ঢাকা ১২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চটা আদায় করতে চায় বাংলাদেশ। ভারতের কাছ থেকে ন্যায্য হিস্যা পাওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনার টেবিলে এগোবে সরকার—এমনটাই জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেছেন, পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের জনগণের সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষাও আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, পানি ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও নিয়মিত সংলাপ প্রয়োজন।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। এখন ওই কমিটিতে ভারতীয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নাম চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা ভারতের কাছে নাম চেয়েছি, যাতে আমাদের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে সংলাপ ও আলোচনা শুরু করতে পারেন। এখন আমাদের তাদের জবাবের অপেক্ষা করতে হবে।”

ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তাঁর প্রত্যাশা, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে ভারতের জবাব পাওয়া যেতে পারে। এরপর দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা শুরু হলে পরবর্তী দফার পানি চুক্তি নবায়নের পথও এগিয়ে যাবে।

পানি ভাগাভাগির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান বাংলাদেশের আলোচনার অন্যতম ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ ন্যায্য হিস্যা চায়। আলোচনার টেবিলে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি এবং দেশের জনগণের সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষা।

অর্থাৎ পানি বণ্টনের আলোচনায় শুধু দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা নয়, আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে চায় ঢাকা।

দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে সহযোগিতার মানসিকতা থাকলে পানি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তাঁর মতে, কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমেই পানি ভাগাভাগিসহ দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধান করতে হবে।

এখন ভারতের জবাব এবং এরপর শুরু হতে যাওয়া আলোচনার দিকেই নজর বাংলাদেশের। কারণ সেই আলোচনাতেই নির্ধারিত হতে পারে পানি বণ্টনে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যার দাবিকে কতটা বাস্তব ফলাফলে নেওয়া যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভারতের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

পানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চটা আদায় করতে চায় বাংলাদেশ। ভারতের কাছ থেকে ন্যায্য হিস্যা পাওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনার টেবিলে এগোবে সরকার—এমনটাই জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেছেন, পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের জনগণের সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষাও আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, পানি ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও নিয়মিত সংলাপ প্রয়োজন।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। এখন ওই কমিটিতে ভারতীয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নাম চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা ভারতের কাছে নাম চেয়েছি, যাতে আমাদের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে সংলাপ ও আলোচনা শুরু করতে পারেন। এখন আমাদের তাদের জবাবের অপেক্ষা করতে হবে।”

ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তাঁর প্রত্যাশা, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে ভারতের জবাব পাওয়া যেতে পারে। এরপর দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা শুরু হলে পরবর্তী দফার পানি চুক্তি নবায়নের পথও এগিয়ে যাবে।

পানি ভাগাভাগির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান বাংলাদেশের আলোচনার অন্যতম ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ ন্যায্য হিস্যা চায়। আলোচনার টেবিলে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি এবং দেশের জনগণের সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষা।

অর্থাৎ পানি বণ্টনের আলোচনায় শুধু দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা নয়, আন্তর্জাতিক আইনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে চায় ঢাকা।

দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে সহযোগিতার মানসিকতা থাকলে পানি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তাঁর মতে, কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমেই পানি ভাগাভাগিসহ দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধান করতে হবে।

এখন ভারতের জবাব এবং এরপর শুরু হতে যাওয়া আলোচনার দিকেই নজর বাংলাদেশের। কারণ সেই আলোচনাতেই নির্ধারিত হতে পারে পানি বণ্টনে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যার দাবিকে কতটা বাস্তব ফলাফলে নেওয়া যায়।