মানিকগঞ্জে একই ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রী ও দেড় মাসের শিশুর মরদেহ উদ্ধার

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:০২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জান্নাকান্দি এলাকায় একটি ঘর থেকে প্রবাসফেরত এক ব্যক্তি, তাঁর স্ত্রী ও দেড় মাস বয়সী কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহী জান্নাকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ওই এলাকার নুরুল হকের ছেলে আকরাম হোসেন (৪০), তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২২) এবং তাঁদের দেড় মাস বয়সী কন্যাশিশু।
ঘরে গিয়ে তিনজনের মরদেহ দেখতে পান স্বজনেরা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকরাম হোসেন দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি দেশে ফেরেন। শনিবার দুপুরে পরিবারের সদস্যরা তাঁদের কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরে গিয়ে তিনজনের মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
আকরামের স্বজন মামুনুর রশিদ জানান, দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি ঘটনাটি জানতে পারেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।
তিনি ধারণা করছেন, পারিবারিক কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে আকরাম প্রথমে স্ত্রীকে আঘাত এবং পরে শিশুকে হত্যার পর আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
মামুনুর রশিদ আরও বলেন, আকরাম আগে দেশে ফিরলে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করতেন। কিন্তু এবার দেশে ফেরার পর তাঁকে তেমন বাইরে বের হতে দেখা যায়নি। তাঁর চলাফেরাও স্বাভাবিক মনে হয়নি।
স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন
প্রতিবেশী মোহাম্মদ আবুল হাশেম বলেন, আকরাম ও তাঁর দুই ভাই সৌদি আরবে থাকেন। তাঁদের জানামতে আকরাম ভালো মানুষ ছিলেন। তাঁর ঋণগ্রস্ততা বা আর্থিক সংকটের বিষয়েও তাঁরা কিছু জানতেন না।
তিনি বলেন, আকরাম একসময় দেশে অনেক কষ্ট করে কাজ করতেন। তবে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না।
স্থানীয়রা জানান, আকরাম ও প্রিয়াঙ্কার এটি দ্বিতীয় বিয়ে। তাঁদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তদন্ত করছে পুলিশ
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।
কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।





















