ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আর্জেন্টিনা বাড়ির’ সামনে মেসির হ্যাটট্রিক উদ্‌যাপনে ভক্তদের উৎসব

সুজন কুমার মন্ডল, জয়পুরহাট
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৪১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জয়পুরহাট সদর উপজেলার মোহাম্মদাবাদ ইউনিয়নের আউশগাড়া গ্রামের একটি বাড়ি এখন স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘আর্জেন্টিনা বাড়ি’ নামে। আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে নীল-সাদা রঙে সাজানো এই বাড়ির মালিক মেহেদী হাসান। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকের পর বাড়িটির সামনে আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন শতাধিক ফুটবলপ্রেমী।

বুধবার সকাল থেকেই বাড়িটির সামনে জড়ো হতে থাকেন আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা। মেসির তিন গোলের উচ্ছ্বাসে সেখানে আয়োজন করা হয় ফুটবল খেলা, খাওয়াদাওয়া ও আনন্দ-আড্ডার। পুরো এলাকা যেন পরিণত হয় এক টুকরো আর্জেন্টিনায়।

২০০৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে পরিচিত মেহেদী হাসান। ২০২২ সালের বিশ্বকাপের সময় তিনি নিজের পুরো বাড়ি আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে রঙ করেছিলেন। এবারও সেই ভালোবাসা থেকেই নতুনভাবে সাজিয়েছেন বাড়িটি। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে আঁকা হয়েছে লিওনেল মেসির প্রতিকৃতি, যা পথচারীদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

মেহেদী হাসান বলেন, “মেসির হ্যাটট্রিক দেখে ভীষণ ভালো লেগেছে। এই আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতেই আয়োজন করেছি। গ্রামের আর্জেন্টিনা সমর্থকদের অর্ধশতাধিক জার্সি উপহার দিয়েছি। আজ সবাইকে নিয়ে খাবারেরও ব্যবস্থা করেছি।”

১৭ জুন সকালে দেখা যায়, বাড়ির প্রবেশপথে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উড়ছে। চারপাশে নীল-সাদা রঙের ছোঁয়া আর মেসির ছবি যেন বাড়িটিকে দিয়েছে ভিন্ন এক পরিচয়। খেলা শেষে স্থানীয় কিশোর ও তরুণরা বাড়ির সামনে ফুটবল খেলায় অংশ নেয়। মেহেদী নিজেও তাদের সঙ্গে মাঠে নেমে পড়েন।

স্থানীয় কিশোর রিতাফ আহম্মদ বলে, “মেসির তিন গোলের পর আমরা সবাই খুব আনন্দ করেছি। মেহেদী ভাইয়ের বাড়ি এখন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মিলনস্থল হয়ে গেছে।”

আরেক বাসিন্দা আনিছুর রহমান বলেন, “ফুটবলের প্রতি এমন ভালোবাসা সচরাচর দেখা যায় না। মেসির হ্যাটট্রিকের পর এখানে সত্যিই উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।”

বিশ্বকাপের শুরুতেই মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং জয়পুরহাটের এই ব্যতিক্রমী সমর্থনের গল্প এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। ফুটবলপ্রেমীদের মতে, এমন আয়োজন বিশ্বকাপ উন্মাদনাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

‘আর্জেন্টিনা বাড়ির’ সামনে মেসির হ্যাটট্রিক উদ্‌যাপনে ভক্তদের উৎসব

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৪১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

জয়পুরহাট সদর উপজেলার মোহাম্মদাবাদ ইউনিয়নের আউশগাড়া গ্রামের একটি বাড়ি এখন স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘আর্জেন্টিনা বাড়ি’ নামে। আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে নীল-সাদা রঙে সাজানো এই বাড়ির মালিক মেহেদী হাসান। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকের পর বাড়িটির সামনে আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন শতাধিক ফুটবলপ্রেমী।

বুধবার সকাল থেকেই বাড়িটির সামনে জড়ো হতে থাকেন আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা। মেসির তিন গোলের উচ্ছ্বাসে সেখানে আয়োজন করা হয় ফুটবল খেলা, খাওয়াদাওয়া ও আনন্দ-আড্ডার। পুরো এলাকা যেন পরিণত হয় এক টুকরো আর্জেন্টিনায়।

২০০৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে পরিচিত মেহেদী হাসান। ২০২২ সালের বিশ্বকাপের সময় তিনি নিজের পুরো বাড়ি আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে রঙ করেছিলেন। এবারও সেই ভালোবাসা থেকেই নতুনভাবে সাজিয়েছেন বাড়িটি। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে আঁকা হয়েছে লিওনেল মেসির প্রতিকৃতি, যা পথচারীদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

মেহেদী হাসান বলেন, “মেসির হ্যাটট্রিক দেখে ভীষণ ভালো লেগেছে। এই আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতেই আয়োজন করেছি। গ্রামের আর্জেন্টিনা সমর্থকদের অর্ধশতাধিক জার্সি উপহার দিয়েছি। আজ সবাইকে নিয়ে খাবারেরও ব্যবস্থা করেছি।”

১৭ জুন সকালে দেখা যায়, বাড়ির প্রবেশপথে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উড়ছে। চারপাশে নীল-সাদা রঙের ছোঁয়া আর মেসির ছবি যেন বাড়িটিকে দিয়েছে ভিন্ন এক পরিচয়। খেলা শেষে স্থানীয় কিশোর ও তরুণরা বাড়ির সামনে ফুটবল খেলায় অংশ নেয়। মেহেদী নিজেও তাদের সঙ্গে মাঠে নেমে পড়েন।

স্থানীয় কিশোর রিতাফ আহম্মদ বলে, “মেসির তিন গোলের পর আমরা সবাই খুব আনন্দ করেছি। মেহেদী ভাইয়ের বাড়ি এখন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মিলনস্থল হয়ে গেছে।”

আরেক বাসিন্দা আনিছুর রহমান বলেন, “ফুটবলের প্রতি এমন ভালোবাসা সচরাচর দেখা যায় না। মেসির হ্যাটট্রিকের পর এখানে সত্যিই উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।”

বিশ্বকাপের শুরুতেই মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং জয়পুরহাটের এই ব্যতিক্রমী সমর্থনের গল্প এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। ফুটবলপ্রেমীদের মতে, এমন আয়োজন বিশ্বকাপ উন্মাদনাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।