ঢাকা ১০:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লেবুর জল কি সত্যিই কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি কমায়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনেকের দিন শুরু হয় খালি পেটে লেবুর জল দিয়ে। আবার খাবারের সঙ্গে পাতিলেবু খাওয়ার পরামর্শও দেন চিকিৎসকেরা। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ এই ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে—এটা জানা কথা। তবে নিয়মিত লেবুর জল খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমে কি না, সে প্রশ্নও উঠছে বারবার।

বর্তমানে কিডনিতে পাথর হওয়ার সমস্যা ছোট-বড় সব বয়সেই দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে ধরা পড়ায় অস্ত্রোপচার বা জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। একবার এই সমস্যা হলে বারবার হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই প্রতিরোধের উপায় খোঁজাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসকদের মতে, পর্যাপ্ত পানি পান করা কিডনি স্টোন প্রতিরোধের প্রধান উপায়। পাশাপাশি কিছু খাবার—যেমন বাদাম বা পালংশাক—পরিমিত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কিছু খাবার আবার ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে, যার মধ্যে লেবু অন্যতম।

গবেষণা বলছে, লেবুতে থাকা ‘সাইট্রেট’ নামের উপাদান কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই উপাদান ক্যালশিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এমন যৌগ তৈরি করে, যা পাথর গঠনে বাধা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লেবুর জল প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ায়, ফলে শরীর থেকে ক্ষতিকর খনিজ সহজে বেরিয়ে যায় এবং পাথর তৈরির সম্ভাবনা কমে।

এছাড়া, কম পানি পান করলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, যা পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত লেবুর জল পান করলে শরীরে পানির ঘাটতি কমে এবং প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে—যা পরোক্ষভাবে কিডনি সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

তবে সব ক্ষেত্রে লেবুর জল সমানভাবে কার্যকর—এমনটা নয়। ২০২১ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, টাটকা লেবুর রস কিছুটা হলেও ক্যালশিয়াম অক্সালেট ধরনের পাথর গঠনে বাধা দিতে পারে, যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শুধু লেবুর রসের উপর নির্ভর করলে চলবে না। পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই কিডনি স্টোন প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর।

এদিকে অতিরিক্ত লেবুর রস খাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এতে শরীরের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। যাদের অম্বল বা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত লেবুর রস ক্ষতিকরও হতে পারে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—লেবুর রস পাথর গঠনে কিছুটা বাধা দিলেও এটি কোনোভাবেই বড় পাথর গলাতে পারে না। তাই এটিকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং সতর্কতামূলক খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

লেবুর জল কি সত্যিই কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি কমায়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

অনেকের দিন শুরু হয় খালি পেটে লেবুর জল দিয়ে। আবার খাবারের সঙ্গে পাতিলেবু খাওয়ার পরামর্শও দেন চিকিৎসকেরা। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ এই ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে—এটা জানা কথা। তবে নিয়মিত লেবুর জল খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমে কি না, সে প্রশ্নও উঠছে বারবার।

বর্তমানে কিডনিতে পাথর হওয়ার সমস্যা ছোট-বড় সব বয়সেই দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে ধরা পড়ায় অস্ত্রোপচার বা জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। একবার এই সমস্যা হলে বারবার হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই প্রতিরোধের উপায় খোঁজাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসকদের মতে, পর্যাপ্ত পানি পান করা কিডনি স্টোন প্রতিরোধের প্রধান উপায়। পাশাপাশি কিছু খাবার—যেমন বাদাম বা পালংশাক—পরিমিত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কিছু খাবার আবার ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে, যার মধ্যে লেবু অন্যতম।

গবেষণা বলছে, লেবুতে থাকা ‘সাইট্রেট’ নামের উপাদান কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই উপাদান ক্যালশিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এমন যৌগ তৈরি করে, যা পাথর গঠনে বাধা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লেবুর জল প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ায়, ফলে শরীর থেকে ক্ষতিকর খনিজ সহজে বেরিয়ে যায় এবং পাথর তৈরির সম্ভাবনা কমে।

এছাড়া, কম পানি পান করলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, যা পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত লেবুর জল পান করলে শরীরে পানির ঘাটতি কমে এবং প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে—যা পরোক্ষভাবে কিডনি সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

তবে সব ক্ষেত্রে লেবুর জল সমানভাবে কার্যকর—এমনটা নয়। ২০২১ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, টাটকা লেবুর রস কিছুটা হলেও ক্যালশিয়াম অক্সালেট ধরনের পাথর গঠনে বাধা দিতে পারে, যদিও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শুধু লেবুর রসের উপর নির্ভর করলে চলবে না। পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই কিডনি স্টোন প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর।

এদিকে অতিরিক্ত লেবুর রস খাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এতে শরীরের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। যাদের অম্বল বা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত লেবুর রস ক্ষতিকরও হতে পারে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—লেবুর রস পাথর গঠনে কিছুটা বাধা দিলেও এটি কোনোভাবেই বড় পাথর গলাতে পারে না। তাই এটিকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং সতর্কতামূলক খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।