ভাইরাল ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন জামায়াত এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুর
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:২৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে মুখ খুলেছেন ভিডিওতে থাকা তরুণী ও তার বাবা। তারা দুজনই দাবি করেছেন, গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওই তরুণীর বৈধভাবে বিয়ে হয়েছে।
দ্য ডিসেন্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভিডিওতে থাকা তরুণীর নাম মরিয়ম খাতুন।
মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, গত ১৭ জুন তিন লাখ টাকা দেনমোহরে তার মেয়ের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তিনি বলেন, সেদিন তারা রাজধানীর মগবাজারে তার ব্যবসায়িক অফিসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ওই সময়ই ভিডিওটি ধারণ করা হয়। তার অভিযোগ, এ ঘটনায় তার শ্যালক ও অফিসের সহকারী ওবায়দুল্লাহ জড়িত।
মরিয়ম খাতুনও একই দাবি করে বলেন, “উনি আমার স্বামী। আমাদের বিয়ে হয়েছে। সেদিন ঘুরতে গিয়ে আমরা বাবার অফিসে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম।” তিনি আরও জানান, তিনি এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
এ বিষয়ে কালবেলাকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম তাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি আরও জানান, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এই বিয়ে হয়েছে। তবে ভিডিওটি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, তা দল খতিয়ে দেখছে।
দ্বিতীয় বিয়ের তারিখ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট তারিখ জানা না থাকলেও বেশ কিছুদিন আগে বিয়েটি হয়েছে বলে তারা জেনেছেন।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম এবং দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে মগবাজারে শ্বশুর মাসুম বিল্লাহর অফিসে যান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ বাইরে যাওয়ার পর কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করেন এবং পরে ভাড়ায় ব্যবহৃত গাড়িটি আটকে রেখে আরও কয়েক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গাজী নজরুল ইসলাম আরও দাবি করেন, শ্বশুরের সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বের পারিবারিক বিরোধ থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। পরে ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ওই ভিডিওকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা তার ভাষায় “সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
তবে ভিডিও ধারণ, অর্থ আদায় এবং ঘটনার অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বাধীন যাচাই বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।




















