ঢাকা ১০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অনুমোদনহীন প্ল্যান্টে হেভি ক্রুড আমদানির অনুমতি চায় সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএসসি সংস্কারসহ ১৩ দফা দাবি শিবিরের, নিয়োগে দলীয় প্রভাব বন্ধের আহ্বান তেঁতুলিয়ায় ৬৪ শতক জমি নিয়ে পাল্টাপাল্টি দখলের অভিযোগ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ:ডাচ-বাংলার ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিতে অপেক্ষা ১০ বছর, কঠোর হচ্ছে অভিবাসন নীতি ৭ নভেম্বর উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী মহেশপুর সীমান্তের ধানক্ষেতে নারীর মরদেহ, পরিচয় মিলেছে যশোরে কাঁঠালিয়ায় অবৈধ ইটভাটার ১২০ ফুট চিমনি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন যশোরে শিশু-কিশোরদের ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্পে বড় বিনিয়োগ, ব্যয়ের চাপ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে

আজ ফুলবাড়ীর আঁখিরা গণহত্যা দিবস: ১৯৭১-এর বর্বরতার নির্মম স্মৃতি

আজিজুল হক সরকার,ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ২২২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজ ১৭ এপ্রিল, দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পালিত হচ্ছে আঁখিরা গণহত্যা দিবস—Bangladesh Liberation War-এর এক হৃদয়বিদারক অধ্যায়কে স্মরণ করার দিন।

১৯৭১ সালের এই দিনে উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের বারাইহাট এলাকায় আঁখিরা নামক পুকুরপাড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে প্রাণ হারান ভারতে আশ্রয় নিতে যাওয়া প্রায় দেড় শতাধিক নিরীহ নারী-পুরুষ ও শিশু।

বীর মুক্তিযোদ্ধা এছার উদ্দিন স্মৃতিচারণ করে জানান, তখন এলাকা ছিল ঘন জঙ্গলে ঘেরা। কুখ্যাত রাজাকার কেনান সরকারের সহযোগিতায় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন মানুষকে একত্রিত করে পাকিস্তানি সেনারা ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে। পরে মুক্তিযোদ্ধারা এসে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মরদেহ ও কঙ্কাল বিভিন্ন স্থানে সমাহিত করেন।

আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম জানান, ফুলবাড়ী, নবাবগঞ্জ, পার্বতীপুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৫০টি পরিবারের মানুষকে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও সোনা-গহনা লুট করে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সকাল ১১টার দিকে সবাইকে লাইনে দাঁড় করিয়ে স্টেনগান দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, পরে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা ওই রাজাকারকে হত্যা করে প্রতিশোধ নেন।

প্রতিবছর দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলেও এ বছর তেমন কোনো আয়োজন না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাসান বলেন, তিনি নতুন যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন; মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আঁখিরা গণহত্যা দিবস স্মরণ করিয়ে দেয় মুক্তিযুদ্ধের সেই নির্মম বাস্তবতা, যেখানে নিরীহ মানুষের জীবন বলি হয়েছিল স্বাধীনতার পথে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আজ ফুলবাড়ীর আঁখিরা গণহত্যা দিবস: ১৯৭১-এর বর্বরতার নির্মম স্মৃতি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

আজ ১৭ এপ্রিল, দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পালিত হচ্ছে আঁখিরা গণহত্যা দিবস—Bangladesh Liberation War-এর এক হৃদয়বিদারক অধ্যায়কে স্মরণ করার দিন।

১৯৭১ সালের এই দিনে উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের বারাইহাট এলাকায় আঁখিরা নামক পুকুরপাড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে প্রাণ হারান ভারতে আশ্রয় নিতে যাওয়া প্রায় দেড় শতাধিক নিরীহ নারী-পুরুষ ও শিশু।

বীর মুক্তিযোদ্ধা এছার উদ্দিন স্মৃতিচারণ করে জানান, তখন এলাকা ছিল ঘন জঙ্গলে ঘেরা। কুখ্যাত রাজাকার কেনান সরকারের সহযোগিতায় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন মানুষকে একত্রিত করে পাকিস্তানি সেনারা ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে। পরে মুক্তিযোদ্ধারা এসে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মরদেহ ও কঙ্কাল বিভিন্ন স্থানে সমাহিত করেন।

আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম জানান, ফুলবাড়ী, নবাবগঞ্জ, পার্বতীপুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৫০টি পরিবারের মানুষকে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও সোনা-গহনা লুট করে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সকাল ১১টার দিকে সবাইকে লাইনে দাঁড় করিয়ে স্টেনগান দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, পরে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা ওই রাজাকারকে হত্যা করে প্রতিশোধ নেন।

প্রতিবছর দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলেও এ বছর তেমন কোনো আয়োজন না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাসান বলেন, তিনি নতুন যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন; মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আঁখিরা গণহত্যা দিবস স্মরণ করিয়ে দেয় মুক্তিযুদ্ধের সেই নির্মম বাস্তবতা, যেখানে নিরীহ মানুষের জীবন বলি হয়েছিল স্বাধীনতার পথে।