সুবেদার মেজর আনিসুল হকের নেতৃত্বে জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করেন। পরে তাঁকে দ্বিতীয় ফিল্ড আর্টিলারির সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর কিছুক্ষণ পর সেখানে উপস্থিত হন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আবু তাহের। তিনি জিয়াউর রহমানকে সেনানিবাসের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। তবে জিয়াউর রহমান সে প্রস্তাবে সম্মত হননি। তাহেরের রাজনৈতিক পরিকল্পনা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টিও তখন আলোচনায় ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন। তবে পাল্টা অভ্যুত্থানের সময় সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা হত্যার শিকার হন। ফলে ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ শুধু জিয়াউর রহমানের মুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এর সঙ্গে যুক্ত হয় সামরিক বাহিনীর ভেতরে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও ক্ষমতার নতুন সমীকরণ।
তাহেরের পরিকল্পনা, জিয়ার অবস্থান
৭ নভেম্বরের ঘটনা নিয়ে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মধ্যে বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। একটি ব্যাখ্যায় বলা হয়, জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করার পর সেনাবাহিনীর ভেতরে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, সেটিই পাল্টা অভ্যুত্থানের তাৎক্ষণিক ভিত্তি তৈরি করে। অন্যদিকে জাসদ ও বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার অংশগ্রহণের পেছনে ছিল সেনাবাহিনীর প্রচলিত কাঠামো বদলে রাজনৈতিক আদর্শভিত্তিক নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা।
জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা ও সামরিক বাহিনীর একটি বড় অংশের সমর্থন তাঁকে এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসে। আবু তাহেরের পরিকল্পনার সঙ্গে তাঁর অবস্থানের পার্থক্যও দ্রুত স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর প্রচলিত শৃঙ্খলা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নেন। অন্যদিকে তাহেরের অনুসারীরা সামরিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছিলেন।
ফলে ৭ নভেম্বরের পর সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রশ্নে জিয়াউর রহমান ক্রমেই কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন। অন্যদিকে আবু তাহেরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরবর্তী সময়ে তাহের গ্রেপ্তার হন এবং সামরিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি হন। ১৯৭৬ সালে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ইতিহাসের বাঁকে ৭ নভেম্বর
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে একক কোনো ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ করা কঠিন। একদিকে এটি ছিল সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, অন্যদিকে সৈনিকদের ক্ষোভ, রাজনৈতিক সংগঠনের তৎপরতা এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরস্পরবিরোধী পরিকল্পনার সংঘাত। এসবের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থানের পথ তৈরি হয়।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা এবং ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক সংকটে তাঁর অবস্থান তাঁকে দেশের রাজনীতিতে প্রভাবশালী করে তোলে। ৭ নভেম্বরের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে তিনি সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বিস্তার করেন।
তবে ৭ নভেম্বরের মূল্যায়ন আজও রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিতর্কের বিষয়। কারও কাছে দিনটি সিপাহি-জনতার ঐক্য ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক, আবার কারও কাছে এটি সামরিক অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতার অংশ। ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য তাই ঘটনাগুলোর সময়ক্রম, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্দেশ্য এবং সমসাময়িক দলিল ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ পাশাপাশি বিবেচনা করা জরুরি।





















