ঢাকা ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

চোখের জলে শেষ মেসি অধ্যায়, গোল-অ্যাসিস্টে নীল-সাদা জার্সিকে বিদায়

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনটা আসবেই—জানতেন সবাই। তবু যখন সত্যিই এলো, মন যেন মানতে চাইল না। আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামলেন লিওনেল মেসি। আর বিদায়ের মঞ্চটাও রাঙালেন নিজের চেনা জাদুতে—একটি গোল, একটি অ্যাসিস্ট; বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ হলো আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের এক অবিস্মরণীয় রাত।

বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল সেদিন যেন ফুটবল মাঠ ছিল না। ৮৫ হাজার দর্শকের সামনে আয়োজন হয়েছিল এক কিংবদন্তির বিদায়। কান্না, উল্লাস, স্মৃতি আর ভালোবাসায় পুরো স্টেডিয়াম হয়ে উঠেছিল মেসিময়।

জাতীয় সংগীতেই আবেগ সামলাতে পারলেন না মেসি

ম্যাচ শুরুর আগেই আবেগে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। জাতীয় সংগীতের সময় চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মেসি। সামনে ছিলেন তাঁর তিন সন্তান—থিয়াগো, মাতেও ও সিরো। গ্যালারিজুড়ে তখন একটাই ধ্বনি—‘ওলে ওলে মেসি’।

মাঠের মাঝখানে মেলে ধরা হয় বিশাল একটি জার্সি, তাতে লেখা—‘গ্রাসিয়াস ১০’। বেনিনের খেলোয়াড়রাও আর্জেন্টিনা অধিনায়কের হাতে তুলে দেন স্মারক।

মেসির পাশে ছিলেন মা সেলিয়া, স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো ও তিন সন্তান। ছিলেন না শুধু বাবা জর্জ। মেসির ফুটবল জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানুষটির অনুপস্থিতি বিদায়ের আবেগকে আরও গভীর করে তোলে।

১০ মিনিটেই থামল ম্যাচ, শ্রদ্ধায় দাঁড়াল পুরো স্টেডিয়াম

ম্যাচ শুরু হতেই নিজের ছন্দে দেখা দেন মেসি। ১০ মিনিটের মাথায় খেলা থামিয়ে দেওয়া হয়। গ্যালারির হাজারো দর্শক দাঁড়িয়ে করতালিতে সম্মান জানান আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে।

প্রথমার্ধে অবশ্য গোলের দেখা মেলেনি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে যেন অপেক্ষার সব হিসাব মিটিয়ে দিলেন মেসি।

কর্নার থেকে গোল, পাস থেকে গোল—শেষেও মেসি

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মেসির নেওয়া কর্নার থেকে গোল করেন নিকোলাস ওটামেন্ডি। ৩৮ বছর বয়সি এই ডিফেন্ডারের জন্যও ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে বিদায়ের ম্যাচ।

এরপর ৬১ মিনিটে মেসির নিখুঁত পাস থেকে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটি করেন নিকো পাজ। মেসির পাস থেকে পাজের সেই গোল যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—বয়স বাড়লেও তাঁর পায়ের জাদু ফুরোয়নি।

শেষ মুহূর্তে নিজের নামেই শেষ স্বাক্ষর

এরপর এলো সেই বহুল প্রতীক্ষিত মুহূর্ত।

৭১ মিনিটে পেনাল্টি। স্পট-কিক নিতে এগিয়ে এলেন মেসি। বল জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ল মনুমেন্টাল। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি তাঁর ১২৬তম গোল।

একটি গোল। একটি অ্যাসিস্ট। ৩-০ জয়।

কিংবদন্তির বিদায়ের চিত্রনাট্যে যেন এর চেয়ে সুন্দর সমাপ্তি আর হয় না।

বিশ্বজয় থেকে বিদায়—মেসি থাকবেন আর্জেন্টিনার ইতিহাসে

বিশ্বকাপ জয়, কোপা আমেরিকার শিরোপা—আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির অর্জনের তালিকা দীর্ঘ। কিন্তু পরিসংখ্যানের বাইরেও তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো কোটি মানুষের ভালোবাসা।

নতুন প্রজন্মের নিকো পাজ, জুলিয়ান আলভারেজদের হাতে এখন দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সময়। কিন্তু মেসির শূন্যতা পূরণ করা যে সহজ নয়, তাঁর শেষ ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তই যেন সেটাই বলে গেল।

নীল-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠ ছাড়লেন তিনি। চোখে জল, গ্যালারিতে ‘মেসি’ ধ্বনি আর চারপাশে অগণিত স্মৃতি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

