৫০৭ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল, বরখাস্ত জিএম; গ্রাহককে ফোন করে মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
এক মাসে মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। অথচ সেই গ্রাহকের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল! এমন অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারকে (জিএম) তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
একই সঙ্গে ভুক্তভোগী গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের মঘি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুন নামের ওই গ্রাহকের চলতি সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিলের কপি থেকে জানা যায়, তার মোট বিল ধরা হয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।
২৩৫ ইউনিটের বিল ৫০৭ কোটি!
বিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ আগস্ট ওই গ্রাহকের মিটারের রিডিং ছিল ১৬০ ইউনিট। এক মাস পর ৮ সেপ্টেম্বর রিডিং দাঁড়ায় ৩৯৫ ইউনিটে। অর্থাৎ এক মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে মাত্র ২৩৫ ইউনিট।
কিন্তু ওই ২৩৫ ইউনিট ব্যবহারের বিপরীতে বিলের ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট যোগ করে মোট বিল দাঁড় করানো হয় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।
আর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব জরিমানাসহ বিলের পরিমাণ বেড়ে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা হবে বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়।
অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য ওই গ্রাহকের প্রকৃত বিল হওয়ার কথা মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব জরিমানাসহ এর পরিমাণ দাঁড়ানোর কথা ২ হাজার ৫৬ টাকা।
তদন্তের আগেই ব্যবস্থা
অস্বাভাবিক এই বিলের বিষয়টি সামনে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এত কম বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে কীভাবে শত শত কোটি টাকার বিল তৈরি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঘটনার পর মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।
অস্বাভাবিক বিলের কারণ কী এবং কীভাবে এমন বিল তৈরি হলো, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার অপেক্ষা রয়েছে।





















