ঢাকা ০১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাঁচ খুনের পর রহস্যের মোড়: পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দেন আসামি ফোরকান

গাজীপুর প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রধান আসামি মো. ফোরকান মোল্লা হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন এ তথ্য জানান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক কলহ ও দীর্ঘদিনের দাম্পত্য অশান্তির জেরে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। নিহত শারমিন খানমের সঙ্গে ফোরকানের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় এবং তাদের তিন কন্যাসন্তান ছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধ বাড়তে থাকে।

প্রায় ছয় মাস আগে পরিবারটি গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউৎকোনা এলাকায় ভাড়া বাসায় ওঠে। ফোরকান পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন।

তদন্ত অনুযায়ী, ৮ মে রাতে ফোরকান তার শ্যালক রসুল মোল্লাকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে গোপালগঞ্জ থেকে বাসায় নিয়ে আসেন। এরপর ৮ মে রাত থেকে ৯ মে ভোরের মধ্যে পরিবারের সদস্যদের খাবারের সঙ্গে অচেতনকারী ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে ধারালো চাপাতি দিয়ে স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্যালককে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পর নিহত শারমিনের বাবা মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে। ফুটেজে দেখা যায়, ১১ মে সকাল ৬টা ৪২ মিনিটে এক ব্যক্তি সাদা প্রাইভেটকার থেকে নেমে কিছু সময় রেলিংয়ের পাশে অবস্থান করেন। পরে তিনি রেলিং টপকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন। পুলিশ ধারণা করছে, ওই ব্যক্তি ফোরকান মোল্লাই ছিলেন।

পুলিশের মতে, হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যার উদ্দেশ্যেই তিনি পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন। ইতোমধ্যে পদ্মা সেতু সংলগ্ন থানাগুলোতে বিষয়টি জানিয়ে বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং তার সন্ধানে অভিযান চলছে।

তবে এখনো পুরো ঘটনা তদন্তাধীন। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত সত্য পুরোপুরি উদঘাটন করা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পাঁচ খুনের পর রহস্যের মোড়: পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দেন আসামি ফোরকান

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রধান আসামি মো. ফোরকান মোল্লা হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন এ তথ্য জানান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক কলহ ও দীর্ঘদিনের দাম্পত্য অশান্তির জেরে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। নিহত শারমিন খানমের সঙ্গে ফোরকানের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় এবং তাদের তিন কন্যাসন্তান ছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধ বাড়তে থাকে।

প্রায় ছয় মাস আগে পরিবারটি গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউৎকোনা এলাকায় ভাড়া বাসায় ওঠে। ফোরকান পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন।

তদন্ত অনুযায়ী, ৮ মে রাতে ফোরকান তার শ্যালক রসুল মোল্লাকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে গোপালগঞ্জ থেকে বাসায় নিয়ে আসেন। এরপর ৮ মে রাত থেকে ৯ মে ভোরের মধ্যে পরিবারের সদস্যদের খাবারের সঙ্গে অচেতনকারী ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে ধারালো চাপাতি দিয়ে স্ত্রী, তিন কন্যা ও শ্যালককে হত্যা করা হয়।

ঘটনার পর নিহত শারমিনের বাবা মামলা দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে। ফুটেজে দেখা যায়, ১১ মে সকাল ৬টা ৪২ মিনিটে এক ব্যক্তি সাদা প্রাইভেটকার থেকে নেমে কিছু সময় রেলিংয়ের পাশে অবস্থান করেন। পরে তিনি রেলিং টপকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন। পুলিশ ধারণা করছে, ওই ব্যক্তি ফোরকান মোল্লাই ছিলেন।

পুলিশের মতে, হত্যাকাণ্ডের পর আত্মহত্যার উদ্দেশ্যেই তিনি পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন। ইতোমধ্যে পদ্মা সেতু সংলগ্ন থানাগুলোতে বিষয়টি জানিয়ে বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং তার সন্ধানে অভিযান চলছে।

তবে এখনো পুরো ঘটনা তদন্তাধীন। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত সত্য পুরোপুরি উদঘাটন করা যায়।