চোখের জলে শেষ মেসি অধ্যায়, গোল-অ্যাসিস্টে নীল-সাদা জার্সিকে বিদায়

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

দিনটা আসবেই—জানতেন সবাই। তবু যখন সত্যিই এলো, মন যেন মানতে চাইল না। আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামলেন লিওনেল মেসি। আর বিদায়ের মঞ্চটাও রাঙালেন নিজের চেনা জাদুতে—একটি গোল, একটি অ্যাসিস্ট; বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ হলো আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের এক অবিস্মরণীয় রাত।

বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল সেদিন যেন ফুটবল মাঠ ছিল না। ৮৫ হাজার দর্শকের সামনে আয়োজন হয়েছিল এক কিংবদন্তির বিদায়। কান্না, উল্লাস, স্মৃতি আর ভালোবাসায় পুরো স্টেডিয়াম হয়ে উঠেছিল মেসিময়।

জাতীয় সংগীতেই আবেগ সামলাতে পারলেন না মেসি

ম্যাচ শুরুর আগেই আবেগে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। জাতীয় সংগীতের সময় চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মেসি। সামনে ছিলেন তাঁর তিন সন্তান—থিয়াগো, মাতেও ও সিরো। গ্যালারিজুড়ে তখন একটাই ধ্বনি—‘ওলে ওলে মেসি’।

মাঠের মাঝখানে মেলে ধরা হয় বিশাল একটি জার্সি, তাতে লেখা—‘গ্রাসিয়াস ১০’। বেনিনের খেলোয়াড়রাও আর্জেন্টিনা অধিনায়কের হাতে তুলে দেন স্মারক।

মেসির পাশে ছিলেন মা সেলিয়া, স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো ও তিন সন্তান। ছিলেন না শুধু বাবা জর্জ। মেসির ফুটবল জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানুষটির অনুপস্থিতি বিদায়ের আবেগকে আরও গভীর করে তোলে।

১০ মিনিটেই থামল ম্যাচ, শ্রদ্ধায় দাঁড়াল পুরো স্টেডিয়াম

ম্যাচ শুরু হতেই নিজের ছন্দে দেখা দেন মেসি। ১০ মিনিটের মাথায় খেলা থামিয়ে দেওয়া হয়। গ্যালারির হাজারো দর্শক দাঁড়িয়ে করতালিতে সম্মান জানান আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে।

প্রথমার্ধে অবশ্য গোলের দেখা মেলেনি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে যেন অপেক্ষার সব হিসাব মিটিয়ে দিলেন মেসি।

কর্নার থেকে গোল, পাস থেকে গোল—শেষেও মেসি

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মেসির নেওয়া কর্নার থেকে গোল করেন নিকোলাস ওটামেন্ডি। ৩৮ বছর বয়সি এই ডিফেন্ডারের জন্যও ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে বিদায়ের ম্যাচ।

এরপর ৬১ মিনিটে মেসির নিখুঁত পাস থেকে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটি করেন নিকো পাজ। মেসির পাস থেকে পাজের সেই গোল যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—বয়স বাড়লেও তাঁর পায়ের জাদু ফুরোয়নি।

শেষ মুহূর্তে নিজের নামেই শেষ স্বাক্ষর

এরপর এলো সেই বহুল প্রতীক্ষিত মুহূর্ত।

৭১ মিনিটে পেনাল্টি। স্পট-কিক নিতে এগিয়ে এলেন মেসি। বল জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ল মনুমেন্টাল। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি তাঁর ১২৬তম গোল।

একটি গোল। একটি অ্যাসিস্ট। ৩-০ জয়।

কিংবদন্তির বিদায়ের চিত্রনাট্যে যেন এর চেয়ে সুন্দর সমাপ্তি আর হয় না।

বিশ্বজয় থেকে বিদায়—মেসি থাকবেন আর্জেন্টিনার ইতিহাসে

বিশ্বকাপ জয়, কোপা আমেরিকার শিরোপা—আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির অর্জনের তালিকা দীর্ঘ। কিন্তু পরিসংখ্যানের বাইরেও তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো কোটি মানুষের ভালোবাসা।

নতুন প্রজন্মের নিকো পাজ, জুলিয়ান আলভারেজদের হাতে এখন দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সময়। কিন্তু মেসির শূন্যতা পূরণ করা যে সহজ নয়, তাঁর শেষ ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তই যেন সেটাই বলে গেল।

নীল-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠ ছাড়লেন তিনি। চোখে জল, গ্যালারিতে ‘মেসি’ ধ্বনি আর চারপাশে অগণিত স্মৃতি।