ঢাকা ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কারাগারের জায়গায় খালেদা জিয়ার নামে বিশ্বমানের পার্ক পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক প্রতীক, ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ফের ছাপা হচ্ছে বই হাসপাতালে ঢুকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার নতুন পে-স্কেলের চাপ সামলাতে ব্যাংকঋণে সরকার ফরেনসিক প্রমাণ ছাড়াই ঢালাও দণ্ডাদেশ: আইনের শাসন ও বিচারিক স্বচ্ছতার সংকট বিনিয়োগ আকর্ষণে বিধিবিধান সহজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-কক্সবাজার ট্রেনে সর্বনিম্ন ভাড়া ৬৮৫ টাকা ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক দেশের জন্য ভয়াবহ: ইসলামী আন্দোলন পবিপ্রবিতে পরিবহন সংকট নিরসনে ১ নভেম্বর থেকে চলবে দুটি ডাবল ডেকার বাস স্কুলের বাথরুমে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, আত্মগোপনে শিক্ষক

পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক প্রতীক, ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ফের ছাপা হচ্ছে বই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক দলের প্রতীক ব্যবহারের বিতর্কে এবার নতুন করে ছাপানো হচ্ছে ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বই। ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করায় তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) এক কর্মকর্তাকে বদলি এবং পরবর্তী সময়ে আরও নয় কর্মকর্তার বদলির ঘটনা ঘটেছে। সব মিলিয়ে বই পুনর্মুদ্রণে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

প্রশ্ন উঠেছে, একাধিক কমিটি ও কর্মকর্তার যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রকাশিত একটি পাঠ্যবইয়ে কীভাবে রাজনৈতিক দলের প্রতীকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ছবি যুক্ত হলো? আর বইয়ের ছবি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে তা যথাযথভাবে তদারক করা হলো না কেন?

তিন বছরে বদলেছে প্রজ্ঞার প্রতীক

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি’ বইটি প্রথম চালু হয় ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে। বইটিতে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এই চারটি স্তরের ধারণা বোঝাতে একটি পিরামিডের চিত্র ব্যবহার করা হয়। ইংরেজিতে স্তরগুলো যথাক্রমে ডেটা, ইনফরমেশন, নলেজ ও উইজডম হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে উইজডম বা প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ছিল দাঁড়িপাল্লার ছবি।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে উইজডমের বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে ‘বুদ্ধি’ লেখা হয়। পাশাপাশি আইকন হিসেবে ব্যবহার করা হয় মানুষের অবয়বের ভেতরে পরমাণুর মডেলের ছবি।

কিন্তু ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার ‘বুদ্ধি’ পরিবর্তন করে ‘প্রজ্ঞা’ লেখা হয়। একই সঙ্গে আইকন হিসেবে যুক্ত করা হয় দাঁড়িপাল্লার ছবি। আর এ নিয়েই শুরু হয় নতুন বিতর্ক।

এনসিটিবির দাবি, কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে ছবি পরিবর্তনের বিষয়টি কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফখরুল মাওলা বলেন, ‘কারিকুলাম পরিবর্তন হয়নি। যদি হতো, তাহলে সেটার সঙ্গে কিছু ইলাস্ট্রেশন চেঞ্জ হতে পারতো। যেহেতু, কারিকুলাম পরিবর্তন হয়নি, ফলে সে জায়গায় কোথাও দাঁড়িপাল্লা ছিল কি না, অথবা সেটার থেকে বড় কথা হলো, যেহেতু আমরা ’২৬ সালের সংস্করণ পরিবর্তন করিনি, সেহেতু এটি আসার কথা ছিল না।’

অফিস আদেশে মিলেছে ভিন্ন তথ্য

তবে এনসিটিবির একটি অফিস আদেশে আইসিটি বইয়ের ছবি পেশাদার শিল্পীদের দিয়ে নতুন করে আঁকানোর সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ রয়েছে। এ কাজ তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জোবায়েরকে। বিতর্কের পর তাঁকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়।

আব্দুল্লাহ আল জোবায়েরের দাবি, একাডেমিক বিবেচনায় উইজডম বা প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা ভুল নয়। বইটি তৈরির সময় রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কোনো কিছু বিবেচনা করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘উইজডমের সিম্বল হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করাটা আসলে একাডেমিক অর্থে ভুল নয়। এটি কিন্তু একাডেমিক পেপারের একটি পার্ট। আর বইটি নিয়ে যখন আমরা কাজ করেছি, তখন আসলে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি মাথায় কাজ করেনি। এমন কোনো চিন্তাও আমাদের ছিল না।’

বইটি সংশোধন ও পরিমার্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বেসরকারি আইসিটি এডুকেশন ফাউন্ডেশনের প্রধান মজিবুর রহমানসহ আরও আটজনকে। অন্তত পাঁচটি ধাপে এনসিটিবির ২০ কর্মকর্তা এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের চূড়ান্ত মূল্যায়নের পরই বইটি ছাপানোর জন্য পাঠানো হয়।

আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের আরও বলেন, ‘যদি এটা ভুল হয়ে থাকে, তাহলে একেবারেই আমি ভুল করি নাই। কারণ, এটা পুরো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এসেছে। দিন শেষে, গেটকিপার হচ্ছে সম্পাদনা বিভাগ। তারা এটা দেখবেন এবং তারাই এটার জন্য দায়বদ্ধ।’

অনলাইন থেকে নেওয়া ছবিই কি বিতর্কের কারণ?

