৫০ হাজার টাকার বন্ডে জামিন, শান্তিভঙ্গ না করার মুচলেকায় মুক্ত ককরোচ-প্রধান

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
ভারতের দিল্লিতে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজীত দিপকে। শান্তিভঙ্গ করবেন না—এমন মুচলেকায় সই এবং ৫০ হাজার টাকার বন্ড দেওয়ার শর্তে শনিবার বিকেলে মন্দির মার্গ থানা থেকে মুক্তি পান তিনি।
শুক্রবার ‘তেরঙা যাত্রা’য় যোগ দিতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তাকে আটক করে পুলিশ। পরে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শনিবার তাকে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে জামিন মঞ্জুর করা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ ও ১৭০ ধারায় দিপকেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পুলিশের বক্তব্য, শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সংহিতার ১৭০ ধারা অনুযায়ী, কোনো অপরাধ সংঘটন ঠেকাতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তারের সুযোগ রয়েছে পুলিশের।
দিপকের পাশাপাশি শুক্রবার আটক করা হয়েছিল অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা বোরাকেও। শনিবার সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে দিপকেকে দিনভর আটক রাখার পর গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
দুই নেতার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কর্মসূচি
সিজেপির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আগেই গ্রেপ্তার করেছিল দিল্লি পুলিশ। গত সোমবার তেরঙা হাতে গেট টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রাজধানীর তিনটি নির্দিষ্ট স্থানকে কর্মসূচির জন্য নির্ধারণ করেছিল পুলিশ।
বর্তমানে সৌরভ ও আশুতোষ তিহার জেলে রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে যন্তর মন্তরের কাছে কনট প্লেসে ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির ডাক দেন দিপকে।
কর্মসূচিতে যোগ দিতে বের হওয়ার আগেই দিপকের দিল্লির বাসভবন ঘিরে ফেলে পুলিশ। তিনি তখন এনসিপি (শরদ পাওয়ার) মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্দের বাড়িতে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে করোল বাগের বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়।
‘তেরঙা নিয়ে হাঁটা কীভাবে অপরাধ?’
দিপককে আটকের পর সিজেপির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রশ্ন তোলা হয়, দলের প্রধানকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা জানানো হচ্ছে না কেন। দলটির প্রশ্ন ছিল, ‘তেরঙা নিয়ে হাঁটা কীভাবে অপরাধ হয়?’
আটক হওয়ার আগে দিপকেও বলতে শোনা যায়, তিনি একা ছিলেন এবং আইন ভাঙেননি—তাহলে তাকে কেন আটক করা হচ্ছে? পরে হাতে তেরঙা নিয়েই তাকে পুলিশের গাড়িতে উঠতে দেখা যায়।
আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর শান্তিভঙ্গ না করার মুচলেকায় সই করে মুক্তি পান দিপকে। তবে তার বিরুদ্ধে পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপ এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে বিরোধের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।























