ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবিতে সরকারের পাশে থাকার আশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিক্ষকদের সক্ষমতা ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের যেকোনো যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবির পাশে সরকার থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, বিগত সরকারের সময়ে দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও অবসর ভাতা বকেয়া ছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই এ বকেয়া পরিশোধে ২ হাজার কোটি টাকার ব্যবস্থা করেছেন। সেই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও শিক্ষকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সরকারের সক্ষমতা ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন প্রস্তাব ও দাবিও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।

শিক্ষকদের মর্যাদা বাড়ানোর বিষয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, আগে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হতো। বর্তমান সরকার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে শতাধিক করেছে। আগামীতে সম্মাননার পরিধি আরও বাড়ানো হবে।

বিগত সরকারের সময়ে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জোগানোর পাশাপাশি হামলা-মামলার শিকার হওয়া শিক্ষকদের উপযুক্ত মূল্যায়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরি, আন্তর্জাতিক টিচার এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম এবং ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তার ভাষ্য, দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা পর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে হবে। রাষ্ট্রের রূপান্তর ও উন্নয়নে শিক্ষক সমাজ অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে শিক্ষকদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন মাহ্দী আমিন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান—ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পর্বে শিক্ষক-কর্মচারীরা দেশ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

অতীতে অনেক শিক্ষক পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, কাঙ্ক্ষিত পদ পাননি এবং জেল-জুলুম ও মামলার শিকার হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, আজকের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পেছনে শিক্ষক সমাজের দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রাম রয়েছে।

শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের কথাও জানান মাহ্দী আমিন।

তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে শিক্ষাবান্ধব সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করা হবে।

সমাবেশে বিএনপির শাসনামলে শিক্ষা খাতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা—বিভিন্ন পর্যায়ে বিএনপি সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছিল।

দেশব্যাপী স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণের মতো উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া শিক্ষকদের অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এমপিও ব্যবস্থা চালু, এনটিআরসিএ গঠন এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বিএনপি সরকারের সময়ে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন মাহ্দী আমিন।

শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা অংশ নেন। বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদসহ অনেকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবিতে সরকারের পাশে থাকার আশ্বাস

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষকদের সক্ষমতা ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের যেকোনো যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবির পাশে সরকার থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত শিক্ষক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, বিগত সরকারের সময়ে দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও অবসর ভাতা বকেয়া ছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই এ বকেয়া পরিশোধে ২ হাজার কোটি টাকার ব্যবস্থা করেছেন। সেই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও শিক্ষকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সরকারের সক্ষমতা ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন প্রস্তাব ও দাবিও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।

শিক্ষকদের মর্যাদা বাড়ানোর বিষয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, আগে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হতো। বর্তমান সরকার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে শতাধিক করেছে। আগামীতে সম্মাননার পরিধি আরও বাড়ানো হবে।

বিগত সরকারের সময়ে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জোগানোর পাশাপাশি হামলা-মামলার শিকার হওয়া শিক্ষকদের উপযুক্ত মূল্যায়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরি, আন্তর্জাতিক টিচার এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম এবং ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তার ভাষ্য, দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা পর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে হবে। রাষ্ট্রের রূপান্তর ও উন্নয়নে শিক্ষক সমাজ অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে শিক্ষকদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন মাহ্দী আমিন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান—ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পর্বে শিক্ষক-কর্মচারীরা দেশ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

অতীতে অনেক শিক্ষক পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, কাঙ্ক্ষিত পদ পাননি এবং জেল-জুলুম ও মামলার শিকার হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, আজকের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পেছনে শিক্ষক সমাজের দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রাম রয়েছে।

শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের কথাও জানান মাহ্দী আমিন।

তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে শিক্ষাবান্ধব সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করা হবে।

সমাবেশে বিএনপির শাসনামলে শিক্ষা খাতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, কারিগরি, মাদ্রাসা, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা—বিভিন্ন পর্যায়ে বিএনপি সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছিল।

দেশব্যাপী স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়ন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণের মতো উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া শিক্ষকদের অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এমপিও ব্যবস্থা চালু, এনটিআরসিএ গঠন এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বিএনপি সরকারের সময়ে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন মাহ্দী আমিন।

শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা অংশ নেন। বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদসহ অনেকে।