আইকন আঁকার দায়িত্বে ছিলেন সাইম আহাম্মেদ নামের এক শিল্পী। এনসিটিবির খণ্ডকালীন শিল্পী হিসেবে কাজ করা সাইম বইটির বিভিন্ন ছবি ও ইলাস্ট্রেশন তৈরি করেন।

সাইম জানান, অনলাইন থেকে তিনি জ্ঞানের পিরামিডের ছবিটি নিয়েছিলেন। সেই ছবিতেই প্রজ্ঞার আইকন হিসেবে দাঁড়িপাল্লা ছিল।

তিনি বলেন, ‘ইলাস্ট্রেশনের জন্য আমাকে এনসিটিবি থেকে ডাকা হয়। কিছু কাজ আগে থেকেই করা ছিল। সেগুলো একটু সংশোধন করতে হয়েছে। এ ছাড়া কিছু কাজ নতুন করে করতে হয়েছে। স্যাররা আমাদের যেভাবে গাইড করেছিলেন, আমরা সেভাবেই কাজগুলো করে সাবমিট করেছি।’

এ বক্তব্যে ছবি তৈরির প্রক্রিয়ায় শিল্পীর ভূমিকার পাশাপাশি নির্দেশনা, সম্পাদনা ও চূড়ান্ত অনুমোদনের দায়িত্ব কার ছিল, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

নৌকার ছবি নিয়েও প্রশ্ন

বিতর্ক শুধু ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের দাঁড়িপাল্লার ছবিতে সীমাবদ্ধ নেই। প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন অংশে নৌকার অন্তত ৮০টি ছবি থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

এ ছাড়া আগামী বছরের পাঠ্যবইয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবি রাখা নিয়েও আলোচনা চলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বলছেন, পাঠ্যবইয়ে কোনো প্রতীক বা ছবি থাকলেই তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে তার ব্যাখ্যা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টদের কাছে তাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, পাঠ্যবইয়ের ছবি নির্বাচন, সম্পাদনা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে। রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরপেক্ষ ও মানসম্মত পাঠ্যবই প্রকাশের দায়িত্ব এনসিটিবির। সেখানে তদারকির ঘাটতি থাকলে তার দায় শুধু একজন শিল্পী বা কর্মকর্তার ওপর চাপিয়ে দিলে পুরো প্রক্রিয়ার দুর্বলতা আড়ালেই থেকে যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক প্রতীক, ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ফের ছাপা হচ্ছে বই

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক দলের প্রতীক ব্যবহারের বিতর্কে এবার নতুন করে ছাপানো হচ্ছে ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বই। ‘প্রজ্ঞা’ বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করায় তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) এক কর্মকর্তাকে বদলি এবং পরবর্তী সময়ে আরও নয় কর্মকর্তার বদলির ঘটনা ঘটেছে। সব মিলিয়ে বই পুনর্মুদ্রণে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

প্রশ্ন উঠেছে, একাধিক কমিটি ও কর্মকর্তার যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রকাশিত একটি পাঠ্যবইয়ে কীভাবে রাজনৈতিক দলের প্রতীকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ছবি যুক্ত হলো? আর বইয়ের ছবি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে তা যথাযথভাবে তদারক করা হলো না কেন?

তিন বছরে বদলেছে প্রজ্ঞার প্রতীক

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি’ বইটি প্রথম চালু হয় ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে। বইটিতে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এই চারটি স্তরের ধারণা বোঝাতে একটি পিরামিডের চিত্র ব্যবহার করা হয়। ইংরেজিতে স্তরগুলো যথাক্রমে ডেটা, ইনফরমেশন, নলেজ ও উইজডম হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে উইজডম বা প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ছিল দাঁড়িপাল্লার ছবি।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে উইজডমের বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে ‘বুদ্ধি’ লেখা হয়। পাশাপাশি আইকন হিসেবে ব্যবহার করা হয় মানুষের অবয়বের ভেতরে পরমাণুর মডেলের ছবি।

কিন্তু ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার ‘বুদ্ধি’ পরিবর্তন করে ‘প্রজ্ঞা’ লেখা হয়। একই সঙ্গে আইকন হিসেবে যুক্ত করা হয় দাঁড়িপাল্লার ছবি। আর এ নিয়েই শুরু হয় নতুন বিতর্ক।

