ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পূজায় সরকারি দপ্তর বন্ধ, চালু পোশাক কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৪:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটির আমেজ থাকলেও তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য থাকছে না আলাদা সাধারণ ছুটি। রফতানিমুখী পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিকেরা। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকেরা পূজার ছুটি পাবেন, যা সমন্বয় করা হবে তাঁদের নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি থেকে।

তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নেতারা এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, দুর্গাপূজা উপলক্ষে কারখানায় আলাদা করে সাধারণ ছুটি দেওয়ার পরিকল্পনা নেই।

সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ছুটি ও অন্যান্য সরকারি ছুটি মিলিয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন ছুটি থাকবে। এ সময়ে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

গত ৭ অক্টোবর দুর্গাপূজার ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এরপর গত ১২ অক্টোবর বেসরকারি খাতের ছুটি নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয়, বেসরকারি শিল্পকারখানা ও প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটির বিষয়ে শ্রম আইন অনুসারে মালিক ও শ্রমিকপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।

পোশাক কারখানায় কেন আলাদা ছুটি নেই

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, বছরের শুরুতে ট্রেড ইউনিয়ন অথবা অংশগ্রহণ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিটি তৈরি পোশাক কারখানায় ১৩ দিনের ছুটির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

এ তালিকায় দুই ঈদে তিন দিন করে মোট ছয় দিনের ছুটি ছাড়াও মে দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন উৎসব ও দিবসের ছুটি থাকে। সাধারণত এ তালিকায় দুর্গাপূজার ছুটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকেরা পূজার ছুটি নিলে তা তাঁদের নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি থেকে সমন্বয় করা হয়।


দুর্গাপূজার ছুটি নিয়ে গত বুধবার সদস্য কারখানাগুলোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছে বিজিএমইএ। এতে শ্রম আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত উৎসব ছুটির নিয়ম অনুসরণ করে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিজিএমইএর ছুটি নিয়ে বিভ্রান্তি

সরকারি ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গত ৮ অক্টোবর বিজিএমইএর ঢাকা ও চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সংগঠনটির কার্যালয়ের এই ছুটিকে কিছু গণমাধ্যম তৈরি পোশাক কারখানায় টানা তিন দিনের ছুটি হিসেবে প্রচার করে। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

পরে বিজিএমইএর সভাপতি জানান, ২২ অক্টোবরের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ সংগঠনটির কার্যালয়ের ছুটির সিদ্ধান্তকে পোশাক কারখানার সাধারণ ছুটি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

উৎসবের ছুটি নিয়ে শ্রমিকনেতার আপত্তি

সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকদের পূজার ছুটি নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি থেকে সমন্বয় করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন শ্রমিকনেতা বাবুল আক্তার। বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার বলেন, শ্রমিকদের নিজস্ব ছুটি থেকে কেটে নেওয়া হলে সেটিকে প্রকৃত অর্থে উৎসবের ছুটি বলা যায় না।

তাঁর মতে, উৎসব উপলক্ষে ছুটি পেলেও শ্রমিকদের নিয়মিত ছুটির হিসাব থেকে তা সমন্বয় করা হলে সেই ছুটির স্বতন্ত্র মর্যাদা থাকে না।

সব মিলিয়ে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে টানা ছুটির ব্যবস্থা থাকলেও তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন চালু রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। আর সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকদের ছুটি কীভাবে দেওয়া হবে, সে ক্ষেত্রে কারখানাগুলোকে শ্রম আইন ও নির্ধারিত ছুটির বিধান অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের সংগঠনগুলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পূজায় সরকারি দপ্তর বন্ধ, চালু পোশাক কারখানা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৪:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটির আমেজ থাকলেও তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য থাকছে না আলাদা সাধারণ ছুটি। রফতানিমুখী পোশাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিকেরা। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকেরা পূজার ছুটি পাবেন, যা সমন্বয় করা হবে তাঁদের নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি থেকে।

তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নেতারা এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, দুর্গাপূজা উপলক্ষে কারখানায় আলাদা করে সাধারণ ছুটি দেওয়ার পরিকল্পনা নেই।

সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ছুটি ও অন্যান্য সরকারি ছুটি মিলিয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন ছুটি থাকবে। এ সময়ে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

গত ৭ অক্টোবর দুর্গাপূজার ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এরপর গত ১২ অক্টোবর বেসরকারি খাতের ছুটি নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয়, বেসরকারি শিল্পকারখানা ও প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটির বিষয়ে শ্রম আইন অনুসারে মালিক ও শ্রমিকপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে।

পোশাক কারখানায় কেন আলাদা ছুটি নেই

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, বছরের শুরুতে ট্রেড ইউনিয়ন অথবা অংশগ্রহণ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিটি তৈরি পোশাক কারখানায় ১৩ দিনের ছুটির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

এ তালিকায় দুই ঈদে তিন দিন করে মোট ছয় দিনের ছুটি ছাড়াও মে দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন উৎসব ও দিবসের ছুটি থাকে। সাধারণত এ তালিকায় দুর্গাপূজার ছুটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকেরা পূজার ছুটি নিলে তা তাঁদের নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি থেকে সমন্বয় করা হয়।


দুর্গাপূজার ছুটি নিয়ে গত বুধবার সদস্য কারখানাগুলোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছে বিজিএমইএ। এতে শ্রম আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত উৎসব ছুটির নিয়ম অনুসরণ করে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিজিএমইএর ছুটি নিয়ে বিভ্রান্তি

সরকারি ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গত ৮ অক্টোবর বিজিএমইএর ঢাকা ও চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সংগঠনটির কার্যালয়ের এই ছুটিকে কিছু গণমাধ্যম তৈরি পোশাক কারখানায় টানা তিন দিনের ছুটি হিসেবে প্রচার করে। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

পরে বিজিএমইএর সভাপতি জানান, ২২ অক্টোবরের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ সংগঠনটির কার্যালয়ের ছুটির সিদ্ধান্তকে পোশাক কারখানার সাধারণ ছুটি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

উৎসবের ছুটি নিয়ে শ্রমিকনেতার আপত্তি

সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকদের পূজার ছুটি নৈমিত্তিক বা অর্জিত ছুটি থেকে সমন্বয় করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন শ্রমিকনেতা বাবুল আক্তার। বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার বলেন, শ্রমিকদের নিজস্ব ছুটি থেকে কেটে নেওয়া হলে সেটিকে প্রকৃত অর্থে উৎসবের ছুটি বলা যায় না।

তাঁর মতে, উৎসব উপলক্ষে ছুটি পেলেও শ্রমিকদের নিয়মিত ছুটির হিসাব থেকে তা সমন্বয় করা হলে সেই ছুটির স্বতন্ত্র মর্যাদা থাকে না।

সব মিলিয়ে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে টানা ছুটির ব্যবস্থা থাকলেও তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন চালু রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। আর সনাতন ধর্মাবলম্বী শ্রমিকদের ছুটি কীভাবে দেওয়া হবে, সে ক্ষেত্রে কারখানাগুলোকে শ্রম আইন ও নির্ধারিত ছুটির বিধান অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের সংগঠনগুলো।