আগাছানাশক প্রয়োগে ৫৪ শতক জমির ধান নষ্ট, কৃষকের আর্তনাদ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪৪:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় পূর্ব শত্রুতা ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আগাছানাশক প্রয়োগ করে এক কৃষকের ৫৪ শতক জমির ধানক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চেয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় হাসিবুল ইসলাম (৩৮),হরমুজ আলী (৪০) ও তাদের পিতা আব্দুল হকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন ভুক্তভোগী কৃষক আবুল হোসেনের ছেলে আশরাফ আলী।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী আশরাফ আলী ও আবুল হোসেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের চিমনজোত গ্রামের বাসিন্দা। অপরদিকে অভিযুক্তরা একই ইউনিয়নের দক্ষিণ দর্জিপাড়ার বাসিন্দা।
সরেজমিনে চিমনজোত এলাকায় ধানক্ষেতে গিয়ে আগাছানাশক দিয়ে ধানক্ষেত নষ্ট হওয়ার চিত্র দেখা যায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর চিমনজোত এলাকার হাসিবুল ইসলাম, হরমুজ আলী ও তাদের বাবা আব্দুল হক। আবুল হোসেনের ভোগদখলে থাকা ৫৪ শতক জমির ধানখেতে আগাছানাশক ‘রাউন্ডআপ’ প্রয়োগ করেন। পরদিন ১০ অক্টোবর সকালে জমিতে গিয়ে ফসল নষ্ট হওয়ার বিষয়টি দেখতে পান তারা। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউপি সদস্য হারুন অর রশিদকে বিষয়টি দেখান। আগাছানাশক কীটনাশক প্রয়োগের পর থেকে তাঁর কষ্টার্জিত মৌসুমি ধানের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানান।
এদিকে স্থানীয়রাও অভিযুক্তদের ঘটনার দিন সন্ধ্যার আগে অভিযুক্তদের ওই এলাকায় দেখতে পান বলে জানান।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান,গত ৮-৯ মাস ধরে দর্জিপাড়া মৌজার জমি নিয়ে হাসিবুল, হরমুজ ও তাদের বাবা আব্দুল হকের সঙ্গে বিরোধ চলছিল ভুক্তভোগীর। বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে বিচারপ্রার্থী হন। কিন্তু সালিশি সিদ্ধান্তের পরও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি এবং তাঁকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান তারা।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, ভুক্তভোগী জমির পাশে আমার জমি। ধানক্ষেত দেখতে এসে অভিযুক্ত হাসিবুল ও হরমুজ আলীদের স্প্রে মেশিন নিয়ে জমিতে যেতে দেখেছেন বলে দাবি করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে আরেকজন জানান, আমি ক্ষেতে হাল চাষের কাজ করি। বিষয়টি জানার পর আমি সেদিন সন্ধ্যায় তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারে বিষয়টি নিয়ে হাসিবুলের কাছে জানতে চাইলে অভিযুক্তরা জমির ফসল নষ্ট করার কথা বলেন এবং ভবিষ্যতে আরও জমির ফসল ও চা-বাগান নষ্ট করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী বৃদ্ধ আবুল হোসেন বলেন,আমি ধার-দেনা করে জমিতে ধান চাষ করেছি। কিন্তু হঠাৎ হাসিবুল, তার ভাই হরমুজ ও তার বাবা রাতের আঁধারে আমার ধানখেতে কীটনাশক দিয়ে নষ্ট করেছে। আমার যে জমি নিয়ে বিরোধ, সেটাতেও দিয়েছে, আবার যে জমি নিয়ে বিরোধ নেই, সেই জমির ধানক্ষেতও নষ্ট করেছে। আমি তাদের বিচার চাই।
আব্দুল হোসেনের ছেলে আশরাফ আলী বলেন, আমার বাবাসহ আমরা দুই ভাই এই জমিতে চাষাবাদ করে চলতাম। কিন্তু রাতের আঁধারে ভূমিদস্যু হাসিবুল, তার ভাই ও বাবা আমাদের ধানক্ষেত নষ্ট করে দিয়ে আমাদের আজকে পথে বসিয়েছে। আমি থানায় ও স্থানীয়দের কাছে অভিযোগ ও বিচার দিয়েছি। এর আগেও অভিযুক্তরা এলাকার বিভিন্ন মানুষের ফসল ধ্বংস ও জমি দখল করেছে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের বাড়ি ও মুঠোফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত হাসিবুল ও হরমুজের মা বলেন, এই কাজ আমরা করিনি। তারাই নষ্ট করে এখন আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হারুন অর রশিদ ধানক্ষেত নষ্টের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেসময় স্থানীয় অনেক লোক উপস্থিত ছিলেন।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান জানান, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে।এছাড়াও এর আগে হাসিবুল ইসলামসহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে এলাকার বিভিন্ন মানুষের জমি দখল ও ফসল নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
