এনসিটিবির দাবি, কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে ছবি পরিবর্তনের বিষয়টি কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফখরুল মাওলা বলেন, ‘কারিকুলাম পরিবর্তন হয়নি। যদি হতো, তাহলে সেটার সঙ্গে কিছু ইলাস্ট্রেশন চেঞ্জ হতে পারতো। যেহেতু, কারিকুলাম পরিবর্তন হয়নি, ফলে সে জায়গায় কোথাও দাঁড়িপাল্লা ছিল কি না, অথবা সেটার থেকে বড় কথা হলো, যেহেতু আমরা ’২৬ সালের সংস্করণ পরিবর্তন করিনি, সেহেতু এটি আসার কথা ছিল না।’

অফিস আদেশে মিলেছে ভিন্ন তথ্য

তবে এনসিটিবির একটি অফিস আদেশে আইসিটি বইয়ের ছবি পেশাদার শিল্পীদের দিয়ে নতুন করে আঁকানোর সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ রয়েছে। এ কাজ তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জোবায়েরকে। বিতর্কের পর তাঁকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়।

আব্দুল্লাহ আল জোবায়েরের দাবি, একাডেমিক বিবেচনায় উইজডম বা প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা ভুল নয়। বইটি তৈরির সময় রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কোনো কিছু বিবেচনা করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘উইজডমের সিম্বল হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করাটা আসলে একাডেমিক অর্থে ভুল নয়। এটি কিন্তু একাডেমিক পেপারের একটি পার্ট। আর বইটি নিয়ে যখন আমরা কাজ করেছি, তখন আসলে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি মাথায় কাজ করেনি। এমন কোনো চিন্তাও আমাদের ছিল না।’

বইটি সংশোধন ও পরিমার্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বেসরকারি আইসিটি এডুকেশন ফাউন্ডেশনের প্রধান মজিবুর রহমানসহ আরও আটজনকে। অন্তত পাঁচটি ধাপে এনসিটিবির ২০ কর্মকর্তা এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের চূড়ান্ত মূল্যায়নের পরই বইটি ছাপানোর জন্য পাঠানো হয়।

আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের আরও বলেন, ‘যদি এটা ভুল হয়ে থাকে, তাহলে একেবারেই আমি ভুল করি নাই। কারণ, এটা পুরো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এসেছে। দিন শেষে, গেটকিপার হচ্ছে সম্পাদনা বিভাগ। তারা এটা দেখবেন এবং তারাই এটার জন্য দায়বদ্ধ।’

অনলাইন থেকে নেওয়া ছবিই কি বিতর্কের কারণ?

আইকন আঁকার দায়িত্বে ছিলেন সাইম আহাম্মেদ নামের এক শিল্পী। এনসিটিবির খণ্ডকালীন শিল্পী হিসেবে কাজ করা সাইম বইটির বিভিন্ন ছবি ও ইলাস্ট্রেশন তৈরি করেন।

সাইম জানান, অনলাইন থেকে তিনি জ্ঞানের পিরামিডের ছবিটি নিয়েছিলেন। সেই ছবিতেই প্রজ্ঞার আইকন হিসেবে দাঁড়িপাল্লা ছিল।

তিনি বলেন, ‘ইলাস্ট্রেশনের জন্য আমাকে এনসিটিবি থেকে ডাকা হয়। কিছু কাজ আগে থেকেই করা ছিল। সেগুলো একটু সংশোধন করতে হয়েছে। এ ছাড়া কিছু কাজ নতুন করে করতে হয়েছে। স্যাররা আমাদের যেভাবে গাইড করেছিলেন, আমরা সেভাবেই কাজগুলো করে সাবমিট করেছি।’

এ বক্তব্যে ছবি তৈরির প্রক্রিয়ায় শিল্পীর ভূমিকার পাশাপাশি নির্দেশনা, সম্পাদনা ও চূড়ান্ত অনুমোদনের দায়িত্ব কার ছিল, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

নৌকার ছবি নিয়েও প্রশ্ন

বিতর্ক শুধু ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের দাঁড়িপাল্লার ছবিতে সীমাবদ্ধ নেই। প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন অংশে নৌকার অন্তত ৮০টি ছবি থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

এ ছাড়া আগামী বছরের পাঠ্যবইয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবি রাখা নিয়েও আলোচনা চলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বলছেন, পাঠ্যবইয়ে কোনো প্রতীক বা ছবি থাকলেই তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে তার ব্যাখ্যা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টদের কাছে তাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, পাঠ্যবইয়ের ছবি নির্বাচন, সম্পাদনা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে। রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরপেক্ষ ও মানসম্মত পাঠ্যবই প্রকাশের দায়িত্ব এনসিটিবির। সেখানে তদারকির ঘাটতি থাকলে তার দায় শুধু একজন শিল্পী বা কর্মকর্তার ওপর চাপিয়ে দিলে পুরো প্রক্রিয়ার দুর্বলতা আড়ালেই থেকে যেতে পারে।