সবজিতে আগুন, তেলে সংকট—স্বস্তি শুধু মুরগির দামে
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
দেশের বাজারে কয়েক সপ্তাহ ধরে ভোজ্যতেলের সংকট চলছে। সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। এর মধ্যেই হঠাৎ চড়েছে সবজির দাম—হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজিই এখন ৮০ টাকার ওপরে।
রাজধানীর New Market Dhaka, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর ও মানিকনগরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বরবটি, শিম, বেগুন, করলা ও কচুর লতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁকরোলের দাম আরও বেশি—কেজি ১৪০ টাকা পর্যন্ত। ঝিঙে ও পটোল ৮০–১০০ টাকা, আর চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, ঢ্যাঁড়স ও শসা ৮০ টাকার নিচে মিলছে না। কাঁচা পেঁপে ৬০–৭০ টাকা, লাউ বা জালি কুমড়া ৮০ টাকা।
কম দামের সবজির তালিকায় রয়েছে মুলা, গাজর (৬০ টাকা কেজি), কাঁচকলা (হালি ৫০ টাকা), আর ফুলকপি, বাঁধাকপি ও টমেটো ৬০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচ আগের মতোই ১২০ টাকা কেজিতে স্থির।
ক্রেতাদের অভিযোগ, মাছ-মাংসের দাম বাড়লে তারা সবজির ওপর নির্ভর করেন, কিন্তু এখন সবজিও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এক ক্রেতা বলেন, “যেটাতেই হাত দেই ৮০–১০০ টাকা—সবজির বাজারেই পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে।”
বিক্রেতাদের ভাষ্য, মৌসুম না থাকায় সরবরাহ কমে গেছে। গত এক-দেড় সপ্তাহে কেজিপ্রতি সবজির দাম ২০–৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, ফলে পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
তবে সপ্তাহের একমাত্র স্বস্তি এসেছে মুরগির বাজারে। সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমে কেজিতে ৩৮০–৪০০ টাকায় নেমেছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ৪০০ টাকার ওপরে ছিল। ব্রয়লার মুরগি ১৯০–২০০ টাকায় স্থির আছে। ডিমের দামও অপরিবর্তিত—ডজনপ্রতি ১২০ টাকা।
এদিকে ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা কাটেনি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, Teer ও Rupchanda-এর মতো বড় ব্র্যান্ড বোতলজাত তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে Pusti থেকে কিছু তেল মিললেও তা চাহিদার তুলনায় কম, এবং বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
অন্যান্য নিত্যপণ্যের মধ্যে চিনি কেজি ১০০–১১০ টাকা, মসুর ডাল ১০০–১৬৫ টাকা, খোলা আটা ৪০–৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ ৩০–৪৫ টাকা কেজি।
ঈদের প্রায় এক মাস পর গরুর মাংসের দাম কিছুটা কমে ৭৫০ টাকায় নেমেছে, যদিও কোথাও কোথাও এখনো ৮০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, তেল সংকট ও সবজির চড়া দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে স্বস্তি এখনো অধরা।























