ঢাকা ০৫:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেসরকারি শিক্ষকদের জাতীয়করণ হবেই :মীর শাহে আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ আজ হোক, কাল হোক, হবেই।

বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর ) সকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, পেনশন ও মান-মর্যাদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবিও বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই অর্থে প্রতিষ্ঠানের ছাদে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করা যাবে।

তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ছুটির দিন ও অতিরিক্ত সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করা সম্ভব হবে। এতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবে।বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষা বাজেট তিন গুণ এবং স্বাস্থ্য বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদার গুরুত্ব তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, ‘শিক্ষকই একমাত্র পেশা, যা পৃথিবীর অন্য সব পেশার জন্ম দেয়।’ শিক্ষকদের সমাজের মূল চালিকাশক্তি ও গণতন্ত্রের বার্তাবাহক উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন যেকোনো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে কাজ করছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবসরে যাওয়া প্রায় এক লাখ শিক্ষক-শিক্ষিকার ভাতা পরিশোধে ইতোমধ্যে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।

জাতীয়করণের দাবির বিষয়ে শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ জন্য বছরে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। শিক্ষকরা সুশৃঙ্খল ও বৃহৎ পরিসরে জাতীয় সমাবেশ করে মানবিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের দাবি তুলে ধরলে সরকার বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যতদিন পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গভাবে জাতীয়করণ না হচ্ছে, ততদিন শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আইনি বা নীতিগত কোনো বাধা নেই।

সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়া সংসদ সদস্য ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বেসরকারি শিক্ষকদের জাতীয়করণ হবেই :মীর শাহে আলম

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:১৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ আজ হোক, কাল হোক, হবেই।

বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর ) সকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, পেনশন ও মান-মর্যাদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবিও বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই অর্থে প্রতিষ্ঠানের ছাদে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করা যাবে।

তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ছুটির দিন ও অতিরিক্ত সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করা সম্ভব হবে। এতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবে।বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষা বাজেট তিন গুণ এবং স্বাস্থ্য বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদার গুরুত্ব তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, ‘শিক্ষকই একমাত্র পেশা, যা পৃথিবীর অন্য সব পেশার জন্ম দেয়।’ শিক্ষকদের সমাজের মূল চালিকাশক্তি ও গণতন্ত্রের বার্তাবাহক উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন যেকোনো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে কাজ করছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবসরে যাওয়া প্রায় এক লাখ শিক্ষক-শিক্ষিকার ভাতা পরিশোধে ইতোমধ্যে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।

জাতীয়করণের দাবির বিষয়ে শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ জন্য বছরে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। শিক্ষকরা সুশৃঙ্খল ও বৃহৎ পরিসরে জাতীয় সমাবেশ করে মানবিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের দাবি তুলে ধরলে সরকার বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যতদিন পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গভাবে জাতীয়করণ না হচ্ছে, ততদিন শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আইনি বা নীতিগত কোনো বাধা নেই।

সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়া সংসদ সদস্য ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।