ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গরমে দমবন্ধ অবস্থা, ২৪ জেলায় তাপপ্রবাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকার রাস্তায় দুপুর মানেই এখন যেন আগুনের ওপর হাঁটা। বাতাস নেই, ছায়া নেই—শুধু গরমের দমবন্ধ করা চাপ। মানুষের শরীর নয়, যেন পুরো শহরটাই হাঁপাচ্ছে।

বুধবার দেশের তাপমাত্রা নতুন মাত্রা ছুঁয়েছে। রাজশাহী-তে পারদ উঠেছে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে—এই মৌসুমের সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে দেশের ২৪ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ, যা আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এই তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন যারা প্রতিদিন রোদেই জীবিকা খোঁজেন। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর—তাদের জন্য রোদ মানেই শুধু অস্বস্তি নয়, রীতিমতো সংগ্রাম।

ঢাকার এক রিকশাচালক বলছিলেন, “রোদে বের না হলে খাই কী? কিন্তু বের হলেই মনে হয় শরীর পুড়ে যাচ্ছে।”
আরেকজন পথচারীর কণ্ঠে ছিল একই ক্লান্তি—“ফ্যানের নিচেও বসে থাকা যায় না, গরম যেন থামছেই না।”

ঢাকা-তে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলেও, বাতাসে আর্দ্রতা বেশি হওয়ায় অনুভূত গরম আরও তীব্র। শরীরের ঘাম শুকাতে না পেরে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, এপ্রিল-মে মাসই বছরের সবচেয়ে উষ্ণ সময়। এই সময়ে মৃদু থেকে তীব্র—সব ধরনের তাপপ্রবাহই দেখা যেতে পারে।

গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে মানুষ ছুটছে লেকপাড়ে, গাছতলায়। কেউ পানি দিয়ে মুখ ধুচ্ছেন, কেউ নেমে পড়ছেন পানিতে। অল্প কিছু মুহূর্তের ঠান্ডা যেন আবার লড়াইয়ে ফেরার শক্তি জোগায়।

তবে বাস্তবতা হলো—এই গরম এড়ানোর সুযোগ সবার নেই। শহরের ব্যস্ত রাস্তায়, খোলা আকাশের নিচে, জীবিকার টানে প্রতিদিনই পুড়ছে মানুষ।


প্রশ্নটা তাই থেকেই যায়—এই তাপপ্রবাহ শুধু আবহাওয়ার, নাকি জীবনেরও এক কঠিন পরীক্ষা?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গরমে দমবন্ধ অবস্থা, ২৪ জেলায় তাপপ্রবাহ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকার রাস্তায় দুপুর মানেই এখন যেন আগুনের ওপর হাঁটা। বাতাস নেই, ছায়া নেই—শুধু গরমের দমবন্ধ করা চাপ। মানুষের শরীর নয়, যেন পুরো শহরটাই হাঁপাচ্ছে।

বুধবার দেশের তাপমাত্রা নতুন মাত্রা ছুঁয়েছে। রাজশাহী-তে পারদ উঠেছে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে—এই মৌসুমের সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে দেশের ২৪ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ, যা আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এই তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন যারা প্রতিদিন রোদেই জীবিকা খোঁজেন। রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর—তাদের জন্য রোদ মানেই শুধু অস্বস্তি নয়, রীতিমতো সংগ্রাম।

ঢাকার এক রিকশাচালক বলছিলেন, “রোদে বের না হলে খাই কী? কিন্তু বের হলেই মনে হয় শরীর পুড়ে যাচ্ছে।”
আরেকজন পথচারীর কণ্ঠে ছিল একই ক্লান্তি—“ফ্যানের নিচেও বসে থাকা যায় না, গরম যেন থামছেই না।”

ঢাকা-তে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলেও, বাতাসে আর্দ্রতা বেশি হওয়ায় অনুভূত গরম আরও তীব্র। শরীরের ঘাম শুকাতে না পেরে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, এপ্রিল-মে মাসই বছরের সবচেয়ে উষ্ণ সময়। এই সময়ে মৃদু থেকে তীব্র—সব ধরনের তাপপ্রবাহই দেখা যেতে পারে।

গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে মানুষ ছুটছে লেকপাড়ে, গাছতলায়। কেউ পানি দিয়ে মুখ ধুচ্ছেন, কেউ নেমে পড়ছেন পানিতে। অল্প কিছু মুহূর্তের ঠান্ডা যেন আবার লড়াইয়ে ফেরার শক্তি জোগায়।

তবে বাস্তবতা হলো—এই গরম এড়ানোর সুযোগ সবার নেই। শহরের ব্যস্ত রাস্তায়, খোলা আকাশের নিচে, জীবিকার টানে প্রতিদিনই পুড়ছে মানুষ।


প্রশ্নটা তাই থেকেই যায়—এই তাপপ্রবাহ শুধু আবহাওয়ার, নাকি জীবনেরও এক কঠিন পরীক্ষা?